📌 ২৯ সেপ্টেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কর্মশালায় বাংলাদেশ, কেনিয়া ও ঘানার প্রতিনিধিরা আর্টিমিয়া চাষ ও জিনগতভাবে উন্নত তেলাপিয়া (GIFT) বিস্তারের মাধ্যমে টেকসই মৎস্য চাষের সম্ভাবনা আলোচনা করেন। কর্মশালায় আর্টিমিয়া চাষের বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি, কক্সবাজারের সমন্বিত চাষব্যবস্থা এবং দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
২৯ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ‘ব্রাইন শ্রিম্প আর্টিমিয়া অ্যাকুয়াকালচার, জিনগতভাবে উন্নত তেলাপিয়া (GIFT) বিস্তার ও প্রতিষ্ঠানিক সহযোগিতা’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক কর্মশালায় বাংলাদেশ, কেনিয়া ও ঘানার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। এই কর্মশালা টেকসই মৎস্য চাষে জ্ঞান বিনিময় ও দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকার মৎস্য খাতের উন্নয়নের পথ খুলবে বলে আশা করা হচ্ছে। ওয়ার্ল্ডফিশ বাংলাদেশের আয়োজনে এই কর্মশালায় নীতিনির্ধারক, গবেষক, উন্নয়ন অংশীদার ও মৎস্য বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **২৯ সেপ্টেম্বর ঢাকায়** ‘আর্টিমিয়া চাষ ও GIFT তেলাপিয়া বিস্তার’ বিষয়ে বাংলাদেশ, কেনিয়া ও ঘানার তিন দেশের মধ্যে প্রথম আন্তর্জাতিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
- 📌 **কক্সবাজারের লবণ মাঠে** আর্টিমিয়া, চিংড়ি, তেলাপিয়া ও কাঁকড়ার সমন্বিত চাষব্যবস্থা ও আধুনিক হ্যাচারি প্রযুক্তি বাংলাদেশের সফল অভিজ্ঞতা হিসেবে উপস্থাপিত হয়।
- 📌 **বেলজিয়ামের ঘেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক প্যাট্রিক সরগেলুস** ও ওয়ার্ল্ডফিশের ড. মুহাম্মদ মীজানুর রহমান আর্টিমিয়া গবেষণার বৈশ্বিক অগ্রগতি ও বাংলাদেশের সম্ভাবনা তুলে ধরেন।
- 📌 **বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ গোলাম হোসেনের** নেতৃত্বে GIFT তেলাপিয়া বিস্তারের ৩০ বছরের অভিজ্ঞতা উপস্থাপন করা হয়।
- 📌 **ওয়ার্ল্ডফিশের ড. এ.টি.এম. ফারুক-উল ইসলাম** দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার মাধ্যমে জলবায়ু-সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক মৎস্য খাত গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
- 📌 **কর্মশালায় অংশ নেন** কাজী নজরুল ইসলাম (বিসিক), ড. মোতালেব হোসেন (মৎস্য অধিদপ্তর) ও ড. আমিরুল ইসলাম (বিএফআরআই)।
📰 বিস্তারিত
‘ব্রাইন শ্রিম্প আর্টিমিয়া অ্যাকুয়াকালচার, GIFT তেলাপিয়া বিস্তার ও প্রতিষ্ঠানিক সহযোগিতা’ শীর্ষক কর্মশালায় আর্টিমিয়া চাষের বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি, সমন্বিত লবণ-আর্টিমিয়া-মৎস্য চাষব্যবস্থা এবং GIFT তেলাপিয়ার দায়িত্বশীল বিস্তারের বিষয়গুলো আলোচিত হয়। কর্মশালার প্রথম পর্বে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে বাস্তবায়িত ‘আর্টিমিয়া ফর বাংলাদেশ’ প্রকল্পের অর্জন তুলে ধরা হয়। এতে কক্সবাজারের লবণ মাঠে আর্টিমিয়া, চিংড়ি, তেলাপিয়া ও কাঁকড়ার সমন্বিত চাষব্যবস্থা, আর্টিমিয়া সিস্ট ও বায়োমাস উৎপাদন, হ্যাচারিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পুষ্টি-সংবেদনশীল মাছ চাষের উদ্ভাবনী উদ্যোগগুলো বিশেষভাবে আলোচিত হয়।
বেলজিয়ামের ঘেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক প্যাট্রিক সরগেলুস ও ওয়ার্ল্ডফিশের আর্টিমিয়া বিশেষজ্ঞ ড. মুহাম্মদ মীজানুর রহমান মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তারা আর্টিমিয়া গবেষণা ও উন্নয়নের বৈশ্বিক অগ্রগতি, বাংলাদেশের অর্জন এবং ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তির সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তুলে ধরেন। কর্মশালার দ্বিতীয় পর্বে বাংলাদেশের তিন দশকের GIFT তেলাপিয়া উন্নয়ন ও বিস্তারের অভিজ্ঞতা উপস্থাপন করা হয়। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) সাবেক মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ গোলাম হোসেনের নেতৃত্বে প্রণীত মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. এ.এইচ.এম. কহিনুর এবং জিল্লুর রহমান। এতে GIFT তেলাপিয়ার দায়িত্বশীল বিস্তার, জেনেটিক মান সংরক্ষণ এবং বেসরকারি খাতের মাধ্যমে মানসম্মত পোনা উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নের বিষয়গুলো আলোচিত হয়।
ওয়ার্ল্ডফিশ বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. এ.টি.এম. ফারুক-উল ইসলাম বলেন, দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা মৎস্য চাষে উদ্ভাবন, গবেষণা এবং টেকসই সমাধানের বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি বাংলাদেশ, কেনিয়া ও ঘানার মধ্যে জ্ঞান, প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে আরও উৎপাদনশীল, জলবায়ু-সহনশীল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক জলজ খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ওয়ার্ল্ডফিশের সিনিয়র সায়েন্টিস্ট ড. খন্দকার মুরশেদ-ই-জাহান বলেন, GIFT প্রযুক্তি সফল হলেও এর কার্যকর স্থানান্তর ও বিস্তারের জন্য সুস্পষ্ট কর্মপদ্ধতি নির্ধারণের প্রয়োজন।
"দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা মৎস্য খাতের উন্নয়নে উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ও জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে জলবায়ু-সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার পথ খুলবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (ওয়ার্ল্ডফিশ বাংলাদেশ), কক্সবাজার (লবণ মাঠ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যাপক প্যাট্রিক সরগেলুস, ড. মুহাম্মদ মীজানুর রহমান, ড. মোহাম্মদ গোলাম হোসেন, ড. এ.টি.এম. ফারুক-উল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৯ সেপ্টেম্বর (কর্মশালার তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!