📌 চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিং শহরে বাংলাদেশি পণ্যের স্থায়ী প্রদর্শন কেন্দ্র ও গুদাম বরাদ্দ পেয়েছে বাংলাদেশ। এই সুবিধা থেকে চীনের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধির আশা করা হচ্ছে। চীনের বাণিজ্য বিভাগ বিনা মূল্যে প্রায় ৪ হাজার বর্গফুট জায়গা প্রদান করেছে।
চীনের ইউনান প্রদেশের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক শহর কুনমিংয়ে বাংলাদেশি পণ্যের স্থায়ী প্রদর্শন কেন্দ্র ও গুদাম স্থাপনের জন্য চীনের ইউনান প্রদেশের বাণিজ্য বিভাগের রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)কে বিনা মূল্যে প্রায় ২ হাজার বর্গফুট প্রদর্শনকেন্দ্র এবং ২ হাজার বর্গফুট গুদাম বরাদ্দ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এই সুবিধা বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের জন্য একটি বড় সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে চীনের বাজারে সারা বছর বাংলাদেশি পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিং শহরে বাংলাদেশি পণ্যের জন্য বিনা মূল্যে প্রায় ৪ হাজার বর্গফুট স্থায়ী প্রদর্শন কেন্দ্র ও গুদাম বরাদ্দ পেয়েছে বাংলাদেশ।
- 📌 চীনের ইউনান প্রদেশের বাণিজ্য বিভাগের লানচাং-মেকং উপ-আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য উন্নয়ন কেন্দ্রের উপপরিচালক লিউ জিয়ের নেতৃত্বে গত বছরের মে মাসে বাংলাদেশ সফরকারী প্রতিনিধিদলকে এই সুবিধা প্রদানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
- 📌 বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিসিআই) সভাপতি মোহা. খোরশেদ আলম জানান, চীনের রাষ্ট্রদূত তাঁকে নিশ্চিত করেছেন যে, কুনমিংয়ে স্থায়ী প্রদর্শনকেন্দ্র ও গুদাম বরাদ্দের বিষয়টি সত্য।
- 📌 ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ২১৪ কোটি মার্কিন ডলার আমদানি এবং ৮২ কোটি মার্কিন ডলার রপ্তানি।
- 📌 চীন সরকার ২০২০ সালে বাংলাদেশের ৯৭ শতাংশ পণ্যে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা চালু করে, যা পরে ২০২৪ সালে প্রসারিত হয়।
📰 বিস্তারিত
চীনের ইউনান প্রদেশের বাণিজ্য বিভাগের রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) জানিয়েছে, কুনমিংয়ের একটি বিপণিবিতানে বাংলাদেশি পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির জন্য স্থায়ী জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই বিপণিবিতানে ইতিমধ্যে কয়েকটি দেশের পণ্য প্রদর্শনের জন্য স্থায়ী জায়গা রয়েছে। ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, প্রদর্শনকেন্দ্রটি পরিচালনার জন্য চীনের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে এবং চলতি বছরের মধ্যেই কেন্দ্রটি চালু করার আশা করা হচ্ছে।
গত বছরের ডিসেম্বরে ইউনান প্রদেশের টংদে কুনমিং প্লাজায় আয়োজিত ফল উৎসবে ইপিবি ও ইউনান প্রদেশের বাণিজ্য বিভাগের মধ্যে স্থায়ী পণ্য প্রদর্শনকেন্দ্র ও গুদাম স্থাপনের বিষয়ে সমঝোতা চুক্তি সই হয়। ওই ফল উৎসবে বাংলাদেশের নয়জন ফল উৎপাদক ও রপ্তানিকারকের একটি দল অংশ নেয়। ইপিবি জানিয়েছে, বিনা ভাড়ায় প্রদর্শনকেন্দ্র ও গুদাম সুবিধার পাশাপাশি ইউনানের নির্ধারিত অনলাইন কমোডিটি সিটিতে বিনা মূল্যে প্রবেশের সুযোগও পাবেন বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা। এছাড়াও, তাজা ও দ্রুত পচনশীল কৃষিপণ্যের জন্য দ্রুত শুল্ক খালাসের সুবিধাও থাকবে।
বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিসিআই) সভাপতি মোহা. খোরশেদ আলম বলেন, কুনমিংয়ে স্থায়ী প্রদর্শনকেন্দ্র ও গুদাম বরাদ্দের বিষয়টি চীনের রাষ্ট্রদূত তাঁকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি মনে করেন, এটি বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের জন্য একটি বড় সুযোগ। তিনি আরও জানান, গত বছর চীন সরকারের কাছে সাতটি স্থানে স্থায়ী প্রদর্শনকেন্দ্র ও গুদামের অনুরোধ করা হলেও আপাতত একটি জায়গা পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, চীনের বাজারে যেসব পণ্যের উৎপাদন কমে যাচ্ছে বা কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, সেসব পণ্য বাংলাদেশ থেকে রপ্তানির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা যেতে পারে। তবে চীনের বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে মানসম্পন্ন পণ্য সরবরাহের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
"কুনমিংয়ে স্থায়ী প্রদর্শনকেন্দ্র বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সুযোগ। এর মাধ্যমে চীনের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের পরিচিতি ও রপ্তানি বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হবে। কোন কোন পণ্য সেখানে প্রদর্শন করা হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।"
ইপিবির কর্মকর্তারা জানান, গত জুনে সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কুনমিংয়ে প্রস্তাবিত পণ্য প্রদর্শনকেন্দ্র ও গুদাম পরিদর্শন করেছেন। যে বিপণিবিতানে বাংলাদেশকে জায়গা দেওয়া হচ্ছে, সেখানে চীনের পাইকারি ব্যবসায়ীদের নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে। ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, চীনের বাজারে চাহিদাসম্পন্ন পণ্য নির্বাচন করা হবে এবং দেশটির নির্ধারিত কমপ্লায়েন্স ও মানদণ্ড বিবেচনায় নিয়ে পণ্য প্রদর্শন করা হবে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কুনমিং, ইউনান প্রদেশ, চীন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোহাম্মদ হাসান আরিফ (ইপিবি ভাইস চেয়ারম্যান), মোহা. খোরশেদ আলম (বিসিসিসিআই সভাপতি), লিউ জিয়ের (উপপরিচালক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২ হাজার বর্গফুট (প্রদর্শনকেন্দ্র), ২ হাজার বর্গফুট (গুদাম), ২ হাজার ২১৪ কোটি মার্কিন ডলার (আমদানি), ৮২ কোটি মার্কিন ডলার (রপ্তানি), ৯৭ শতাংশ (শুল্কমুক্ত পণ্য)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!