📌 শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী গ্রামের বিলকিস বেগমের স্বাবলম্বী পরচুলা কারখানায় আড়াইশত নারী মাসে ১২ থেকে ২৫ হাজার টাকা আয় করছেন। স্বামী-স্ত্রী যুগপৎ উদ্যোগে গড়ে তোলা এই কারখানায় সরকারি-বেসরকারি সহায়তা চাইছেন বিলকিস বেগম।
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী গ্রামের বিলকিস বেগমের স্বাবলম্বী পরচুলা কারখানায় আড়াইশত নারী শ্রমিক মাসে ১২ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করছেন। এই কারখানায় নারী শ্রমিকরা সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ক্যাপ তৈরি করে, যেখানে একজন শ্রমিক মাসে ১০ থেকে ১৫টি ক্যাপ তৈরি করতে পারেন এবং প্রতি ক্যাপের জন্য ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা পান।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী গ্রামে বিলকিস বেগমের কারখানায় আড়াইশত নারী শ্রমিক কাজ করছেন
- 📌 মাসে ১২ থেকে ২৫ হাজার টাকা আয় করছেন শ্রমিকরা, প্রতি ক্যাপের জন্য ১২০০-১৫০০ টাকা পান
- 📌 ২৯ বছর বয়সী বিলকিস বেগমের স্বামী মিজানুর রহমানও কারখানার পরিচালনা করেন
- 📌 ঢাকার গোল্ডেন হেয়ার ক্যাপ প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় কারখানা চালু করেন বিলকিস বেগম
- 📌 সরকারি-বেসরকারি সহায়তা পেলে কারখানাকে আরও বড় আকারে গড়ে তোলার আশা
📰 বিস্তারিত
২৯ বছর বয়সী বিলকিস বেগমের স্বাবলম্বী যাত্রা শুরু হয়েছিল মাত্র ১৬ বছর বয়সে বিয়ে করার পর। স্বামীর অল্প আয়ের উপর সংসার চালাতে হিমশিম খেয়ে তিনি স্থানীয় নারী উদ্যোক্তা ইছমত আরার কাছ থেকে পরচুলা তৈরির কাজ শিখেন। পরবর্তীকালে স্বামী মিজানুর রহমানও (৩৬) এর সাথে যুগপৎ উদ্যোগে তারা একটি কারখানা গড়ে তোলেন। ঢাকার গোল্ডেন হেয়ার ক্যাপ প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় বিলকিস বেগম কারখানা চালু করেন, যেখানে মাত্র ১০-১২ জন নারী শ্রমিক থাকলেও পরবর্তীকালে সংখ্যা বেড়ে যায় আড়াইশতের বেশি।
কারখানায় কাজ করা নারীদের মধ্যে রয়েছে নলী মধ্যপাড়া, পূর্বপাড়া ও পশ্চিমপাড়া, রাজনগর, বটতলী, যাত্রাকোনা, বন্ধধরা, আমলাতলী, টিলাপাড়া, কালীবাড়িসহ আশপাশের এলাকার নারী। পাশাপাশি অনেক নারীর কিশোরী কন্যাও বিদ্যালয় ছুটি শেষে কারখানায় কাজ করছে। রাজনগর গ্রামের মৃত আব্বাস আলীর স্ত্রী হাজেরা বেগম বলেছেন, ‘বিলকিস আপার কাছ থেকে এই কাজ শিখে আমি এবং আমার মেয়েরা মাসে প্রায় ৩০ হাজার টাকা আয় করছি। মেয়েদের পড়াশোনাও ভালো চলছে।’
বিলকিস বেগম জানান, কারখানায় মাসে ১২ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করছেন শ্রমিকরা। প্রতি ক্যাপের জন্য ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা পান শ্রমিকরা এবং প্রতি মাসে ১ হাজার টাকা হাজিরা বোনাসও পান। তিনি বলেছেন, ‘ভবিষ্যতে কারখানা আরও বড় আকারে করার ইচ্ছা রয়েছে। সরকারি-বেসরকারিভাবে সহায়তা পেলে কাজটি আরও বড় আকারে করা সম্ভব হবে বলে আশা।’
"আমি রাজমিস্ত্রির সহযোগীর কাজ করেছি। পরবর্তীকালে পরচুলার কাজ শেখা শেষে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই সেটি শুরু করি। ঢাকা থেকে মালিকপক্ষ পরচুলা তৈরির কাঁচামাল পাঠিয়ে দেয়। আমাদের কারখানায় স্থাপিত টুপি তৈরির টেবিলে বসে নারী শ্রমিকেরা সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ক্যাপ তৈরি করেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিলকিস বেগম, মিজানুর রহমান, হাজেরা বেগম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৯ বছর (বিলকিস বেগমের বয়স), ৩৬ বছর (মিজানুর রহমানের বয়স), ১৬ বছর (বিলকিসের বিয়ে বয়স), ১২ থেকে ২৫ হাজার টাকা (মাসিক আয়), ১০ থেকে ১৫টি ক্যাপ (মাসে তৈরি), ১২০০-১৫০০ টাকা (প্রতি ক্যাপের মূল্য)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!