📌 চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিল না হলে বাংলাদেশ প্রতি বছর ৯২ মিলিয়ন ডলার রাজস্ব হারাবে এবং জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে। বিশেষজ্ঞ ও তরুণ সমাজের গবেষণা ও সতর্কবার্তা প্রকাশিত হয়েছে
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া অবিলম্বে বাতিল না করলে বাংলাদেশের রাজস্বে বছরে ৯২ মিলিয়ন ডলার ক্ষতি হবে এবং জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে। এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞ ও তরুণ সমাজের প্রতিনিধিরা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রাজস্ব ক্ষতি: বর্তমানে এনসিটি থেকে প্রতি বছর ১৪৮ মিলিয়ন ডলার আয় হয়, কিন্তু ডিপি ওয়ার্ল্ডের ইজারা মডেলে নিট আয় কমে যাবে ৫৬.৩ মিলিয়ন ডলারে — প্রতি বছর ৯২ মিলিয়ন ডলার রাজস্ব হারাবে বাংলাদেশ।
- 📌 অপারেশনাল ক্ষমতা: দেশীয় অপারেটররা বর্তমানে ১৩ লাখ ৮৫ হাজার টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডল করে থাকেন, কিন্তু ডিপি ওয়ার্ল্ডের লক্ষ্যমাত্রা মাত্র ১৩ লাখ ৭৫ হাজার টিইইউ — চার বছরে ১০ হাজার টিইইউ কমে যাবে।
- 📌 সার্বভৌমত্বের ঝুঁকি: বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সাবেক সহকারী প্রধান কমোডর জসীমউদ্দীন বলেছেন, চট্টগ্রাম বন্দরকে বিদেশি নিয়ন্ত্রণে দেওয়া হলে জাতীয় সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়বে।
- 📌 সরবরাহ ব্যবস্থার ঝুঁকি: পার্বত্য নিউজের সম্পাদক মেহেদী হাসান পলাশ বলেছেন, যুদ্ধ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিদেশি অপারেটর কার্যক্রম সীমিত করলে পুরো দেশের সরবরাহ ব্যবস্থা ধসে পড়তে পারে।
- 📌 দাবি: বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা বলেছেন, ইজারা প্রক্রিয়া অবিলম্বে বাতিল করে এনসিটি দেশীয় অপারেটরদের মাধ্যমে পরিচালনা করা উচিত এবং যেকোনো চুক্তির অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত মূল্যায়ন জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে।
📰 বিস্তারিত
৩০ সেপ্টেম্বর বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে ‘স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টির’ রিসার্চ উইং আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে এসব তথ্য ও দাবি তুলে ধরা হয়। বৈঠকের সঞ্চালনা করেন সংগঠনের আহ্বায়ক মুহম্মদ জিয়াউল হক। মূল গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনের সদস্য সচিব শাহাদাত ফরাজী সাকিব। গবেষণা প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে সম্পূর্ণ দেশীয় ব্যবস্থাপনায় এনসিটি থেকে চট্টগ্রাম বন্দর প্রতি বছর ১৪৮ মিলিয়ন ডলার নিট আয় করে। অথচ ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রস্তাবিত ইজারা মডেলে প্রশাসনিক ব্যয় বাদ দিলে নিট আয় দাঁড়িয়ে যাবে প্রায় ৫৬.৩ মিলিয়ন ডলারে।
বৈঠকে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সাবেক সহকারী প্রধান ও বিইউপির সাবেক প্রো-ভিসি কমোডর জসীমউদ্দীন বলেন, “চট্টগ্রাম বন্দরকে ঘিরে ঔপনিবেশিক শোষণের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। দেশের কৌশলগত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামোর নিয়ন্ত্রণ বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া হলে জাতীয় সার্বভৌমত্ব নতুন করে হুমকির মুখে পড়তে পারে।”
জনতার দলের মুখপাত্র মেজর (অব.) ডেল এইচ খান বলেন, প্রস্তাবিত চুক্তির মডেলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রতি টিইইউ কনটেইনার থেকে অর্জিত মুনাফা মার্জিন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি স্বাধীন ‘ভ্যালু ফর মানি’ মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশের পাশাপাশি বন্দর নিরাপত্তা, কাস্টমস ও ভূমির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাষ্ট্রের হাতে রাখার জোর দাবি জানান।
দৈনিক ইনকিলাবের সহকারী সম্পাদক ও পার্বত্য নিউজের সম্পাদক মেহেদী হাসান পলাশ বলেন, “যুদ্ধ কিংবা বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় বিদেশি অপারেটর ব্যবসায়িক স্বার্থে কার্যক্রম সীমিত করলে পুরো দেশের সরবরাহ ব্যবস্থা ধসে পড়তে পারে। তাই রাষ্ট্রের নিজস্ব সক্ষমতা ও বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত রাখা জরুরি।”
স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টির মুখপাত্র মুহিউদ্দিন রাহাত বলেন, দেশের জনগণের ট্যাক্সের টাকায় নির্মিত এবং অত্যন্ত লাভজনক একটি টার্মিনাল পরিচালনা বিদেশি কোনো গোষ্ঠীর হাতে সোপর্দ করার আগে অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
"ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল ইজারা চেষ্টা: নিরাপত্তা ঝুঁকি ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম বন্দর, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কমোডর জসীমউদ্দীন, শাহাদাত ফরাজী সাকিব, মেহেদী হাসান পলাশ, মুহিউদ্দিন রাহাত, ডেল এইচ খান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯২ মিলিয়ন ডলার (রাজস্ব ক্ষতি), ১৪৮ মিলিয়ন ডলার (বর্তমান আয়), ৫৬.৩ মিলিয়ন ডলার (প্রস্তাবিত আয়), ১৩ লাখ ৮৫ হাজার টিইইউ (বর্তমান হ্যান্ডলিং), ১৩ লাখ ৭৫ হাজার টিইইউ (ডিপি ওয়ার্ল্ডের লক্ষ্যমাত্রা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!