📌 বাংলাদেশ ব্যাংক জ্বালানি দাম বৃদ্ধি ও সরকারি কর্মচারীদের বেতনকাঠামোর কারণে মূল্যস্ফীতি আবার উসকে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে। নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক চাপের কথা উল্লেখ করা হয়েছে
বাংলাদেশ ব্যাংক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সংকোচনশীল নীতি অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও সরকারি কর্মচারীদের বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের কারণে মূল্যস্ফীতির আবারও বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা করা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মূল্যস্ফীতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ধীরে কমতে পারে, কিন্তু বৈশ্বিক-অভ্যন্তরীণ ঝুঁকি মূল্যস্ফীতিকে আবার উসকে দিতে পারে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক সতর্ক করেছে।
- 📌 জ্বালানি তেল ও সারের বৈশ্বিক দামের উচ্চতা দেশের বাজারকে উত্তপ্ত করতে পারে।
- 📌 জাতীয় বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের ফলে বাজারে অর্থ সরবরাহ বাড়লে মূল্যস্ফীতিকে উসকে দিতে পারে।
- 📌 নীতি সুদহার সাড়ে ৯ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। স্ট্যান্ডার্ড লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) ১১ শতাংশ এবং স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) সাড়ে ৭ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
- 📌 খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি এখনো ৯ দশমিক ৩২ শতাংশে স্থিতিশীল, যা সহজে নামছে না বলে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে।
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো. হাবিবুর রহমান আজ বুধবার সংবাদ সম্মেলনে ত্রৈমাসিক মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, চলতি বছরের জুনে দেশের সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ, যা আগস্টে কমে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি এখনো ৯ দশমিক ৩২ শতাংশে রয়েছে, যা বাজারের স্থায়ী চাপকে নির্দেশ করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক বাণিজ্য বিঘ্নিত হলে তা সরাসরি আমদানিতে আঘাত হানবে বলে আশঙ্কা করছে। এছাড়া জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের ফলে বাজারে অর্থ সরবরাহ বাড়লে তা মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সতর্ক করেছে।
মুদ্রানীতিতে সাম্প্রতিক সময়ে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও তা টেকসই মূল্যহ্রাসের পর্যাপ্ত প্রমাণ দেয় না। তাই মুদ্রানীতি শিথিল করা হলে মূল্যস্ফীতির আবারও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছে এবং মুদ্রানীতিতে আগের মতোই সংকোচনশীল ধারা বজায় রেখেছে।
"শুধু ঋণ দিয়ে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করা যাবে না। এ জন্য জ্বালানি ও অবকাঠামো–সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। সবাইকে স্বস্তি দিতে হবে।"
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি গভর্নর সরোয়ার হোসেন এবং আনিছুর রহমানসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারা। তারা বলেছেন, মূল্যস্ফীতির প্রধান ঝুঁকি হলো মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, জ্বালানি দাম বৃদ্ধি এবং নতুন বেতনকাঠামো। এছাড়া রাজস্ব খাতের চাপ এবং ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ ব্যাংক
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. হাবিবুর রহমান (ডেপুটি গভর্নর), সরোয়ার হোসেন, আনিছুর রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯.১৬%, ৮.২৬%, ৯.৩২%, ৯.০০%, ১১.০০%, ৭.০০%
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!