📌 বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন বাজারে প্রতিযোগিতাবিরোধী কর্মকাণ্ড শনাক্ত ও দমনে আইন সংশোধনের মাধ্যমে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি ও তথ্য জব্দের ক্ষমতা চায়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ১৭ অক্টোবর খসড়া প্রকাশ করেছে, যেখানে ডিজিটাল বাজারের কারসাজি চিহ্নিতকরণ ও আলাদা আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠনেরও প্রস্তাব রয়েছে
বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন বাজারে প্রতিযোগিতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি ও তথ্য জব্দের ক্ষমতা চায়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ২০১২ সালের প্রতিযোগিতা আইন সংশোধনের খসড়া প্রকাশ করেছে, যেখানে এই ক্ষমতা প্রদানের পাশাপাশি ডিজিটাল বাজারের কারসাজি চিহ্নিতকরণ ও আলাদা আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। আইনি বাধা থাকায় এ পর্যন্ত কমিশন তদন্তের জন্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করতে পারছিল না।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **তল্লাশি ও তথ্য জব্দের ক্ষমতা চায় কমিশন**: ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ ও নথি-কম্পিউটার জব্দের ক্ষমতা পেতে চায় বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন।
- 📌 **ডিজিটাল বাজারের কারসাজি চিহ্নিতকরণ**: গ্রাহকের তথ্য নিয়ন্ত্রণ করে প্রতিদ্বন্দ্বীদের প্রবেশে বাধা দেওয়া বা স্বয়ংক্রিয় দাম নির্ধারণের মতো কর্মকাণ্ড আইনের আওতায় আসবে।
- 📌 **আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব**: কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল শুনতে আলাদা প্রতিযোগিতা আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব রয়েছে।
- 📌 **শাস্তি লাঘবের বিধান**: প্রতিযোগিতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রমাণ দিতে সহযোগিতা করলে শাস্তি কমাতে বা অব্যাহতি দেওয়ার সুযোগ থাকবে।
- 📌 **৫৪টি মামলায় কম ফল**: প্রতিষ্ঠার পর থেকে ৫৪টি মামলা করা হলেও উচ্চ আদালতে আটকে থাকায় ফল পাওয়া যায়নি বলে স্বীকার করেছেন কমিশন চেয়ারপারসন।
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারপারসন এ এইচ এম আহসান বলেছেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর আইন অনুসরণ করে আমাদের আইন যুগোপযোগী করা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে ৫৪টি মামলা করা হলেও অধিকাংশই উচ্চ আদালতে আটকে থাকায় ফল পাওয়া যায়নি। আইন সংশোধন হলে কমিশনের কার্যক্রম আরও গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ১৭ অক্টোবর খসড়া প্রকাশ করেছে, যার ওপর যে কেউ আগামী ৩০ দিনের মধ্যে মতামত দিতে পারবেন। খসড়ায় বলা হয়েছে, তদন্তের প্রয়োজনে নথিপত্র, হিসাবের বই, কম্পিউটার, সফটওয়্যার ও সংরক্ষিত তথ্য জব্দ করা যাবে। তল্লাশির সময় অন্তত দুজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে কার্যক্রম নথিবদ্ধ করা হবে।
সাবেক বাণিজ্যসচিব আতাউর রহমান খান বলেছেন, কমিশনকে আরও কার্যকর করতে আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, তল্লাশির ক্ষমতা পেলে বাজারে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হবে না। তবে এখনও চূড়ান্ত কিছু হয়ে যায়নি।
"প্রতিবেশী দেশগুলোর একই ধরনের আইন অনুসরণ করে আমাদের আইন যুগোপযোগী করা হচ্ছে। এতে কিছু অপ্রয়োজনীয় বিষয় বাদ যাব, যুক্ত হবে নতুন কিছু বিষয়।"
আপিলের জন্য আলাদা ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, চেয়ারম্যান হিসেবে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি অথবা অন্তত ২০ বছরের বিচারিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তি নিয়োগ হবে। অন্য সদস্যদের অর্থনীতি, আইন, ব্যবসা-বাণিজ্য বা সনদপ্রাপ্ত হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে ২০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: এ এইচ এম আহসান (কমিশন চেয়ারপারসন), আতাউর রহমান খান (সাবেক বাণিজ্যসচিব)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৪টি মামলা, ৩০ দিনের মতামত, ২০ বছরের অভিজ্ঞতা, ১৭ অক্টোবর খসড়া প্রকাশ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!