📌 বন ও পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব নয়, কিন্তু আগাম প্রস্তুতি ও অভিযোজন ক্ষয়ক্ষতিকে কমাতে পারে। তিনি জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও কৃষি খাতের উপর জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবের কথা উল্লেখ করেন
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব পুরোপুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়, কিন্তু সচেতন প্রস্তুতি ও অভিযোজন ক্ষয়ক্ষতিকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে। এ কথা বলেছেন বন ও পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কৃষি উৎপাদন, শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা এবং পানীয় জলের লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা অর্থনীতির জন্য চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি পুরোপুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব নয় — মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু
- 📌 ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩.৪ শতাংশ হতে পারে — বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস
- 📌 অতিবৃষ্টি, খরা ও বন্যা কৃষি ও কর্মসংস্থানের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে
- 📌 প্রতিবছর ২০-২২ লাখ কর্মসংস্থান চাহিদা পূরণে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে — মন্ত্রী
- 📌 জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর গুরুত্বপূর্ণ — প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ
📰 বিস্তারিত
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘জলবায়ু পরিবর্তন ও অর্থনীতির পুনর্বিন্যাস’ শীর্ষক আলোচনায় বন ও পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কৃষি উৎপাদন, শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা এবং পানীয় জলের লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে। অতিরিক্ত গরমে শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা কমছে, অনিয়মিত বৃষ্টিতে কৃষকের ফসল নষ্ট হচ্ছে। অন্যদিকে, লবণাক্ততা কৃষিজমি ও পানীয় জলের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, খরা ও বন্যার ক্ষতিকর প্রভাবও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
মন্ত্রী বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন কী এবং এর কারণে আমাদের কী ধরনের সমস্যা হতে পারে—এসব আমরা সবাই জানি। এখন এ থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে না। কিন্তু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা বা অভিযোজনের সক্ষমতা বাড়াতে পারলে ভবিষ্যতে ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব।’ বিশ্বব্যাংকের ৬ অক্টোবরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৩.৪ শতাংশ হতে পারে। মন্ত্রী বলেন, এটি অর্থনীতির সহনশীলতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা মনে করিয়ে দেয়।
কৃষিকে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, কৃষি শুধু খাদ্য উৎপাদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে গ্রামীণ কর্মসংস্থান, দারিদ্র্য হ্রাস, বাজারের স্থিতিশীলতা ও সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়গুলোও জড়িত। তিনি বলেন, দেশে সেচব্যবস্থার উন্নতি হলেও কৃষি এখনো অনেকাংশে আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল। প্রতিবছর ২০ থেকে ২২ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান প্রয়োজন পূরণে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বহুমুখী উদ্যোগ নেওয়ার দাবি করেন তিনি।
আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নে বাংলাদেশের অবদান কম হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতির শিকার দেশটি বেশি। লবণাক্ততা, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও বাস্তুচ্যুতির মতো সমস্যা মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করছে। তিনি বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর অর্থনীতি থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তর গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে সম্মিলিত আলোচনা ও উদ্যোগ জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় সহায়তা করতে পারে।
"জলবায়ু পরিবর্তন কী, এর কারণে আমাদের কী ধরনের সমস্যা হতে পারে—এসব আমরা সবাই জানি। এখন এ থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে না। কিন্তু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা বা অভিযোজনের সক্ষমতা বাড়াতে পারলে ভবিষ্যতে ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেল, ঢাকা
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: বন ও পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩.৪ শতাংশ (জিডিপি প্রবৃদ্ধি), ২০-২২ লাখ (কর্মসংস্থান চাহিদা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!