📌 বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়া ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বাণিজ্য বাড়ানোর লক্ষ্যে পিটিএ আলোচনা পুনরায় শুরু করছে। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে ইন্দোনেশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ আনিস মাত্তারের বৈঠকে তৈরি পোশাক, ওষুধ ও কৃষিপণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়
বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরো জোরদার করার লক্ষ্যে বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বুধবার (৭ অক্টোবর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ইন্দোনেশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ আনিস মাত্তারের সঙ্গে বৈঠকে উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চায়নে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়। বৈঠকে উভয় পক্ষ একমত হয় যে, বর্তমান বাণিজ্য ঘাটতি দূর করে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বাণিজ্য সম্পন্ন করা সম্ভব।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বাণিজ্য ঘাটতি দূর করে বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়া বাণিজ্য ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি করা সম্ভব বলে মনে করা হয়
- 📌 বর্তমানে বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়া বাণিজ্যের পরিমাণ ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যার মধ্যে বাংলাদেশের আমদানি ৩.৫ বিলিয়ন ডলার এবং রপ্তানি মাত্র ৫৬ মিলিয়ন ডলার
- 📌 ইন্দোনেশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের ওষুধ, আলু ও ভ্যাকসিনের রপ্তানি বাড়ানোর জন্য জটিলতা দূর করার আলোচনা হয়
- 📌 ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যালস পণ্য নিয়ে ‘সোলো এক্সিবিশন’ আয়োজনের প্রস্তাব স্বাগত জানানো হয়
- 📌 পিটিএ আলোচনা পুনরায় শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়, যা ২০২৩ সাল থেকে স্থবির ছিল
- 📌 আগামী ১৪ থেকে ১৮ অক্টোবর ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানানো হয়
- 📌 ইন্দোনেশিয়ার পারতামিনা কোম্পানিকে বাংলাদেশের এসপিএম টার্মিনাল পরিচালনার অনুমোদন এবং কয়লা আমদানি বাড়ানোর আলোচনা হয়
- 📌 বাংলাদেশি আলু রপ্তানির জন্য পরীক্ষাগার ও নিবন্ধন জটিলতা দূর করার জন্য পারস্পরিক স্বীকৃতি প্রস্তাব করা হয়
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে বছরে প্রায় ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাণিজ্য হয়। এর মধ্যে ইন্দোনেশিয়া থেকে বাংলাদেশের আমদানি প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন ডলার, অন্যদিকে বাংলাদেশের রপ্তানি মাত্র ৫৬ মিলিয়ন ডলার। তিনি বলেন, বাজারে প্রবেশের বাধাগুলো দূর করা গেলে দুই দেশের বাণিজ্য ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি করা সম্ভব।
বৈঠকে পিটিএ (অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি), সিইপিএ (সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি), জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল সনদের পারস্পরিক স্বীকৃতি এবং বাংলাদেশি আলু, ওষুধ ও ভ্যাকসিনের ইন্দোনেশিয়ার বাজারে প্রবেশের বিষয়গুলো আলোচিত হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের ওষুধ ও ফার্মাসিউটিক্যালস পণ্য উৎপাদিত হয় এবং এসব পণ্য বিশ্বের ১০০টির বেশি দেশে রপ্তানি করা হয়। তিনি ইন্দোনেশিয়ার সহযোগিতা চান ওষুধ নিবন্ধনসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়াগত জটিলতা কমাতে।
ইন্দোনেশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ আনিস মাত্তার বলেন, বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে টেক্সটাইল ও পোশাকশিল্পে প্রতিযোগিতা থাকলেও সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তিনি আগামী ১৪ থেকে ১৮ অক্টোবর ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রদর্শনীর সময় দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠকের প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী ও প্রতিনিধিদলকে ওই প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানান।
বৈঠকে জ্বালানি ও কৃষিপণ্য নিয়েও আলোচনা হয়। ইন্দোনেশিয়ার পারতামিনা কোম্পানাকে বাংলাদেশের এসপিএম টার্মিনাল পরিচালনার অনুমোদন এবং বাংলাদেশের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লা আমদানি বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশি আলু রপ্তানির ক্ষেত্রে পরীক্ষাগার ও নিবন্ধন জটিলতা দূর করতে দুই দেশের পরীক্ষার ফলাফলের পারস্পরিক স্বীকৃতির প্রস্তাব দেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
"বাজারে প্রবেশের বাধাগুলো দূর করা গেলে দুই দেশের বাণিজ্য ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি করা সম্ভব"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জাকার্তা (ইন্দোনেশিয়া)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির (বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী), মোহাম্মদ আনিস মাত্তার (ইন্দোনেশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাণিজ্য লক্ষ্য), ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (বর্তমান বাণিজ্য), ৩.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (আমদানি), ৫৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (রপ্তানি), ১০০টি দেশ (ওষুধ রপ্তানি), ১৪-১৮ অক্টোবর (বাণিজ্য প্রদর্শনী)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!