📌 বাংলাদেশে ই-বর্জ্য সঠিকভাবে প্রক্রিয়া না করার কারণে মূল্যবান ধাতু ও অর্থনৈতিক রাজস্ব হারাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ বলেছেন, বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র গড়ে তোলা হচ্ছে। তবে দুর্নীতি ও তথ্য ঘাটতির কারণে বাস্তবায়ন বিলম্বিত হচ্ছে
ঢাকা: ই-বর্জ্য সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা না করার কারণে বাংলাদেশ মূল্যবান ধাতু ও অর্থনৈতিক রাজস্ব হারাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ বুধবার (১৪ অক্টোবর) ‘বাংলাদেশে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সুশাসন: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে এ কথা বলেন। তিনি জানান, দেশে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে ‘ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র’ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিদেশি বিনিয়োগকারী ও দেশীয় উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে, যাতে গৃহস্থালি ই-বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে মধ্যবর্তী পণ্য হিসেবে বিদেশে রফতানি করা যায়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিলম্বে হারাচ্ছে বাংলাদেশ মূল্যবান ধাতু ও রাজস্ব** — প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজের দাবি।
- 📌 **৪১টি জেলায় ১ লাখ ৫০ হাজার নষ্ট ইভিএম** — এসবের পুনর্ব্যবহারে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই।
- 📌 **ব্যাসেল কনভেনশন মেনে বাইরের ক্ষতিকর ই-বর্জ্য আমদানি বন্ধ** — স্থানীয় ব্যবস্থাপনাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
- 📌 **৫ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা** — ‘ট্রি মনিটরিং অ্যাপ’ ও স্যাটেলাইট ইমেজিং চালু হবে।
- 📌 **দুর্নীতি ও তথ্য ঘাটতির কারণে ই-বর্জ্য বিধিমালা বাস্তবায়ন বিলম্বিত** — ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের দাবি।
📰 বিস্তারিত
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ড. সাইমুম পারভেজ বলেন, “দেশে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেবল সরকারের একক প্রচেষ্টায় সম্ভব নয়। এর জন্য বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার, বেসরকারি খাত এবং বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আহবান জানানো হয়েছে।” তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় থ্রি-আর নীতি প্রয়োগের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। প্লাস্টিক বা সাধারণ বর্জ্যের পাশাপাশি বর্তমানে ক্রমবর্ধমান ই-বর্জ্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্মার্টফোন, ব্যাটারি এবং ইভি বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের জন্য কার্যকরী নীতিমালা তৈরি করা প্রয়োজন।
নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে যাওয়ার প্রচেষ্টায় তিনি বলেন, “সূর্যের আলো ও উপকূলীয় অঞ্চলের বায়ুকে কাজে লাগিয়ে বিকল্প জ্বালানির উৎস খোঁজা হচ্ছে। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে একটি ন্যায়সঙ্গত স্থানান্তরের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক অর্থনীতির দিকে যাওয়ার প্রচেষ্টা চলছে।”
সেমিনারে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্নীতি ও তথ্য ঘাটতির কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “২০২১ সালে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা প্রণয়ন করা হলেও পরিবেশ অধিদপ্তরের দক্ষতা ও সমন্বয়ের ঘাটতির কারণে তা বাস্তবায়িত হচ্ছে না। দেশে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে পর্যাপ্ত তথ্য-উপাত্ত নেই। ফলে এ খাতের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ রয়েছে।”
"দেশে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে ‘ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র’ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিদেশি বিনিয়োগকারী ও দেশীয় উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে, যাতে গৃহস্থালি ই-বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে মধ্যবর্তী পণ্য হিসেবে বিদেশে রফতানি করা যায়।"
"নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। শুধু বৃক্ষরোপণ নয়, গাছের টিকে থাকার হার নিশ্চিত করতে একটি ‘ট্রি মনিটরিং অ্যাপ’ এবং স্যাটেলাইট ইমেজিং চালুর প্রক্রিয়া চলছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ড. মো. সাইমুম পারভেজ (প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী), ড. ইফতেখারুজ্জামান (টিআইবি নির্বাহী পরিচালক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৪ অক্টোবর, ৫ বছর, ২৫ কোটি গাছ, ৪১ জেলা, ১ লাখ ৫০ হাজার ইভিএম
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!