📌 পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ১৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা তহবিল ব্যবহার করে জ্বালানি আমদানি অব্যাহত রেখেছে। মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ছয় মাসে লোকসান হয়েছে প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের দ্রুত বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) জ্বালানি আমদানি অব্যাহত রাখতে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ১৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা তহবিল ব্যবহার করেছে। জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির বৈঠকে উপস্থাপিত কার্যপত্রে এই তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের অপ্রত্যাশিত বৃদ্ধির কারণে দেশের বাজারে দাম সমন্বয় না করার ফলে বিপিসির মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ছয় মাসে লোকসান হয়েছে প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা প্রকল্প তহবিল থেকে জ্বালানি আমদানির খরচে ব্যয় করেছে বিপিসি
- 📌 ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত জ্বালানি আমদানি ও এলসি নিষ্পত্তিতে
- 📌 ডিজেলের আন্তর্জাতিক দাম গত ফেব্রুয়ারিতে ছিল ব্যারেলপ্রতি ৮৬ ডলার, মার্চে ১৮৬.৫৯ ডলার, এপ্রিলে সর্বোচ্চ ২৮৪.৯৫ ডলার
- 📌 ২০৫ টাকা প্রতি লিটার ডিজেলের ব্যয়, কিন্তু বিক্রয়মূল্য ১৩৫ টাকা — প্রতি লিটার ৭০ টাকা ঘাটতি
- 📌 চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেছেন, প্রকল্পের অর্থ পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে, প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রভাব পড়বে না
📰 বিস্তারিত
বিপিসির চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রকল্পগুলোর অর্থ সংস্থাটির নিজস্ব তহবিলের অংশ। চলতি ও আগামী অর্থবছরে প্রকল্পগুলোর প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে অর্থ পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। তিনি বলেছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো প্রভাব পড়বে না। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের দ্রুত বৃদ্ধির কারণে দেশের বাজারে দাম সমন্বয় না করার ফলে বিপিসির লোকসান বেড়েছে।
বিপিসির হিসাবে, গত ফেব্রুয়ারিতে আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের গড় দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৮৬ ডলার। মার্চে তা বেড়ে ১৮৬.৫৯ ডলার এবং এপ্রিলে সর্বোচ্চ ২৮৪.৯৫ ডলার দাঁড়ায়। সেপ্টেম্বর মাসে কার্যপত্র তৈরির সময় আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের গড় দাম ছিল ১৬৫.৮২ ডলার। এই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার পাশাপাশি জাহাজভাড়া ও অন্যান্য আমদানি ব্যয়ও বেড়েছে। ফলে জ্বালানি আমদানিতে বিপিসির ব্যয় দ্রুত বেড়ে যায়। আগস্টে শুল্ক, কর ও পরিচালন ব্যয় বাদ দিয়েই বিপিসির জ্বালানি আমদানি ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৭ হাজার ৬০৩ কোটি টাকা। গত বছরের একই মাসে এ ব্যয় ছিল ২ হাজার ৭৪১ কোটি টাকা।
বিপিসির হিসাবে, বছরে দেশে প্রায় ৭০ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি হয়। এর মধ্যে ডিজেলের পরিমাণ প্রায় ৪৫ লাখ টন। ২০২৬ সালে দেশে মোট পেট্রোলিয়াম পণ্যের চাহিদা প্রায় ৮৪ লাখ ২৬ হাজার টন এবং ডিজেলের চাহিদা ৪৪ লাখ ৭৩ হাজার টন হতে পারে। কার্যপত্র তৈরির সময় আন্তর্জাতিক বাজারদর ও ডলারের বিনিময় হার বিবেচনায় প্রতি লিটার ডিজেলের ব্যয় প্রায় ২০৫ টাকা পড়ছিল। তখন দেশে ডিজেল বিক্রি হচ্ছিল ১১৫ টাকায়। সর্বশেষ মূল্য সমন্বয়ের পর ডিজেলের দাম ১৩৫ টাকা করা হলেও আন্তর্জাতিক বাজারদর অনুযায়ী বিপিসির পুরো ব্যয় উঠছে না।
"প্রকল্পগুলোর অর্থ সংস্থাটির নিজস্ব তহবিলের অংশ। চলতি ও আগামী অর্থবছরে প্রকল্পগুলোর প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে অর্থ পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রভাব পড়বে না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি), জাতীয় সংসদ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা (প্রকল্প তহবিল), ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা (লোকসান), ২০৫ টাকা (ডিজেলের ব্যয়), ১৩৫ টাকা (ডিজেলের বিক্রয়মূল্য)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!