📌 বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেছেন, নিত্যপণ্যের মূল্য সহনীয় রাখতে করকাঠামো পর্যালোচনা করা হবে এবং ট্রেসেবিলিটি ব্যবস্থা চালু করা হবে। ডিম, পোলট্রি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পণ্যগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বৈঠকে নিত্যপণ্যের আমদানি ও সরবরাহের ইতিবাচক পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির আজ সোমবার ঢাকার সচিবালয়ে নিত্যপণ্যের সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে অংশগ্রহণ করে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, নিত্যপণ্যের মূল্য সহনীয় রাখতে বিদ্যমান করকাঠামোর বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করা হবে। এছাড়াও, পণ্যের উৎপত্তি থেকে বিক্রয় পর্যন্ত ট্রেসেবিলিটি ব্যবস্থা চালু করার ঘোষণা দেন তিনি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 করকাঠামো পর্যালোচনা: নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে করকাঠামোর বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করা হবে
- 📌 ট্রেসেবিলিটি ব্যবস্থা চালু: পণ্যের উৎপত্তি থেকে বিক্রয় পর্যন্ত ট্রেসেবিলিটি ব্যবস্থা চালু করা হবে, বিশেষভাবে ডিম ও পোলট্রিসহ গুরুত্বপূর্ণ পণ্যগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে
- 📌 আমদানি ও সরবরাহের ইতিবাচক অবস্থা: গত বছরের তুলনায় মসুর ডালের আমদানি বেড়েছে ১ লাখ ৬ হাজার টন (৪২ হাজার থেকে ১ লাখ ৬ হাজার টন), তেলবীজের আমদানি বেড়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার টন (২ লাখ ৭৩ হাজার থেকে ৩ লাখ ৮৬ হাজার টন)
- 📌 বাজার নজরদারি জোরদার: জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে বাজার নজরদারি কার্যক্রম জোরদার করা হবে
- 📌 গ্যাস ও পরিবহনের প্রভাব: গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ও ঝড়-বৃষ্টির কারণে কিছু এলাকায় বাজারে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে, তবে শীতকালে নতুন সবজির আসার সম্ভাবনা রয়েছে
📰 বিস্তারিত
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেছেন, আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশও অর্থনৈতিক চাপ বহন করছে। তিনি বলেন, সরকার ভোক্তাদের ওপর পুরো চাপ একবারে না দিয়ে এর একটি অংশ বহন করলে তা রাষ্ট্রীয় অর্থব্যবস্থার ওপর পড়বে। তাই জ্বালানির দক্ষ ও সাশ্রয়ী ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, নিত্যপণ্যের বাজারে কোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে দেওয়া হবে না। যদি কেউ অযৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম বাড়ায় বা অতিরিক্ত মুনাফা করার চেষ্টা করে, সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
বৈঠকে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি) নিত্যপণ্যের চাহিদা, আমদানি, সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরেন। তারা জানান, গত বছরের তুলনায় নিত্যপণ্যের আমদানি ও ঋণপত্র খোলার পরিস্থিতি ইতিবাচক। বিশেষ করে মসুর ডালের চাহিদা প্রায় সাত লাখ টন, গত বছরের ১ জুলাই থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আমদানি হয়েছিল ৪২ হাজার টন। চলতি বছরের একই সময়ে আমদানি হয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার টন। তেলবীজের আমদানিও বেড়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার টন (২ লাখ ৭৩ হাজার থেকে ৩ লাখ ৮৬ হাজার টন)। দেশে বছরে চিনির চাহিদা প্রায় ২০ থেকে ২১ লাখ টন, যার মধ্যে শুধু রমজান মাসেই প্রায় ৩ লাখ টন চাহিদা তৈরি হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, শুধু রমজান মাসকে কেন্দ্র করে নয়, সারা বছর নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখাই সরকারের লক্ষ্য। তিনি ব্যবসায়ী সংগঠন, আমদানিকারক, উৎপাদক এবং সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, পণ্যের দামে দুই-চার টাকার অস্বাভাবিক ওঠানামা সাধারণ মানুষের মধ্যে বাজার নিয়ে আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে। তাই বাজার স্থিতিশীল রাখার পাশাপাশি মানুষের আস্থা ধরে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।
"আমদানিকারকদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করে মজুত, আমদানি ও সরবরাহ পরিস্থিতিও পর্যালোচনা করা হবে। বাজার নজরদারি বাড়াতে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে তদারক কার্যক্রম জোরদার করা হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: খন্দকার আবদুল মুক্তাদির (বাণিজ্যমন্ত্রী), মো. আতাউর রহমান খান (বাণিজ্যসচিব), নাসির উদ দৌলা (বিটিটিসি চেয়ারম্যান), মো. জহিরুল ইসলাম (মহাপরিচালক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ লাখ ৬ হাজার টন (মসুর ডাল), ৩ লাখ ৮৬ হাজার টন (তেলবীজ), ২০-২১ লাখ টন (চিনি), ৩ লাখ টন (রমজান মাসে চিনি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!