📌 বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেছেন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও যোগাযোগ খাতে বাংলা কিউআর চালু করে ক্যাশলেস অর্থনীতিতে বিপ্লব ঘটানো হচ্ছে। গত তিন মাসে লেনদেনের সংখ্যা ৩ গুণ এবং অর্থমূল্য ৫ গুণ বেড়েছে। ৪০ লাখেরও বেশি মার্চেন্ট এখন বাংলা কিউআর ব্যবহার করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা করেন, ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তোলার অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও যোগাযোগ খাতে বাংলা কিউআরের ব্যবহার দ্রুত বাড়ানোর ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তিনি বলেন, হাসপাতালের টিকিট ও ফি পরিশোধ থেকে শুরু করে স্কুলের বেতন, শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন কেনাকাটা এবং সড়ক-সেতুর টোল পরিশোধ — এসব ক্ষেত্রে বাংলা কিউআর চালু করে ছোট অঙ্কের নগদ লেনদেন কমাতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও যোগাযোগ খাতে** বাংলা কিউআর সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাচ্ছে — লেনদেন সহজ ও নগদ সমস্যা কমবে
- 📌 **গত জুন থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত** বাংলা কিউআরের লেনদেন সংখ্যা **সাড়ে তিন গুণ** এবং অর্থমূল্য **পাঁচ গুণ** বেড়েছে
- 📌 **৪০ লাখেরও বেশি মার্চেন্ট** এখন বাংলা কিউআর ব্যবহার করছে
- 📌 **গত ১ জুলাই থেকে** বাংলা কিউআর ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা চালু — লেনদেন ৪ গুণ বেড়েছে, দৈনিক **১৪৩ কোটি টাকা** লেনদেন হচ্ছে
- 📌 **বাংলা কিউআর আন্তঃব্যবহারযোগ্য** — আগের মতো কোনো প্রতিষ্ঠানের কিউআর ব্যবহারে গ্রাহকদের সমস্যা হবে না
- 📌 **৫১০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারে** উন্নীত করার লক্ষ্যে অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতিকে আনুষ্ঠানিক করতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক
- 📌 **নগদ লেনদেনের সমস্যা** (৫০ টাকার নোটের ভাংতি না পাওয়া, পুরোনো নোটের সমস্যা) দূর করার জন্য বাংলা কিউআরকে জনপ্রিয় করতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তোলার মূল লক্ষ্য হলো অর্থনীতির প্রতিটি লেনদেনের একটি ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট তৈরি করা। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক অর্থনীতির আকার প্রায় ৫১০ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতির লেনদেনগুলোও যদি হিসাবের আওতায় আনা যায়, তাহলে প্রকৃত অর্থনীতির আকার আরও বড় হতে পারে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে দেশের বাজারকে দৃশ্যমান করার জন্য এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ।
আরিফ হোসেন খান বলেন, "নগদ লেনদেনে অনেক সমস্যা রয়েছে। বাজারে ৫০ টাকার নোট থাকলেও ১০ বা ২০ টাকার ভাংতি পাওয়া যায় না। আবার পুরোনো ও মলিন নোটের সমস্যা তৈরি হয়। এসব কারণে লেনদেনে সময় লাগে এবং ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে বিরোধও হয়। বাংলা কিউআর চালু করে এসব সমস্যা দূর করা সম্ভব।"
তিনি আরও বলেন, গত ১ জুলাই থেকে বাংলা কিউআর ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা চালু করা হয়েছে। এরপর থেকে লেনদেনের সংখ্যা প্রায় চার গুণ বেড়েছে। সর্বশেষ এক সপ্তাহে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা দৈনিক গড়ে প্রায় ১৪৩ কোটি টাকা। একই সময়ে মার্চেন্টের সংখ্যাও প্রায় তিন গুণ বেড়ে বর্তমানে ৪০ লাখের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
বাংলা কিউআরের আরেকটি বড় সুবিধা হলো এর আন্তঃব্যবহারযোগ্যতা। আগে কোনো মার্চেন্ট একটি নির্দিষ্ট মোবাইল আর্থিক সেবা বা ব্যাংকের কিউআর ব্যবহার করলে অন্য প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক সেখানে পেমেন্ট করতে পারতেন না। কিন্তু বাংলা কিউআর চালু হলে এ সমস্যা দূর হয়েছে।
"ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তোলার জন্য দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মূল লক্ষ্য হলো অর্থনীতির প্রতিটি লেনদেনের একটি ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট তৈরি করা। দেশের অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতিকে আনুষ্ঠানিক অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করা গেলে অর্থনীতির প্রকৃত আকার আরও বড় হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: আরিফ হোসেন খান (বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪০ লাখ (মার্চেন্ট), ৫১০ বিলিয়ন ডলার (বর্তমান অর্থনৈতিক আকার), ১৪৩ কোটি টাকা (দৈনিক লেনদেন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!