📌 বাংলাদেশ ব্যাংক প্রথমবারের মতো ত্রৈমাসিক মুদ্রানীতিতে প্রবেশ করেছে। মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ বিবেচনা করে নীতি সুদহার ৯.৫০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। অর্থনীতির পর্যবেক্ষণে থাকা সময়কাল নির্ধারণ করা হয়েছে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত
বাংলাদেশ ব্যাংক মূল্যস্ফীতির চাপ ও বৈশ্বিক ঝুঁকি বিবেচনা করে প্রথমবারের মতো ত্রৈমাসিক মুদ্রানীতিতে প্রবেশ করেছে। অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে নীতি সুদহার ৯ দশমিক ৫০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তে গত ২৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত মুদ্রানীতি কমিটির (এমপিসি) ১৪তম সভায় আলোচিত বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বাংলাদেশ ব্যাংক প্রথমবারের মতো ত্রৈমাসিক মুদ্রানীতিতে প্রবেশ করেছে; পর্যবেক্ষণকাল অক্টোবর-ডিসেম্বর পর্যন্ত
- 📌 নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে ৯ দশমিক ৫০ শতাংশে; আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যাংকগুলোর জরুরি তারল্য সহায়তার সুদহার ১১ শতাংশ ও আমানত গ্রহণের সুদহার ৭ দশমিক ৫০ শতাংশে বহাল রাখা হয়েছে
- 📌 জুনে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ থেকে আগস্টে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে নেমেছে, কিন্তু খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৩২ শতাংশে রয়ে গেছে
- 📌 জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও নতুন পে-স্কেলের সম্ভাব্য প্রভাবকে ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে
- 📌 বাংলা কিউআরভিত্তিক ডিজিটাল লেনদেনে মাত্র ৯০ দিনে লেনদেনের সংখ্যা সাড়ে তিন গুণ ও অর্থমূল্য প্রায় পাঁচ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. হাবিবুর রহমান জানান, মুদ্রানীতি কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। গত ৩১ জুলাই নীতি সুদহার ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে ১০ শতাংশ থেকে ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ করা হয়েছিল। তবে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে আশানুরূপ পরিবর্তন না হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি আগস্টে মাত্র ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশে নেমে এসেছে, যা অর্থনীতিতে বৈশ্বিক ঝুঁকি ও অভ্যন্তরীণ মূল্যস্ফীতির প্রকোপের সাক্ষ্য দেয়।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন মূল্যস্ফীতির সম্ভাব্য বৃদ্ধির বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির প্রভাবে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান অবস্থান পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন হতে পারে। অন্যদিকে, জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ও এমপিসির সদস্য ড. মুস্তফা কে মুজেরী বলেছেন, নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখার মাধ্যমে অর্থনীতির আচরণ পর্যবেক্ষণ করা হবে। মূল্যস্ফীতির প্রভাব, বিনিয়োগ, ঋণপ্রবাহ এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বর্তমান নীতির প্রভাব বোঝার জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বাংলা কিউআরভিত্তিক ডিজিটাল লেনদেনের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে। চলতি বছরের জুনে এই পদ্ধতিতে লেনদেন চালুর পর মাত্র ৯০ দিনে লেনদেনের সংখ্যা সাড়ে তিন গুণ এবং অর্থমূল্য প্রায় পাঁচ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় বাংলা কিউআরকে আরও সহজ ও বিস্তৃত করে তৃণমূল পর্যায়ে নিতে চলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
"নীতিনির্ধারকেরা আপাতত অপেক্ষা এবং পর্যবেক্ষণের অবস্থান নিয়েছেন। মূল্যস্ফীতির প্রভাব, বিনিয়োগ, ঋণপ্রবাহ এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বর্তমান নীতির প্রভাব বোঝার জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।"
"জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির প্রভাবে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: ডেপুটি গভর্নর ড. হাবিবুর রহমান, ড. মুস্তফা কে মুজেরী, ড. জাহিদ হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯.৫০ শতাংশ (নীতি সুদহার), ১১ শতাংশ (জরুরি তারল্য সহায়তার সুদহার), ৭.৫০ শতাংশ (আমানত গ্রহণের সুদহার), ৯০ দিনে সাড়ে তিন গুণ (লেনদেন সংখ্যা), প্রায় পাঁচ গুণ (লেনদেন অর্থমূল্য)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!