📌 বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেছেন, ব্যাংক খাতের লুটপাটের ক্ষতিপূরণে পাঁচ থেকে আট বছর ধরে প্রতি বছর ৬০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিতে হবে। তিনি 'বাংলা কিউআর' লেনদেনের প্রচারণায় এই তথ্য জানান।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান ব্যাংক খাতের পুনরুদ্ধারের জন্য সরকারকে প্রতি বছর ৬০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ব্যাংক খাতের এক-তৃতীয়াংশ অর্থ লুটেরাদের হাতে চলে গেছে এবং এই ক্ষতিপূরণে পাঁচ থেকে আট বছর ধরে সরকারকে অর্থ বরাদ্দ করতে হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেছেন, ব্যাংক খাতের পুনরুদ্ধারে প্রতি বছর ৬০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিতে হবে পাঁচ থেকে আট বছর ধরে
- 📌 গভর্নরের দায়িত্ব নেওয়ার সময় ব্যাংক খাতের এক-তৃতীয়াংশ অর্থ লুটেরাদের হাতে চলে গেছে বলে জানান তিনি
- 📌 'বাংলা কিউআর' পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে সরকারের বার্ষিক রাজস্ব ২ লাখ কোটি টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে
- 📌 'বাংলা কিউআর' উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের ১৮ কোটি মানুষের ডিজিটাল লেনদেন সহজ হবে
- 📌 ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে 'বাংলা কিউআর' সেবা চালু করা হয়েছে
- 📌 অনুষ্ঠানে ৪০০ জনের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে এবং তারা সরাসরি 'বাংলা কিউআর' লেনদেনের অভিজ্ঞতা পেয়েছেন
📰 বিস্তারিত
গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান শনিবার ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ওয়ান ব্যাংকের আয়োজিত 'বাংলা কিউআর' লেনদেনের প্রচারণামূলক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, 'আমি যখন গভর্নরের দায়িত্ব নিয়েছি, তখন এক-তৃতীয়াংশ টাকা চুরি হয়ে গেছে। ব্যাংক খাতের এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আগামী পাঁচ থেকে আট বছর সরকারকে প্রতিবছর বাজেট থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকা করে দিতে হবে।' তিনি আরও বলেন, 'এই অর্থ দিয়ে সরকার চাইলে দুটি পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে পারত। এমনকি কোটি পরিবারকে মাসে আড়াই হাজার টাকা করে দেওয়াও সম্ভব হতো।'
গভর্নর লুটেরাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান। তিনি বলেন, 'লুটেরারা জনগণের টাকা নিয়ে গেছে। এটাকে শুধু চুরি না, তারা লুট করেছে।' তিনি 'বাংলা কিউআর' উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের ১৮ কোটি মানুষের লেনদেন সহজ করার লক্ষ্যে এই প্রচারণা চালাচ্ছেন। তিনি বলেন, 'বাংলা কিউআর'-এর মাধ্যমে নগদ অর্থের ব্যবহার কমিয়ে ডিজিটাল লেনদেন বাড়ানো সম্ভব হবে এবং রাজস্ব ফাঁকিও কমে যাবে।
ওয়ান ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহিত রহমান বলেন, 'দৈনন্দিন জীবনে আর্থিক সেবা যখন আরও সহজ ও সহজলভ্য হয়, তখনই ডিজিটাল রূপান্তর অর্থবহ হয়ে ওঠে।' তিনি বলেন, ইউআইইউতে 'বাংলা কিউআর' চালুর ফলে শিক্ষার্থীরা সরাসরি আন্তঃপরিচালনযোগ্য ডিজিটাল লেনদেন ব্যবহারের অভিজ্ঞতা পাবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিজিটাল লেনদেনের লক্ষ্য বাস্তবায়ন এবং ভবিষ্যতের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে তুলতে তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে 'বাংলা কিউআর' সেবা চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্টদের জন্য সহজ, সুবিধাজনক ও আন্তঃব্যবহারযোগ্য ডিজিটাল লেনদেনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
উপাচার্য মো. আবুল কাশেম মিঞা বলেন, 'দেশে নতুন কোনো উদ্যোগ এলে মানুষ তা সহজে গ্রহণ করতে চায় না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের নেতিবাচক প্রচারণা থাকলেও গভর্নর 'বাংলা কিউআর'-সহ ডিজিটাল লেনদেনের উদ্যোগ এগিয়ে নিচ্ছেন।' তিনি গভর্নরকে সাধুবাদ জানান এবং ইউআইইউ ক্যাম্পাসকে নগদবিহীন ক্যাম্পাসে রূপান্তরের ঘোষণা দেন।
"আমি যখন গভর্নরের দায়িত্ব নিয়েছি, তখন এক-তৃতীয়াংশ টাকা চুরি হয়ে গেছে। ব্যাংক খাতের এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আগামী পাঁচ থেকে আট বছর সরকারকে প্রতিবছর বাজেট থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকা করে দিতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, মুহিত রহমান, উপাচার্য মো. আবুল কাশেম মিঞা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬০ হাজার কোটি টাকা, ২ লাখ কোটি টাকা, ১৮ কোটি মানুষ, ৪০০ জন শিক্ষার্থী
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!