📌 হরমুজ প্রণালির অবরুদ্ধতার কারণে বিশ্বব্যাপী রাসায়নিক সারের দাম ৮০% বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশে সারের ৮৫% আমদানি নির্ভরতা থাকায় কৃষকদের সামনে চরম সংকট সৃষ্টি হয়েছে। জৈব বিকল্পের দিকে ঝুঁকে কৃষকরা কেঁচো সার ও প্রাকৃতিক কীটনাশক ব্যবহার করছেন।
হরমুজ প্রণালির অবরুদ্ধতা ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বিশ্বব্যাপী রাসায়নিক সারের দাম ৮০% বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের কৃষি খাতে। বাংলাদেশের কৃষকদের সামনে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের তীব্র সংকট সৃষ্টি হয়েছে। সার ও কীটনাশকের এই সংকটের কারণে দেশের খাদ্য উৎপাদন ও কৃষি খাতের উপর চরম চাপ পড়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ হওয়ায় বাংলাদেশে রাসায়নিক সারের দাম ৮০% বৃদ্ধি পেয়েছে
- 📌 বাংলাদেশের প্রায় ৮৫% রাসায়নিক সার আমদানি নির্ভরতা থাকায় সংকটের খেসারত দিচ্ছে কৃষকদের
- 📌 ইউরিয়ার ৩০% ও অ্যামোনিয়ার ২৫% হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বব্যাপী সরবরাহ হয়, সংঘাতের কারণে বাজারে সংকট
- 📌 দেশের পাঁচটি প্রধান ইউরিয়া কারখানার মধ্যে চারটি উৎপাদন বন্ধ, ধান রোপণের মৌসুমে সারের সংকট চরম
- 📌 প্রতিদিন ৪৯ হাজার টন কীটনাশক প্রয়োজন হলেও সংকটের কারণে ফসল পোকামাকড়ের আক্রমণে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে
- 📌 গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্সে ১২৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৪তম, মাঝারি মাত্রার ক্ষুধাপীড়িত দেশ
- 📌 বাংলাদেশের ৯৫% কৃষক অতিরিক্ত মাত্রায় সার ব্যবহার করেন, অনেক ক্ষেত্রে সুপারিশকৃত মাত্রার ২ থেকে ৫ গুণ বেশি
- 📌 টাঙ্গাইলের মধুপুরে কৃষকরা কেঁচো সার ব্যবহার করে সফলভাবে আনারস চাষ করছেন
- 📌 ঝিনাইদহের নারী কৃষকরা রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ত্যাগ করে প্রাকৃতিক জৈব উপায়ে কৃষি করছেন
📰 বিস্তারিত
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের কৃষি খাতের উপর রাসায়নিক সারের অতিরিক্ত নির্ভরতা মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। বিশ্বে শিল্পভিত্তিক কৃষির মডেল মূলত একফসলি চাষ ও জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে তৈরি নাইট্রোজেন সারের ওপর নির্ভরশীল। তবে এই মডেল দীর্ঘ মেয়াদে মাটির পিএইচ মাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমিয়ে দেয়, ফলে মাটি অতিরিক্ত অম্লীয় হয়ে পড়ে এবং প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদানগুলো উদ্ভিদ শোষণ করতে পারে না। এছাড়াও মাটির বন্ধু কেঁচো ও উপকারী অণুজীব মারা যায়।
২০১৫-২০১৭ সালের জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউটের সমীক্ষায় দেখা গেছে, জরিপ করা ১০ হাজার ক্যানসার রোগীর মধ্যে অন্তত ১০০ জনই কৃষক। অনিয়ন্ত্রিত কীটনাশক ও সার ছিটানোর কারণে এই রোগের ঝুঁকি বেড়েছে। এছাড়াও, পেট্রলের প্যানিক বাইয়িং ও পরিবহনব্যবস্থার স্থবিরতার কারণে খুচরা বাজারে সবজি ও ফলের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে।
বাংলাদেশ প্রতিবছর প্রায় ২৭ হাজার টন তেলবীজ আমদানি করে। এই নির্ভরতা কমাতে বীজ বিজ্ঞানীরা দেশীয় বীজ নিয়ে গবেষণা করছেন। এই বীজ স্থানীয় জলবায়ু, মাটি ও বৃষ্টির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারে এবং অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ছাড়াই স্বাভাবিক ফলন দেয়।
"বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের ৯৫ শতাংশ কৃষক অতিরিক্ত মাত্রায় নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম ও সালফার ব্যবহার করেন। অনেক ক্ষেত্রে কৃষক সুপারিশকৃত মাত্রার চেয়ে ২ থেকে ৫ গুণ বেশি সার ব্যবহার করেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ (বিশেষত টাঙ্গাইল ও ঝিনাইদহ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কৃষকদের, নারী কৃষকরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮৫% (রাসায়নিক সার আমদানি), ৮০% (সারের দাম বৃদ্ধি), ৪৯ হাজার টন (দৈনিক কীটনাশক প্রয়োজন), ৯৫% (অতিরিক্ত সার ব্যবহারকারী কৃষক), ২-৫ গুণ (সুপারিশকৃত মাত্রার চেয়ে বেশি সার)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!