📌 বাংলাদেশে এলপিজি আমদানিতে ২৫% হ্রাসের কারণে বাজারে সরবরাহ ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বিইআরসি নির্ধারিত দামের চেয়ে ৪০০-৫০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডার, যার ফলে দাম দুই হাজার টাকার উপরে ছুটে গেছে।
বাংলাদেশের বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সংকটের পরিস্থিতি আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। এক মাসের ব্যবধানে এলপিজি আমদানিতে ২৫ শতাংশ হ্রাসের কারণে সরবরাহে তীব্র ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এ সুযোগে বাজারে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বিইআরসি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি হয়ে গেছে। ফলে খুচরা বাজারে এই সিলিন্ডারের দাম দুই হাজার টাকার উপরে ছুটে গেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বিইআরসি নির্ধারিত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য ১ হাজার ৫৮৫ টাকা হলেও বর্তমানে ভোক্তাদের তা কিনতে হচ্ছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ১০০ টাকায়
- 📌 গত আগস্টে দেশে ১ লাখ ৬০ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছিল, কিন্তু চলতি সেপ্টেম্বর মাসে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার টনে — এক মাসে ৪০ হাজার টন কম আমদানি
- 📌 মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থা ও নৌপথের জটিলতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে কার্গো প্রিমিয়াম টনপ্রতি ১৬০ ডলার থেকে বেড়ে ২৬০ থেকে ৪০০ ডলারে পৌঁছেছে
- 📌 মেঘনা ফ্রেশ এলপিজি লিমিটেডের সিএমও আবু সাঈদ রেজা বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও ২০ শতাংশ সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে আন্তর্জাতিক সরবরাহকারী
- 📌 ওমেরা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের সিইও তানজীম চৌধুরী জানান, সেপ্টেম্বরে তাদের প্রতিষ্ঠান প্রায় ৩০ হাজার টন এলপিজি আমদানি করেছে
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ২ সেপ্টেম্বর ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু বর্তমানে বাজারে এই সিলিন্ডারের দাম দুই হাজার টাকার উপরে ছুটে গেছে। সাধারণ ভোক্তারা নির্ধারিত দামের চেয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি অর্থ দিয়ে রান্নার গ্যাস কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
ব্যবসায়ীদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থা ও লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালির নৌপথে পণ্য পরিবহনে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে জাহাজের সংকট ও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। বাংলাদেশের এলপিজি আমদানির প্রধান উৎস মধ্যপ্রাচ্য হওয়ায় এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারে। বিকল্প পথে পণ্য আনতে সময় ও খরচ বাড়ছে বলে জানা গেছে।
মেঘনা ফ্রেশ এলপিজি লিমিটেডের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা (সিএমও) আবু সাঈদ রেজা বলেন, “বর্তমানে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো কার্গো পাওয়া। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও অনেক আন্তর্জাতিক সরবরাহকারী প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। বাড়তি প্রিমিয়াম দিয়েও খোলাবাজার থেকে কার্গো সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।”
এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) সদস্যদের তথ্যমতে, বিশ্ববাজারে কার্গো প্রিমিয়াম টনপ্রতি ১৬০ ডলার থেকে বেড়ে ২৬০ থেকে ৪০০ ডলারে পৌঁছেছে। ফলে নির্ধারিত দামে গ্যাস বিক্রি করে বাড়তি ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। লোকসান এড়াতে কিছু প্রতিষ্ঠান আমদানি সীমিত রেখেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
বাংলাদেশে বছরে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ লাখ টন এলপিজির চাহিদা রয়েছে, যার প্রায় ৮০ শতাংশ ব্যবহৃত হয় গৃহস্থালির রান্নার কাজে। মোট চাহিদার প্রায় ৯৯ শতাংশই সরবরাহ করে বেসরকারি খাত। সেপ্টেম্বর মাসে সরবরাহ ঘাটতির কারণ হিসেবে বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ উল্লেখ করেছেন, কিছু প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত জাহাজ সময়মতো না পৌঁছানোর বিষয়টি। তিনি বলেছেন, বৈশ্বিক নৌপথের জটিলতা দূর না হলে এবং প্রয়োজনীয় কার্গো সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে অক্টোবর মাসেও এলপিজি সংকট অব্যাহত থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
"বর্তমানে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো কার্গো পাওয়া। একটি নৌপথ বন্ধ থাকলে আগে বিকল্প পথে পণ্য আনা সম্ভব হতো। কিন্তু এখন দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও অনেক আন্তর্জাতিক সরবরাহকারী প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে।" — মেঘনা ফ্রেশ এলপিজি লিমিটেডের সিএমও আবু সাঈদ রেজা
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ (বিশ্বব্যাপী এলপিজি আমদানি সংকট)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবু সাঈদ রেজা (মেঘনা ফ্রেশ এলপিজি লিমিটেডের সিএমও), তানজীম চৌধুরী (ওমেরা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের সিইও), জালাল আহমেদ (বিইআরসির চেয়ারম্যান)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০০০ টাকা (সিলিন্ডারের বর্তমান দাম), ১২ কেজি (সিলিন্ডারের ওজন), ২৫% (আমদানিতে হ্রাস), ৪০০-৫০০ টাকা (বর্ধিত মূল্য), ১ লাখ ৬০ হাজার টন (গত আগস্টের আমদানি), ১ লাখ ২০ হাজার টন (চলতি সেপ্টেম্বর আমদানি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!