📌 বাংলাদেশ ব্যাংকের ৬২ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ঋণপ্যাকেজে বিতরণে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। চার মাসে মাত্র ১০ হাজার কোটি টাকা বিতরণ হয়েছে, যেখানে বন্ধ শিল্পের জন্য বরাদ্দ ২০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে মাত্র ৫০ কোটি টাকা বিতরণ হয়েছে। ঋণ বিতরণে ব্যাংক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণ হিসেবে মামলা প্রত্যাহারের শর্ত, খেলাপি ঋণ ও জামানতের ঘাটতি উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ৬২ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ঋণপ্যাকেজের বিতরণে ধীরগতি সৃষ্টি হয়েছে। চার মাসে মাত্র ১০ হাজার কোটি টাকা বিতরণের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতের জন্য বরাদ্দ ২০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে মাত্র ৫০ কোটি টাকা বিতরণ হয়েছে। ঋণগ্রহীতাদের হাতে পৌঁছেছে মাত্র এক হাজার কোটি টাকার কম। ঋণ বিতরণে ধীরগতির জন্য ব্যবসায়ী ও ব্যাংকাররা পরস্পরকে দোষারোপ করছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বাংলাদেশ ব্যাংকের ৬২ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ঋণপ্যাকেজে বিতরণ হয়েছে মাত্র ১০ হাজার কোটি টাকা
- 📌 বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতের জন্য বরাদ্দ ২০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে মাত্র ৫০ কোটি টাকা বিতরণ হয়েছে
- 📌 ঋণগ্রহীতাদের হাতে পৌঁছেছে মাত্র এক হাজার কোটি টাকার কম
- 📌 ঋণ বিতরণে ধীরগতি সৃষ্টির কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে মামলা প্রত্যাহারের শর্ত, খেলাপি ঋণ ও জামানতের ঘাটতি
- 📌 ব্যবসায়ীদের দাবি, ঋণ নিয়মিত করতে ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দেওয়ার মতো অর্থ থাকলে উদ্যোক্তারা কারখানা চালু রাখতে পারতেন
- 📌 বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণের শর্ত শিথিল এবং সুদের হার কমানোর চেষ্টা করছে
- 📌 ২৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে
- 📌 কুটির, ছোট, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই), কৃষি এবং উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতির জন্য বরাদ্দ তহবিল থেকেও এখন পর্যন্ত ঋণ বিতরণ হয়নি
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ ব্যাংকের ৬২ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ঋণপ্যাকেজের বিতরণে ধীরগতি সৃষ্টি হয়েছে। এই ঋণপ্যাকেজের লক্ষ্য ছিল বন্ধ কারখানা চালু করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে। তবে বর্তমানে বিতরণ হয়েছে মাত্র ১০ হাজার কোটি টাকা। বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতের জন্য বরাদ্দ ২০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে মাত্র ৫০ কোটি টাকা বিতরণ হয়েছে। ঋণগ্রহীতাদের হাতে পৌঁছেছে মাত্র এক হাজার কোটি টাকার কম।
ঋণ বিতরণে ধীরগতি সৃষ্টির কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে মামলা প্রত্যাহারের শর্ত, খেলাপি ঋণের চাপ, জামানতের ঘাটতি এবং উদ্যোক্তাদের অসম্পূর্ণ কাগজপত্র। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ব্যাংকগুলো ঋণ দিতে আগ্রহী নয়। অন্যদিকে ব্যাংকারদের দাবি, খেলাপি ঋণের চাপ, জামানতের ঘাটতি এবং উদ্যোক্তাদের অসম্পূর্ণ কাগজপত্রের কারণে ঋণ অনুমোদনে সময় লাগছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, ঋণ নিয়মিত করতে ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দেওয়ার মতো অর্থ থাকলে অনেক উদ্যোক্তার পক্ষে কারখানা চালু রাখাই সহজ হতো। তারা প্রণোদনার ঋণের শর্ত শিথিল এবং সুদের হার কমানোর দাবি জানিয়েছেন। তারা আরও দাবি করেছেন, বন্ধ বা আংশিক বন্ধ কারখানা পুনরুজ্জীবনের সম্ভাবনা যাচাই করে অর্থায়ন, প্রকল্পভিত্তিক ঋণ এবং একই গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান খেলাপি হলে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাংকিং সুবিধা চালু রাখা।
বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী বলেছেন, বন্ধ কারখানায় ঋণ দিয়ে ব্যাংকগুলো ঝুঁকি নিতে চায় না। তিনি আরও বলেছেন, ঋণের জন্য গেলে জামানত চাওয়া হচ্ছে। অথচ জামানত দেওয়ার সক্ষমতা থাকলে উদ্যোক্তারা এককালীন ঋণ নিষ্পত্তির সুবিধা নিতে পারতেন। তিনি বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা এবং চলতি মূলধনের সংকটে ভোগা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও সহায়তা দেওয়ার দাবি করেছেন।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেছেন, নতুন কারখানা তৈরি করতে বেশ কয়েক বছর সময় লাগে। তুলনামূলক কম সময়ে বন্ধ কারখানা চালু করা সম্ভব। তাই প্রণোদনার ঋণ বিতরণ বাড়াতে কিছু শর্ত শিথিল করা প্রয়োজন।
নারায়ণগঞ্জের উদ্যোক্তা আর বি নিটওয়্যারসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুবুর রহমানের অভিযোগ, তিনি ঋণের জন্য আবেদন করেছিলেন। বিকেএমইএর সুপারিশ থাকলেও ঋণ পাননি। তিনি উল্লেখ করেছেন, ঋণগ্রহীতার পুরোনো রিট বা অন্য মামলা চলমান থাকলে প্রণোদনা, নীতিগত সহায়তা কিংবা বিশেষ সুবিধা দেওয়ার আগে মামলা প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে।
"বন্ধ কারখানায় ঋণ দিয়ে ব্যাংকগুলো ঝুঁকি নিতে চায় না। ঋণের জন্য গেলে জামানত চাওয়া হচ্ছে। অথচ জামানত দেওয়ার সক্ষমতা থাকলে উদ্যোক্তারা এককালীন ঋণ নিষ্পত্তির সুবিধা নিতে পারতেন।"
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ শেষে অর্থঋণ আদালতসহ বিভিন্ন মামলায় আটকে থাকা মন্দ ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা। আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ৩ লাখ ২০ হাজার ৭৬১ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে মামলায় আটকে থাকা অর্থ বেড়েছে ৩ লাখ ২৭ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা, যা দ্বিগুণের বেশি। একই সময়ে মামলার সংখ্যা ২ লাখ ১৯ হাজার ৬৩৩ থেকে বেড়ে ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৫টিতে দাঁড়িয়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী, মাহমুদ হাসান খান, মাহবুবুর রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬২ হাজার কোটি টাকা (প্রণোদনা প্যাকেজ), ১০ হাজার কোটি টাকা (বিতরণ), ২০ হাজার কোটি টাকা (বন্ধ শিল্পের বরাদ্দ), ৫০ কোটি টাকা (বিতরণ), ১ হাজার কোটি টাকা (ঋণগ্রহীতাদের হাতে পৌঁছেছে), ৭ শতাংশ (সর্বোচ্চ সুদহার), ২৫ লাখ (কর্মসংস্থান লক্ষ্য), ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা (মামলায় আটকে থাকা ঋণ), ৩ লাখ ২৭ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা (বেড়েছে এক বছরে)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!