📌 জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) উন্মোচন করেছে বিদেশি পণ্য আমদানিতে কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকির অপচেষ্টা। আটটি ঘটনায় মিথ্যা পণ্য ঘোষণা, অতিরিক্ত পণ্য আমদানি ও কন্টেইনার সিল পরিবর্তনের মাধ্যমে শুল্ক ফাঁকির চেষ্টা করা হয়েছিল
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি) ও চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে বিদেশি পণ্য আমদানিতে কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকির অপচেষ্টা। গত শনিবার (১৭ অক্টোবর ২০২৬) এনবিআর জানায়, আটটি ঘটনায় আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা মিথ্যা পণ্য ঘোষণা, অতিরিক্ত পণ্য আমদানি এবং কাস্টমসের লক করা কন্টেইনারের সিল পরিবর্তনের মাধ্যমে শুল্ক ফাঁকির চেষ্টা করেছিল।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **১১ হাজার ৯৫৬ কেজি পাওয়ার স্প্রেয়ার** ঘোষণা দিয়ে চীন থেকে আনুমানিক **২ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকির** চেষ্টা — প্রকৃত পণ্য ছিল **স্টেজ লাইট, ফেস ক্রিম, টুথপেস্ট, এলইডি লাইট** ইত্যাদি
- 📌 **২২ টন টুথপিক** ঘোষণা দিয়ে **পাকিস্তানের নিষিদ্ধ ক্রিম, সান ক্রিম, যৌন উত্তেজক স্প্রে** আমদানি — **২ কোটি ৮০ লাখ টাকার** শুল্ক ফাঁকির চেষ্টা
- 📌 **১৬ হাজার ৪০ কেজি ইঞ্জিন রবার বুশ** ঘোষণা দিয়ে **দামি মোটরযান যন্ত্রাংশ** আমদানি — **৪৪ লাখ টাকার** শুল্ক ফাঁকির তথ্য পাওয়া
- 📌 **২৩ হাজার ৬১৮ কেজি হিট ট্রান্সফার পেপার** ঘোষণা দিয়ে **উচ্চ শুল্কের পিভিসি ফ্লেক্স ব্যানার** আমদানি — **৪০ লাখ টাকার** শুল্ক ফাঁকির চেষ্টা
- 📌 **স্টেইনলেস স্টিল সার্কেল** ঘোষণা দিয়ে **২২ হাজার ১১৩ কেজি নাট-বল্টু, স্ক্রু** আমদানি — **৩২ লাখ টাকার** শুল্ক ফাঁকির তথ্য পাওয়া
- 📌 **কাস্টমস আইন, ২০২৩-এর ৩৩ ও ১৭১ ধারায়** আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে আমদানিকারক ও এজেন্টদের বিরুদ্ধে
- 📌 **চট্টগ্রাম বন্দরে গোপন পরীক্ষায়** মিথ্যা পণ্য ঘোষণা, অতিরিক্ত পণ্য আমদানি ও সিল পরিবর্তনের অপচেষ্টা উন্মোচিত
📰 বিস্তারিত
এনবিআর জানায়, গতকাল চট্টগ্রাম বন্দরে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আটটি কন্টেইনার খোলা হয়। এতে মিথ্যা পণ্য ঘোষণা, অতিরিক্ত পণ্য আমদানি এবং কন্টেইনার সিল পরিবর্তনের অপচেষ্টা উন্মোচিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, ঢাকার নিউমার্কেটের প্রতিষ্ঠান ফরচুন গ্লোবাল ট্রেডিং চীন থেকে ১১ হাজার ৯৫৬ কেজি পাওয়ার স্প্রেয়ার মেশিন আমদানির ঘোষণা দেয়। কিন্তু কন্টেইনার খুলে পাওয়া যায় স্টেজ লাইট, ফেস ক্রিম, টুথপেস্ট, পিলিং জেল, এলইডি লাইট, সানগ্লাস ও ব্ল্যাক হেয়ার শ্যাম্পু। ঘোষিত পণ্যের তুলনায় প্রায় ১ হাজার ৮১৭ কেজি অতিরিক্ত পণ্য পাওয়া যায়। এ ঘটনায় আনুমানিক আড়াই কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা করা হয়েছিল বলে জানানো হয়।
পুরান ঢাকার চকবাজারের কাফ করপোরেশনের একটি চালানে চীন থেকে সাড়ে ২২ টন টুথপিক আমদানির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তবে পরীক্ষায় টুথপিক পাওয়া যায় মাত্র ১ হাজার ৬২০ কেজি। বাকি পণ্যের মধ্যে ছিল পাকিস্তানের গোরি বিউটি ক্রিম, ফেস ক্রিম, সান ক্রিম, অ্যান্টি-এজিং জেল, হেয়ার রিমুভার স্প্রে, সানগ্লাস ও যৌন উত্তেজক ডিলে স্প্রে। এ চালানে বিএসটিআই কর্তৃক নিষিদ্ধ ক্রিমও পাওয়া যায়। এ ঘটনায় আনুমানিক ২ কোটি ৮০ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা হয়েছে বলে জানানো হয়।
এছাড়া ঢাকার এইচআর এন্টারপ্রাইজ থাইল্যান্ড থেকে ১৬ হাজার ৪০ কেজি ইঞ্জিন রবার বুশ আমদানির ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু প্রকৃত রবার বুশ পাওয়া যায় মাত্র ৬ হাজার ৬২৫ কেজি। বাকি পণ্যের মধ্যে ছিল ইঞ্জিন মাউন্টিং, সাসপেনশন বুশ, আর্ম বুশ, সেন্টার বিয়ারিং, স্প্রিং শ্যাকল ও স্টিয়ারিংয়ের মতো দামি মোটরযান যন্ত্রাংশ। এ ঘটনায় আনুমানিক ৪৪ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির তথ্য পাওয়া গেছে।
এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আল আমিন শেখ বলেন, "আমরা গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কন্টেইনার খুলে পরীক্ষা চালিয়েছি। এতে মিথ্যা পণ্য ঘোষণা, অতিরিক্ত পণ্য আমদানি এবং সিল পরিবর্তনের অপচেষ্টা উন্মোচিত হয়েছে। এসব ঘটনায় আমদানিকারক ও সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের বিরুদ্ধে কাস্টমস আইন, ২০২৩-এর ৩৩ ও ১৭১ ধারায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।"
"আমরা গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কন্টেইনার খুলে পরীক্ষা চালিয়েছি। এতে মিথ্যা পণ্য ঘোষণা, অতিরিক্ত পণ্য আমদানি এবং সিল পরিবর্তনের অপচেষ্টা উন্মোচিত হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম বন্দর, ঢাকা (নিউমার্কেট, চকবাজার, পুরান ঢাকা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. আল আমিন শেখ (এনবিআর জনসংযোগ কর্মকর্তা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা (শুল্ক ফাঁকির সর্বোচ্চ চেষ্টা), ১১ হাজার ৯৫৬ কেজি (পাওয়ার স্প্রেয়ার মেশিন), ২২ টন (টুথপিক)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!