📌 নির্মাণ ইন্টারন্যাশনালের প্রতিষ্ঠাতা রাহাত কামাল বলেছেন, ‘প্রুফ ওভার প্রমিজ’ দর্শনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক ভবন, সেনাকল্যাণ ভবন ও ব্র্যাক সেন্টার নির্মাণ করে। টেকসই প্রযুক্তি ও গেটেড কমিউনিটির মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের আবাসন চাহিদা পূরণে উদ্যোগ নিচ্ছেন
নির্মাণ ব্র্যান্ডের পথচলা ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করলেও নির্মাণ ইন্টারন্যাশনালের প্রতিষ্ঠাতা রাহাত কামালের দৃষ্টি বর্তমান ও ভবিষ্যতের দিকে। তিনি বলেছেন, ‘প্রুফ ওভার প্রমিজ’ বা কাজের বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিশ্বাস তৈরি করার দর্শনই তাদের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। বাংলাদেশ ব্যাংক ভবন, সেনাকল্যাণ ভবন ও ব্র্যাক সেন্টারসহ দেশের বহু ঐতিহ্যবাহী প্রকল্পে এই দর্শনকে জীবন্ত রূপ দিয়েছেন তিনি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত নির্মাণ ইন্টারন্যাশনালের মূল দর্শন: ‘প্রুফ ওভার প্রমিজ’ — কাজের বাস্তবায়নেই বিশ্বাসের মূল
- 📌 গত ৫০ বছরে বাংলাদেশ ব্যাংক ভবন, সেনাকল্যাণ ভবন ও ব্র্যাক সেন্টারসহ দেশের বহু আইকনিক প্রকল্প নির্মাণ
- 📌 ‘মিরাই’ প্রকল্পে আন্তর্জাতিক লিড গোল্ড সনদ পাওয়ার লক্ষ্যে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার
- 📌 নির্মাণের গুণগত মান নিশ্চিত করতে বিআইএম প্রযুক্তি ও মান নিয়ন্ত্রণ টিমের ব্যবহার
- 📌 নতুন প্রজন্মের আবাসন চাহিদা পূরণে ১০-২০ বিঘা জমিতে গেটেড কমিউনিটি নির্মাণের পরিকল্পনা
- 📌 ঢাকা শহরের জমি সংকট দূর করতে সরকারকে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নিয়ন্ত্রণ সংস্থা হিসেবে ভূমিকা পালন করতে বলেছেন
📰 বিস্তারিত
১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত নির্মাণ ইন্টারন্যাশনালের প্রতিষ্ঠাতা রাহাত কামাল বলেছেন, ‘প্রুফ ওভার প্রমিজ’ বা কাজের বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিশ্বাস তৈরি করার দর্শনই তাদের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। তিনি জানান, ১৯৮৪-৮৫ সালের দিকে সেনাকল্যাণ ভবন নির্মাণের সময়ই তাদের বাবা কে জেড ইসলাম জাপান থেকে ফেয়ার-ফেস কনসালট্যান্ট নিয়ে এসেছিলেন। গুণগত মান ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে আবাসন ইন্ডাস্ট্রির চেয়ে অন্তত দুই ধাপ এগিয়ে থাকাই তাদের মূল ঐতিহ্য।
রাহাত কামাল বলেন, বর্তমানে তারা এমন আধুনিক স্থাপনা নির্মাণে গুরুত্ব দিচ্ছেন যা দীর্ঘস্থায়ী এবং সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব। উদাহরণস্বরূপ, ‘মিরাই’ প্রকল্পে তারা আন্তর্জাতিক লিড গোল্ড সনদ পাওয়ার লক্ষ্যে বাইরে থেকে তীব্র উত্তাপ ও কোলাহল কমানোর জন্য আধুনিক বিশেষ গ্লাস এবং বিদ্যুৎসাশ্রয়ী সেন্ট্রাল চিলার এসি প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন। পাশাপাশি প্রকল্পগুলোতে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ডব্লিউটিপি), সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের বিশ্বমানের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। এছাড়াও, বাতাসের চাপ সহ্য করার ক্ষমতা যাচাই করতে তারা ইতালিতে উইন্ড-টানেল টেস্টও করিয়েছেন।
নির্মাণের গুণগত মান নিশ্চিত করতে রাহাত কামালের প্রতিষ্ঠান ‘কম প্রতিশ্রুতি দেওয়া এবং বেশি নিশ্চত করার’ নীতিতে বিশ্বাসী। তিনি বলেন, গ্রাহককে যতটুকু প্রতিশ্রুতি প্রদান করা হয়, তার চেয়ে বেশি মানসম্পন্ন সার্ভিস দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। নির্মাণসাইটে রড বাঁধা থেকে শুরু করে শাটারিং বা ব্যবহৃত উপকরণের মান শতভাগ নিখুঁত না হওয়া পর্যন্ত পরবর্তী ধাপের কাজ শুরু হতে দেওয়া হয় না। পাশাপাশি, ভবন নির্মাণের সব স্তরে বিআইএম প্রযুক্তির সাহায্যে নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার আগেই ভবনের একটি ডিজিটাল প্রতিলিপি তৈরি করা হয়। এটি নির্মাণে নজর রাখার পরিবর্তে সম্ভাব্য বাধা ও সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধান করে।
নতুন প্রজন্মের আবাসন চাহিদা পূরণে রাহাত কামালের বিশেষ চিন্তাভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান যুগের কর্মজীবী তরুণ দম্পতিরা আগের চেয়ে অনেকটাই আলাদা চাহিদা রাখেন। কেবল অনেকগুলো বেডরুম পাওয়ার চেয়ে তারা ফ্ল্যাটে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস, শিশুদের জন্য নিরাপদ খেলার স্থান, সবুজ বাগান এবং উন্নত জিমনেসিয়ামের সুবিধা বেশি চান। তিনি বলেন, মানুষের জীবনের প্রায় ৯০ শতাংশ সময় অতিবাহিত হয় বাসগৃহ ও কর্মস্থলে। তাই এই জায়গাগুলোকে দৃষ্টিনন্দন, স্বাস্থ্যকর ও সতেজ রাখা জরুরি। ভবিষ্যতের পরিকল্পনা হলো ১০ থেকে ২০ বিঘা জমিতে সমন্বিত ‘গেটেড কমিউনিটি’ গড়ে তোলা, যেখানে একটি সুরক্ষিত সীমানার মধ্যেই খেলার মাঠ থেকে শুরু করে সব আধুনিক নাগরিক সুবিধা থাকবে।
দেশের আবাসন খাতের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ দূর করতে রাহাত কামাল সরকারের নীতিগত ভূমিকা সম্পর্কে বিশেষ পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ঢাকা শহরের বিশাল জনসংখ্যার তুলনায় জমির পরিমাণ সীমিত, তাই এখানে পরিকল্পিতভাবে উঁচু ভবন নির্মাণ করতেই হবে। তিনি দ্রুত ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার নিজে ভবন তৈরি না করে কেবল একটি নিয়মনীতি নির্ধারণকারী তদারকি সংস্থা হিসেবে কাজ করলে এই খাতের উন্নয়ন সহজ হবে। এছাড়াও, বড় জমি বরাদ্দ দিলে অভিজ্ঞ ডেভেলপাররা বিশ্বমানের টেকসই প্রকল্প তৈরি করে দিতে পারবে।
"আমাদের ব্যবসায়ের মূল দর্শন হলো ‘প্রুফ ওভার প্রমিজ’; অর্থাৎ ফাঁকা প্রতিশ্রুতির চেয়ে বাস্তব কাজের মাধ্যমে নিজেদের প্রমাণ করা।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ; জাপান; ইতালি
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রাহাত কামাল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০ বছর, ১৯৮৪-৮৫ সাল, ৯০ শতাংশ, ১০-২০ বিঘা জমি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!