📌 ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ১১.৬৭% কমে ১ হাজার ১৯৩ কোটি ইউরো হয়েছে, যখন চীন ও ভিয়েতনামের রপ্তানি বেড়েছে। ইইউর মোট পোশাক আমদানিতে বাংলাদেশের অংশ হ্রাস পেয়েছে ২১.৫% থেকে ১৯.৮%। চীন শীর্ষে অবস্থান করে ৩২.৭% বাজার দখল করেছে
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। একই সময়ে চীন ও ভিয়েতনামের রপ্তানি বেড়েছে, যা বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানকে আরও দুর্বল করেছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে (জানুয়ারি-আগস্ট) ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ১১.৬৭% কমে ১ হাজার ১৯৩ কোটি ইউরো হয়েছে। এর বিপরীতে চীন ২.৩৮% এবং ভিয়েতনাম ৪.৪৬% রপ্তানি বৃদ্ধি করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ১১.৬৭% কমে ১ হাজার ১৯৩ কোটি ইউরো হয়েছে
- 📌 চীন ২.৩৮% এবং ভিয়েতনাম ৪.৪৬% রপ্তানি বৃদ্ধি করেছে
- 📌 ইইউর মোট পোশাক আমদানি ৩.৮৩% কমে ৬ হাজার ২৯ কোটি ইউরো হয়েছে
- 📌 বাংলাদেশের ইইউর পোশাক আমদানিতে অংশ হ্রাস পেয়েছে ২১.৫% থেকে ১৯.৮%
- 📌 চীনের ইইউর পোশাক আমদানিতে অংশ বেড়েছে ৩০.৭২% থেকে ৩২.৭%
- 📌 প্রতি কেজি পোশাকের গড় মূল্য কমে বাংলাদেশের রপ্তানি আরও পতিত হয়েছে
- 📌 তৈরি পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তারা যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক আরোপ ও ইইউর অর্থনৈতিক শ্লথতার কারণে বাংলাদেশের পতনকে দায়ী করেছেন
📰 বিস্তারিত
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ইইউর মোট পোশাক আমদানি ৩.৮৩% কমে ৬ হাজার ২৯ কোটি ইউরো হয়েছে। এই সময়ে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে প্রায় ১২ শতাংশ, যা ইইউর মোট পোশাক আমদানির হ্রাসের তুলনায় তিন গুণ বেশি। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বাংলাদেশের রপ্তানি কমেছে ১৫৮ কোটি ইউরো। অন্যদিকে চীন ৪৫ কোটি ইউরোর বেশি রপ্তানি করেছে, যা ২.৩৮ শতাংশ বৃদ্ধি। ভিয়েতনামের রপ্তানি বৃদ্ধি হয়েছে ১৩ কোটি ইউরো বা ৪.৪৬ শতাংশ।
বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির গড় মূল্য প্রতি কেজি ১৪.৮৭ ইউরো থেকে কমে ১৩.৭৬ ইউরো হয়েছে, যা প্রায় ৭ শতাংশ হ্রাস। এর ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি পরিমাণ কমার পাশাপাশি কম দামের কারণে আরও পতিত হয়েছে। তৈরি পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তারা যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চীনের পোশাক রপ্তানিতে শুল্ক বাড়ানোর কারণে চীনারা ইইউর বাজারে কম দামে পোশাক বিক্রি শুরু করেছে। এতে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা তীব্র প্রতিযোগিতায় পড়েছেন।
তবে ইইউর অর্থনৈতিক শ্লথতার কারণে অধিকাংশ দেশের পোশাক রপ্তানি কমে যাওয়ায় বাংলাদেশের অবস্থানও দুর্বল হয়েছে। তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ‘জুন, জুলাই ও আগস্ট মাসে ইইউর ক্রেতা প্রতিষ্ঠান পোশাক আমদানি বাড়িয়েছে। ফলে আমাদেরও পোশাক রপ্তানি কিছুটা ইতিবাচক হয়েছে। তবে চীন যেহেতু আগে থেকেই আগ্রাসী বিপণন করছিল, সেহেতু ইইউর বাজার পুনরুদ্ধার হওয়ার সময় চীনের ব্যবসা বেশি বেড়েছে। তবে বাংলাদেশও ব্যবধান কমিয়ে আনছে।’ তিনি আরও বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির খুব বেশি অবনতি না হলে সামনের দিনগুলোতে ইইউর বাজার আরেকটু ঘুরে দাঁড়াতে পারে। তবে রপ্তানির তালিকায় বৈচিত্র্যময় পোশাক যুক্ত ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা না বাড়াতে পারলে খুব বেশি উন্নতির সুযোগ নেই।
"জুন, জুলাই ও আগস্ট মাসে ইইউর ক্রেতা প্রতিষ্ঠান তৈরি পোশাক আমদানি বাড়িয়েছে। ফলে আমাদেরও পোশাক রপ্তানি কিছুটা ইতিবাচক হয়েছে। তবে চীন যেহেতু আগে থেকেই আগ্রাসী বিপণন করছিল, সেহেতু ইইউর বাজার পুনরুদ্ধার হওয়ার সময় চীনের ব্যবসা বেশি বেড়েছে। তবে বাংলাদেশও ব্যবধান কমিয়ে আনছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), বাংলাদেশ, চীন, ভিয়েতনাম, ভারত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মহিউদ্দিন রুবেল (বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১.৬৭% (রপ্তানি হ্রাস), ২.৩৮% (চীনের বৃদ্ধি), ৪.৪৬% (ভিয়েতনামের বৃদ্ধি), ১ হাজার ১৯৩ কোটি ইউরো (বাংলাদেশের রপ্তানি), ৬ হাজার ২৯ কোটি ইউরো (ইইউর মোট আমদানি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!