📌 বাংলাদেশে কার্ড-ভিত্তিক লেনদেনের প্রবৃদ্ধি দ্রুতগতিতে চলছে। পাঁচ বছরে কার্ডের মাধ্যমে লেনদেনের অর্থমূল্য ১০৩% বৃদ্ধি পেয়েছে, প্রিপেইড কার্ডের ব্যবহার ৮০৩% বৃদ্ধি পায়। বিদেশে বাংলাদেশি কার্ড ব্যবহারে ৯৮৭ কোটি টাকা ব্যয় হয়, যা দেশে বিদেশিদের কার্ড ব্যবহারের চেয়ে চারগুণ বেশি
বাংলাদেশে ডিজিটাল অর্থব্যবস্থার প্রসারে নতুন রেকর্ড গড়ছে কার্ড লেনদেন। পাঁচ বছরে কার্ডের মাধ্যমে লেনদেনের অর্থমূল্য ১০৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশের অর্থনীতিতে ডিজিটাল রূপান্তরের গতি দৃঢ়ভাবে প্রমাণ করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত সময়কালে কার্ডের সংখ্যা ৯৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পাঁচ বছরে কার্ড লেনদেনের অর্থমূল্য ১০৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, মাসিক লেনদেন ২৪ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৯ হাজার ৭৭০ কোটি টাকা
- 📌 প্রিপেইড কার্ডের ব্যবহার ৮০৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, ডেবিট কার্ড ৬৯ শতাংশ ও ক্রেডিট কার্ড ৫৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে
- 📌 ২০২১ সালের ২ কোটি ৭০ লাখ কার্ড থেকে বর্তমানে কার্ডের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ৩০ লাখ
- 📌 বিদেশে বাংলাদেশি কার্ড ব্যবহারে ৯৮৭ কোটি টাকা ব্যয় হয়, যা দেশে বিদেশিদের কার্ড ব্যবহারের চেয়ে চারগুণ বেশি
- 📌 ক্রেডিট কার্ডের সর্বোচ্চ ব্যয় হয় সুপারশপ ও ডিপার্টমেন্ট স্টোরে (৪৮.১৪ শতাংশ)
- 📌 ক্রেডিট কার্ডের অনুমোদিত মোট ঋণসীমা ৪৩ হাজার ১০৮ কোটি টাকা, গ্রাহকের বকেয়া পাওনা ১৪ হাজার ৪৮২ কোটি টাকা
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর শেষে দেশে মোট কার্ডের সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৭০ লাখ। বর্তমানে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ কোটি ৩০ লাখে। এই সময়কালে প্রিপেইড কার্ডের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে—৮০৩ শতাংশ। ডেবিট কার্ডের ব্যবহার ৬৯ শতাংশ এবং ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার ৫৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে মাসিক কার্ড লেনদেনের পরিমাণ ছিল ২৪ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা। কিন্তু ২০২৬ সালের আগস্টে এই পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ৪৯ হাজার ৭৭০ কোটি টাকা। এই প্রবৃদ্ধি দেশের অভ্যন্তরে ও বিদেশে উভয় ক্ষেত্রেই লক্ষ্য করা যায়। গত আগস্ট মাসে বিদেশে নিবন্ধিত কার্ড নিয়ে বাংলাদেশে বিদেশিরা লেনদেন করেছেন ২৪৯ কোটি টাকা। অন্যদিকে, বাংলাদেশি কার্ড দিয়ে বিদেশে ব্যয় করা হয়েছে ৯৮৭ কোটি টাকা—যা বিদেশিদের দেশে করা ব্যয়ের প্রায় চার গুণ।
ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহারে শীর্ষ স্থান অধিকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র (১৭.১৬ শতাংশ), এর পরেই রয়েছে থাইল্যান্ড, যুক্তরাজ্য ও ভারত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ক্রেডিট কার্ডের সার্বিক ব্যয়ে সামান্য মন্থরগতি লক্ষ্য করা গেছে। আগস্ট মাসে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে দেশে লেনদেন হয়েছে ৪ হাজার ৮৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা, যা জুলাই মাসের তুলনায় ৫.৪৪ শতাংশ কম। ক্রেডিট কার্ডের মোট খরচের সবচেয়ে বড় অংশ—প্রায় ৪৮.১৪ শতাংশ বা ১ হাজার ৯৬৯ কোটি টাকা—ব্যয় হয়েছে বিভিন্ন সুপারশপ ও ডিপার্টমেন্ট স্টোরে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, আগস্ট মাস শেষে বাজারে ইস্যুকৃত ক্রেডিট কার্ডের অনুমোদিত মোট ঋণসীমা ছিল ৪৩ হাজার ১০৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে গ্রাহকের কাছে ব্যাংকের বকেয়া পাওনা ১৪ হাজার ৪৮২ কোটি টাকা। তবে কার্ডের ব্যবহার দ্রুত বাড়লেও নগদ অর্থের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা, ডিজিটাল অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকি ডিজিটাল অর্থব্যবস্থার পূর্ণ প্রসারে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
"কার্ড লেনদেনের প্রবৃদ্ধি দেশের অর্থনীতিতে ডিজিটাল রূপান্তরের গতি দৃঢ়ভাবে প্রমাণ করছে। তবে নগদ অর্থের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকি এখনও প্রধান চ্যালেঞ্জ।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র, থাইল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, ভারত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: গ্রাহক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০৩ শতাংশ, ৯৬ শতাংশ, ৫ কোটি ৩০ লাখ, ৮০৩ শতাংশ, ৯৮৭ কোটি টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!