📌 চট্টগ্রামের কর্ণফুলী ইপিজেডে ২০ বছরে বিনিয়োগ ৪১২ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বেপজার নির্বাহী পরিচালক আনোয়ার পারভেজ জানান, ২০০৬ সালে মাত্র ১.৯১ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ থেকে বর্তমানে ৭৮৭.৩৩ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। এছাড়াও, ১৪ হাজার ১৫৬ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৮০টি দেশে
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (কর্নফুলী ইপিজেড) ২০ বছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে। বেপজার নির্বাহী পরিচালক আনোয়ার পারভেজের তথ্য অনুযায়ী, এই বিশেষায়িত শিল্পাঞ্চলে বিনিয়োগ ৪১২ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০৬-০৭ অর্থবছরে মাত্র ১ দশমিক ৯১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ নিয়ে শুরু হওয়া এই প্রকল্প বর্তমানে ৭৮৭ দশমিক ৩৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের মোট বিনিয়োগে দাঁড়িয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০ বছরে কর্ণফুলী ইপিজেডে বিনিয়োগ ৪১২ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে — ১.৯১ মিলিয়ন ডলার থেকে ৭৮৭.৩৩ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত
- 📌 ২৫৮টি শিল্প প্লটে ৪০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান (২৯টি বিদেশি, ৩টি যৌথ, ৮টি স্থানীয়) এবং ৫টি কারখানার নির্মাণ কাজ চলছে
- 📌 ১৪টি দেশের (বাংলাদেশ, চীন, তাইওয়ান, হংকং, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, শ্রীলঙ্কা, জাপান, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, নেদারল্যান্ডস, মালয়েশিয়া) উদ্যোক্তারা বিনিয়োগ করেছেন
- 📌 ২০ বছরে মোট ১৪ হাজার ১৫৬ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৮০টি দেশে
- 📌 গত ৭ অর্থবছরে রপ্তানি আয় ১ হাজার ১৮ থেকে ১ হাজার ৪৪৮ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে
📰 বিস্তারিত
বেপজার নির্বাহী পরিচালক আনোয়ার পারভেজ জানান, কর্ণফুলী ইপিজেডের কার্যক্রম ২০০৬ সালে শুরু হয়। প্রথম বছরে (২০০৭-০৮) মাত্র ৯ দশমিক ৮৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছিল। তবে বর্তমানে এই অঞ্চলটি উচ্চমূল্যের ও বিশেষায়িত পণ্য উৎপাদনের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এখানে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি তাঁবু, ক্যাম্পিং সরঞ্জাম, বাইসাইকেল, চামড়াজাত পণ্য, আসবাবপত্র, ব্যাগ, ফ্যাশন পোশাক ও সেফটি স্যুট উৎপাদিত হয়। বিশ্বের খ্যাতনামা ব্র্যান্ডের জন্য এই পণ্যগুলো তৈরি করা হয়।
বেপজার নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, পণ্যের বহুমুখীকরণই এই অঞ্চলের প্রবৃদ্ধির মূল কারণ। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বমানের পণ্যের উৎপাদন এবং রপ্তানি আয়ের সিংহভাগই এসেছে এই বিশেষায়িত পণ্যগুলোর মাধ্যমে। কর্ণফুলী ইপিজেডের কারখানাগুলোতে উৎপাদিত পণ্য বিশ্বের প্রায় ৮০টি দেশে রপ্তানি হয়, যার মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো ছাড়াও ইইউর বাইরের দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাজার রয়েছে।
কর্নফুলী ইপিজেডের ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো, এটি চট্টগ্রাম স্টিল মিলস লিমিটেডের পরিত্যক্ত জমিতে গড়ে তোলা হয়েছিল। এই রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানটি ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর অব্যবস্থাপনার কারণে বন্ধ হয়ে যায়। তবে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের দূরদর্শী সিদ্ধান্তের ফলে এই এলাকায় নতুন করে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে আসে। ১৯৯৮ সালে কর্ণফুলী ইপিজেডের উদ্বোধন করা হয়, যা পতেঙ্গা শিল্পাঞ্চলের শিল্পায়নের নতুন যুগের সূচনা করে।
"পণ্যের বহুমুখীকরণই কর্ণফুলী ইপিজেডের এ উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধির অন্যতম কারণ। বিপুল রপ্তানি আয়ের সিংহভাগই এসেছে বিশ্বমানের পণ্যের বহুমুখীকরণের মাধ্যমে।" — মাহবুব আহমেদ সিদ্দিকী, বেপজার নির্বাহী পরিচালক
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রামের কর্ণফুলী ইপিজেড
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আনোয়ার পারভেজ, মাহবুব আহমেদ সিদ্দিকী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪১২ গুণ বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ৭৮৭.৩৩ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ, ১৪ হাজার ১৫৬ মিলিয়ন ডলার রপ্তানি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!