📌 বাংলাদেশের ইপিজেডে সর্বোচ্চ বিনিয়োগ করেছে চীন। ৩৮টি দেশের বিনিয়োগের মোট পরিমাণ ৭৪২ কোটি মার্কিন ডলার। গত তিন বছরে ৭৩টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে, যার মধ্যে ৪৬টি চীনা প্রতিষ্ঠান। বৈচিত্র্যময় পণ্য উৎপাদনে জোর দেওয়া হচ্ছে
বাংলাদেশের ইপিজেড (ইকোনমিক জোন) বিনিয়োগে চীন শীর্ষে রয়েছে। বেপজা (বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ) কর্তৃক প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চীনের বিনিয়োগের পরিমাণ সর্বোচ্চ ১৭৮ কোটি ২৫ লাখ মার্কিন ডলার। এছাড়াও, গত তিন বছরে ইপিজেডে নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও চীন এগিয়ে রয়েছে। বেপজা ৭৩টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জমি ইজারা চুক্তি সম্পন্ন করেছে, যার মধ্যে ৪৬টি প্রতিষ্ঠান চীনা মালিকানাধীন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **চীন** সর্বোচ্চ বিনিয়োগ করেছে বাংলাদেশের ইপিজেডে — **১৭৮ কোটি ২৫ লাখ মার্কিন ডলার**।
- 📌 **৩৮টি দেশের** বিনিয়োগের মোট পরিমাণ **৭৪২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার**।
- 📌 **গত তিন বছরে** বেপজা **৭৩টি প্রতিষ্ঠানের** সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করেছে, যার মধ্যে **৪৬টি চীনা প্রতিষ্ঠান**।
- 📌 **দক্ষিণ কোরিয়া (১২০ কোটি ডলার), জাপান (৬৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার), যুক্তরাষ্ট্র (৪২ কোটি ডলার)** — শীর্ষ তিনটি বিনিয়োগকারী দেশ।
- 📌 **ইপিজেডে** বর্তমানে **৩৩% তৈরি পোশাক, ১৮% পোশাক উপকরণ** রপ্তানি করা হয়। বাকি **৪১%** বৈচিত্র্যময় পণ্য উৎপাদন করে।
- 📌 **বৈচিত্র্যময় পণ্য** উৎপাদন করছে নতুন প্রতিষ্ঠান — ড্রোন, ব্লুটুথ হেডফোন, ক্যাম্পিং সামগ্রী, ইলেকট্রনিক আইটেমসহ।
- 📌 **বেপজা** ঢাকা ও চট্টগ্রামে ‘মিট দ্য ইনভেস্টরস’ অনুষ্ঠান আয়োজন করে বিনিয়োগ আকর্ষণে।
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা) কর্তৃক প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৮টি ইপিজেড ও ২টি অর্থনৈতিক অঞ্চলে মোট ৩৮টি দেশের বিনিয়োগ রয়েছে। এসব বিনিয়োগের মোট পরিমাণ ৭৪২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার। চীনের বিনিয়োগ সর্বোচ্চ ১৭৮ কোটি ২৫ লাখ ডলার, যা অন্যান্য দেশের চেয়ে অনেক বেশি। ইপিজেডে বিনিয়োগের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশি উদ্যোক্তারা।
শীর্ষ ১০ বিনিয়োগকারী দেশের মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া (১২০ কোটি ডলার), জাপান (৬৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার), যুক্তরাষ্ট্র (৪২ কোটি ডলার), যুক্তরাজ্য (৩০ কোটি ডলার), শ্রীলঙ্কা (২৬ কোটি ডলার), ভারত (২৬ কোটি ডলার), কানাডা (১৪ কোটি ডলার) ও নেদারল্যান্ডস (১২ কোটি ডলার)।
গত তিন বছরে (২০২৪-২৫, ২০২৫-২৬ ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত) বেপজা ৭৩টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জমি ইজারা চুক্তি সম্পন্ন করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবিত বিনিয়োগের মোট পরিমাণ ১৩১ কোটি ৪৬ লাখ মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ৪৬টি প্রতিষ্ঠান চীনা মালিকানাধীন, যাদের প্রস্তাবিত বিনিয়োগ ৮৫ কোটি ৩৫ লাখ ডলার। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশি মালিকানাধীন ১৫টি প্রতিষ্ঠান, যাদের প্রস্তাবিত বিনিয়োগ ২০ কোটি ৬৩ লাখ ডলার।
বৈচিত্র্যময় পণ্য উৎপাদনে জোর দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে চালু থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৩৩% তৈরি পোশাক, ১৮% পোশাক উপকরণ ও ৮% বস্ত্রপণ্য রপ্তানি করা হয়। বাকি ৪১% প্রতিষ্ঠান বৈচিত্র্যময় পণ্য রপ্তানি করছে, যার মধ্যে রয়েছে তাঁবু, বাইসাইকেল, কসমেটিকস, হলিউড মাস্ক, ক্যাম্পিং ফার্নিচার, গলফ শ্যাফট, উইগ, ম্যানিকুইন, পাটপণ্য, এনার্জি সেভিং বাল্ব, খেলনা, চশমা, মোবাইল যন্ত্রাংশ, কার সিট হিটার, বাঁশের কফিন, পিপিই, ফেস মাস্ক, ব্রাইডাল গাউন, আইল্যাশ, কার্টন, পিভিসি অ্যাপ্রোন, সেফটি শু, ব্যাগ, লাগেজ ইত্যাদি।
বেপজা বিনিয়োগ আকর্ষণে উদ্যোগ নিচ্ছে। ঢাকা ও চট্টগ্রামে ‘মিট দ্য ইনভেস্টরস’ অনুষ্ঠান আয়োজন করে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করা হয়েছে। বেপজার নির্বাহী পরিচালক (জনসংযোগ) এ এস এম আনোয়ার পারভেজ বলেছেন, বেপজা বিশ্বাস করে বিদ্যমান বিনিয়োগকারীরাই নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের অন্যতম কার্যকর উপায়।
"বেপজা বিশ্বাস করে বিদ্যমান বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে পারস্পরিক আস্থা গড়ে তোলা নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের অন্যতম কার্যকর উপায়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম (ইপিজেড), ঢাকা, চট্টগ্রাম (মিট দ্য ইনভেস্টরস অনুষ্ঠান)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: এ এস এম আনোয়ার পারভেজ (বেপজা নির্বাহী পরিচালক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭৪২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার (মোট বিনিয়োগ), ১৭৮ কোটি ২৫ লাখ মার্কিন ডলার (চীনের বিনিয়োগ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!