📌 বাংলাদেশের অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, সামাজিক সুরক্ষা ও কর্মসংস্থানের সমন্বয়ে দারিদ্র্য বিমোচনে বিশ্বের মডেল হতে পারে বাংলাদেশ। তিনি থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত আঞ্চলিক সম্মেলনে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং ২০৩০ সালের মধ্যে দারিদ্র্য হার কমাতে ১ কোটি ৬১ লাখের বেশি মানুষকে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা উল্লেখ করেন
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতির অভিজ্ঞতা বিশ্বের দারিদ্র্য বিমোচনের মডেল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, সামাজিক সুরক্ষা ও কর্মসংস্থানের কার্যকর সমন্বয় দারিদ্র্য বিমোচনে বিশ্বের মডেল হতে পারে বাংলাদেশ। তিনি থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ‘সবার জন্য এশিয়া: সরকারি সেবা, সামাজিক সুরক্ষা ও অভিন্ন সমৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি’ শীর্ষক আঞ্চলিক সম্মেলনে এ কথা বলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **বিশ্বের মডেল হতে পারে বাংলাদেশ**: সামাজিক সুরক্ষা ও কর্মসংস্থানের সমন্বয়ে দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা বিশ্বের অনুসরণযোগ্য মডেল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
- 📌 **করোনা ও সামাজিক সুরক্ষা দুর্বলতার কারণে ৭০ লাখ থেকে ১ কোটি মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে পড়েন**: রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, করোনা মহামারির সময় সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা মানুষের অর্থনৈতিক সংকট বাড়িয়েছে।
- 📌 **ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে ১ কোটি ৬১ লাখের বেশি মানুষকে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা**: ডিজিটাল পদ্ধতিতে সরাসরি অর্থ প্রদানের ‘জিটুপি’ ব্যবস্থা (জেনারেল ট্রান্সফার প্রোগ্রাম) এর মাধ্যমে দারিদ্র্য হার কমাতে ৫ শতাংশীয় পয়েন্টের সম্ভাবনা রয়েছে।
- 📌 **কৃষক কার্ড কর্মসূচি: ০.৭ থেকে ১ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধির সম্ভাবনা**: কৃষকদের সহায়তায় কৃষি উৎপাদন ও প্রকৃত মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ২০৩০ সালের মধ্যে ০.৭ থেকে ১ শতাংশ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
- 📌 **বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও তৈরি পোশাকশিল্পের মাধ্যমে নারীদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি**: বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও তৈরি পোশাকশিল্পের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। নারীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পরিবারগুলোর আয় ও জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
📰 বিস্তারিত
বৈদেশিক কর্মসংস্থান, তৈরি পোশাকশিল্পে নারীর অংশগ্রহণ এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ দারিদ্র্য বিমোচনে বিশ্বের অনুসরণযোগ্য মডেল হয়ে ওঠার সুযোগ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে বিচ্ছিন্ন সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী কর্মসূচির পরিবর্তে কর্মসংস্থান, উৎপাদনশীল বিনিয়োগ এবং করের আওতা সম্প্রসারণের সঙ্গে সমন্বিত সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ।
শুক্রবার থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে চুলালংকর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘সবার জন্য এশিয়া: সরকারি সেবা, সামাজিক সুরক্ষা ও অভিন্ন সমৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি’ শীর্ষক আঞ্চলিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি অনুষদ ও অক্সফাম ইন এশিয়া যৌথভাবে সম্মেলনটি আয়োজন করে। এ সম্মেলনে এশিয়ায় বৈষম্য কমানো এবং সরকারি সেবা ও সামাজিক সুরক্ষার মাধ্যমে অভিন্ন সমৃদ্ধি অর্জনের উপায় নিয়ে আলোচনা হয়। বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বার্ষিক সভার আগে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারক, অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও উন্নয়নকর্মীরা অংশ নেন।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, করোনা মহামারির সময় সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা মানুষের অর্থনৈতিক সংকট বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এ সময়ে নতুন করে আনুমানিক ৭০ লাখ থেকে এক কোটি মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে পড়েন। সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী কর্মসূচির সমন্বয়হীনতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব কর্মসূচিতে সহায়তা পাওয়ার যোগ্য অনেকে বাদ পড়েন, আবার অযোগ্য ব্যক্তিরাও সুবিধা পান। ফলে যাদের সহায়তা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তাদের কাছে সরকারি সহায়তা যথাযথভাবে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, সামাজিক সুরক্ষাকে শুধু আর্থিক সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে কর্মসংস্থান, আয় বৃদ্ধি ও উৎপাদনশীল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। এতে দারিদ্র্য কমানোর পাশাপাশি মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়বে এবং উন্নয়নের সুফল আরও বিস্তৃত হবে।
"অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে বিচ্ছিন্ন সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী কর্মসূচির পরিবর্তে কর্মসংস্থান, উৎপাদনশীল বিনিয়োগ এবং করের আওতা সম্প্রসারণের সঙ্গে সমন্বিত সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ব্যাংকক, থাইল্যান্ড; চুলালংকর্ন বিশ্ববিদ্যালয়
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর (প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭০ লাখ থেকে ১ কোটি (দারিদ্র্যের মধ্যে পড়া মানুষ), ১ কোটি ৬১ লাখ (ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগী), ৫ শতাংশ (দারিদ্র্য হার কমার সম্ভাবনা), ০.৭ থেকে ১ শতাংশ (জিডিপি বৃদ্ধির সম্ভাবনা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!