📌 ভারতের দিল্লিতে আজ শুরু হয়েছে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ কার্যদল বৈঠক। স্থলবন্দর বাধা দূরীকরণ, পাটপণ্যে ভারতের শুল্ক পুনর্বিবেচনা ও বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে আলোচনা হবে। বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল নেতৃত্বে ১০ সদস্যের দল অংশগ্রহণ করছে
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ কার্যদল (জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ) বৈঠক। এই দুই দিনব্যাপী বৈঠকে স্থলবন্দরের বাধা দূরীকরণ, পাটপণ্যে ভারতের শুল্ক পুনর্বিবেচনা ও বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে আলোচনা হবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য হলো পাটপণ্যে ভারতের নতুন শুল্কের বিষয়টি সমাধান করা এবং আমদানি-রপ্তানির সুবিধা পুনরুদ্ধার করা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **দিল্লিতে শুরু** বাংলাদেশ-ভারত যৌথ কার্যদল বৈঠক, যা দুই দিনব্যাপী চলবে।
- 📌 **বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তার** নেতৃত্বে ১০ সদস্যের বাংলাদেশি প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করছে।
- 📌 **স্থলবন্দর বাধা দূরীকরণ**, পাটপণ্যে ভারতের শুল্ক পুনর্বিবেচনা ও বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে আলোচনা হবে।
- 📌 **পাটের সুতা ও টুইনের ওপর ভারতের সর্বোচ্চ শুল্ক** নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি টনে ৪৪৫ ডলার।
- 📌 **২০২৫ সালের এপ্রিলে** বাংলাদেশ বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারতীয় সুতা আমদানির বিধিনিষেধ বাতিল করে।
- 📌 **২০২৫–২৬ অর্থবছরে বেনাপোল বন্দর দিয়ে রপ্তানি** হয় ১ লাখ ৮৯ হাজার ৩৫৮ টন পণ্য, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় কম।
- 📌 **বৈঠকের আগে** বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা স্থলবন্দরের বিধিনিষেধ প্রত্যাহার ও ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন।
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ-ভারত যৌথ কার্যদল বৈঠক এই বছর তৃতীয় বার দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই বৈঠকে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার পাশাপাশি দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর উপায় আলোচনা হবে। বাংলাদেশি পাটপণ্যে ভারতের নতুন শুল্ক এবং ভারতীয় সুতা আমদানিতে বাংলাদেশের বিধিনিষেধও আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই বৈঠকের আগের বার ২০২৩ সালের ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায় এবং ২০২২ সালের ২ ও ৩ মার্চ দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়। এর ফলে নিয়মিত বৈঠক নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত হয়নি।
২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ বেনাপোল, ভোমরা, সোনামসজিদ, বাংলাবান্ধা ও বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় সুতা আমদানির সুবিধা বন্ধ করে দেয়। এর ফলে স্থলপথের বাণিজ্যে বাধা সৃষ্টি হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ভারত বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, প্লাস্টিক ও পিভিসি সহ বিভিন্ন পণ্য স্থলপথে আমদানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করে।
২০২৫–২৬ অর্থবছরে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারতে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি হয় ১ লাখ ৮৯ হাজার ৩৫৮ টন, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় কম। তবে রপ্তানি আয় প্রায় একই ছিল — ২০২৫–২৬ অর্থবছরে ১৭৫ কোটি ডলার এবং আগের অর্থবছরে ১৭৬ কোটি ডলার।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে আমদানি করা পাটের সুতা ও টুইন, হেসিয়ান কাপড়, পাটের বস্তা ও স্যাকিং ক্লথের ওপর সংশোধিত অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক আরোপ করেছে। বাংলাদেশি পাটের সুতা ও টুইনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি টনে ৪৪৫ ডলার। ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নতুন শুল্কের হার আগের শুল্কের মধ্যবর্তী পর্যালোচনার ভিত্তিতে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
"বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করার জন্য এই বৈঠকে আলোচনা হবে। পাটপণ্যে ভারতের নতুন শুল্ক এবং সুতা আমদানির বিধিনিষেধও আলোচনার মূল বিষয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দিল্লি, ভারত
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: আয়েশা আক্তার (বাংলাদেশি প্রতিনিধিদলের নেতা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ সদস্যের প্রতিনিধিদল, ১ লাখ ৮৯ হাজার ৩৫৮ টন রপ্তানি, ৪৪৫ ডলার শুল্ক
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!