📌 রপ্তানিমুখী হিমায়িত খাদ্য ও মৎস্য খাতের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক দুই হাজার কোটি টাকার প্রাক্-অর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে। তিন বছর মেয়াদি এই তহবিলের সুদের হার সর্বোচ্চ সাত শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক রপ্তানিমুখী হিমায়িত খাদ্য ও মৎস্য খাতের বিদ্যমান অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দুই হাজার কোটি টাকার একটি নতুন প্রাক্-অর্থায়ন (প্রি-ফাইন্যান্সিং) তহবিল গঠন করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, উচ্চ মজুত ব্যয়, কোল্ড-চেইন পরিচালনার বিপুল খরচ এবং স্বল্প সুদে চলতি মূলধনের ঘাটতি মেটাতে এ খাতের ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন ছিল।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বাংলাদেশ ব্যাংক তিন বছর মেয়াদি দুই হাজার কোটি টাকার প্রাক্-অর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে
- 📌 তহবিলের আওতায় গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের সর্বোচ্চ সুদহার নির্ধারণ করা হয়েছে সাত শতাংশ
- 📌 অংশগ্রহণকারী তফসিলি ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে চার শতাংশ সুদে প্রাক্-অর্থায়ন সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে
- 📌 নতুন কারখানা স্থাপনে সর্বোচ্চ ৩০ কোটি টাকা এবং বিদ্যমান অবকাঠামো সংস্কারে সর্বোচ্চ ২০ কোটি টাকা ঋণ পাওয়া যাবে
- 📌 খেলাপি প্রতিষ্ঠান বা অন্য কোনো সরকারি তহবিলের সুবিধাভোগীরা এই তহবিল থেকে অর্থায়ন পাবে না
📰 বিস্তারিত
রপ্তানি বহুমুখীকরণ, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং গ্রামীণ অর্থনীতি সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক এই তহবিল গঠন করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ রোববার একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহীদের বিস্তারিত নির্দেশনা প্রদান করে।
তহবিলের আওতায় রপ্তানির উদ্দেশ্যে হিমায়িত চিংড়ি, মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য এবং রেডি-টু-কুক খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের সঙ্গে যুক্ত উৎপাদনকারী ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণ সুবিধা পাবে। তবে ব্যাংক-কোম্পানি আইন অনুসারে খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত কোনো প্রতিষ্ঠানকে এই তহবিল থেকে অর্থায়ন দেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে ইডিএফ, ইএফপিএফ কিংবা কৃষিভিত্তিক প্রাক্-অর্থায়নের মতো সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্য কোনো তহবিল থেকে সুবিধা চলমান থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো একই খাতের জন্য আবারও অর্থায়ন পাবে না।
নতুন কারখানা স্থাপনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩০ কোটি টাকা এবং বিদ্যমান অবকাঠামো সংস্কার, আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের জন্য সর্বোচ্চ ২০ কোটি টাকা মেয়াদি ঋণ পাওয়া যাবে। নতুন কারখানা স্থাপনের ক্ষেত্রে এক বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ঋণ পরিশোধের সর্বোচ্চ মেয়াদ হবে সাত বছর। সংস্কার বা আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে এক বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ পরিশোধের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর।
"উচ্চ মজুত ব্যয়, কোল্ড-চেইন পরিচালনার বিপুল খরচ এবং স্বল্প সুদে চলতি মূলধনের ঘাটতি মেটাতে এ খাতের ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন ছিল। সেই পরিপ্রেক্ষিতে দেশের রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক এই তহবিল গঠন করেছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: দুই হাজার কোটি টাকা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: সাত শতাংশ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: চার শতাংশ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০ কোটি টাকা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০ কোটি টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!