📌 বাংলাদেশ আরসিইপি (আরসিইপি) জোটে সদস্যপদ লাভের পথে এগিয়ে গেছে। জোটের সদস্য দেশগুলোর বাজারে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা, শুল্ক-সুবিধা, সেবা, বিনিয়োগ ও মেধাস্বত্বের সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়, বাংলাদেশসহ চার দেশের সদস্যপদ পাওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে
বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য জোট ‘আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব’ (আরসিইপি)-এ বাংলাদেশের সদস্যপদ লাভের প্রক্রিয়া আরেক ধাপ এগিয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আরসিইপি বিশ্বের প্রায় ৩০ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ও জনসংখ্যার প্রতিনিধিত্ব করে। ২০২৪ সালে জোটভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ২.১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বাংলাদেশসহ চার দেশের সদস্যপদ পাওয়ার বিষয়ে আরসিইপি মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, চিলি ও হংকংকে নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা ও কারিগরি কাজের জন্য বিশেষ কার্যদল গঠনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
- 📌 ২১ সেপ্টেম্বর ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত আরসিইপির যৌথ কমিটির বৈঠকে বাংলাদেশসহ চার দেশের সদস্যপদ পাওয়ার সুপারিশ করা হয়। পরে ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত পঞ্চম আরসিইপি মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে তা অনুমোদিত হয়।
- 📌 আরসিইপির সদস্য হলে জোটভুক্ত দেশগুলোর বাজারে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা, শুল্ক-সুবিধা, সেবা, বিনিয়োগ, মেধাস্বত্ব, ই-কমার্স, প্রতিযোগিতা, বিরোধ নিষ্পত্তি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সুবিধা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
- 📌 বাংলাদেশ ২০২২ সাল থেকে আরসিইপিতে যোগদানের আলোচনা শুরু করে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে চিঠি পাঠিয়ে আগ্রহের কথা জানানো হয়। তবে নতুন সদস্য নেওয়ার বিষয়ে তখন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
- 📌 বাণিজ্যসচিব মো. আতাউর রহমান খান বলেছেন, বাংলাদেশ এলডিসি তালিকা থেকে বের হওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে আরসিইপির সদস্য হলে আরও লাভবান হবে।
📰 বিস্তারিত
আরসিইপি হলো চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, এশিয়ান দেশসমূহের একটি বাণিজ্য জোট। এই জোটে এখন পর্যন্ত ১৫টি দেশের সদস্যপদ রয়েছে। বাংলাদেশসহ চারটি দেশের সদস্যপদ পাওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর, আনুষ্ঠানিক আলোচনা ও কারিগরি কাজের জন্য বিশেষ কার্যদল গঠনের সুপারিশ অনুমোদন করা হয়েছে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত জুনে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, বাংলাদেশ আরসিইপিতে যোগ দিতে আগ্রহী এবং এ বিষয়ে মালয়েশিয়ার সমর্থনকে স্বাগত জানিয়েছেন। বাংলাদেশ এ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার সমর্থনও চেয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, আরসিইপিতে সদস্য হলে বাংলাদেশের জন্য এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বিভিন্ন দেশে হারানো শুল্ক-সুবিধা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আরসিইপিতে যোগদানের মাধ্যমে বাংলাদেশ রপ্তানি বাজারে শুল্ক-সুবিধা ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ পাবে। পাশাপাশি সেবা, বিনিয়োগ, মেধাস্বত্ব, ই-কমার্স, প্রতিযোগিতা, বিরোধ নিষ্পত্তি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সুবিধা পাওয়ার বিষয়ও থাকবে।
"আমরা আরসিইপির সদস্য হতে চাচ্ছি। ভালো খবর হচ্ছে, গত সোমবার আরসিইপির যৌথ কমিটির বৈঠকে বাংলাদেশসহ চার দেশেরই সদস্যপদ পাওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের বের হওয়ার প্রক্রিয়া যেখানে এগোচ্ছে, সেখানে জোটটির সদস্য হতে পারলে আমরা লাভবান হব।"বাণিজ্যসচিব মো. আতাউর রহমান খান
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ম্যানিলা (ফিলিপাইন), মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বাণিজ্যসচিব মো. আতাউর রহমান খান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০ শতাংশ (জিডিপি ও জনসংখ্যা), ২.১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাণিজ্য পরিমাণ), ১৫টি দেশ (আরসিইপির সদস্য)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!