📌 বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন কাঠামো চালু করেছে যেখানে ভোস্ট্রো হিসাবের মাধ্যমে টাকায় বৈদেশিক লেনদেন সম্পন্ন করা যাবে। বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলোর ব্যাংকের নামে টাকা ভোস্ট্রো হিসাব খোলা ও পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা রপ্তানি-আমদানি এবং বৈদেশিক বিনিয়োগে সহায়ক হবে
বাংলাদেশ ব্যাংক বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নন-রেসিডেন্ট টাকা (ভোস্ট্রো) হিসাব পরিচালনার নতুন কাঠামো চালু করেছে। এই ব্যবস্থায় বৈদেশিক লেনদেনের সময় টাকায় অর্থনৈতিক কার্যক্রম সম্পন্ন করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলোর ব্যাংকের নামে পরিচালিত টাকা ভোস্ট্রো হিসাবেই এই লেনদেন সম্পন্ন করা যাবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন কাঠামো চালু করেছে যেখানে ভোস্ট্রো হিসাবের মাধ্যমে টাকায় বৈদেশিক লেনদেন সম্পন্ন করা যাবে
- 📌 বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলোর ব্যাংকের নামে টাকা ভোস্ট্রো হিসাব খোলা সম্ভব, বৈদেশিক মুদ্রা জমা না করে
- 📌 রপ্তানি-আমদানি লেনদেনের সময় টাকায় অর্থ পরিশোধ করা যাবে, পরবর্তীতে বৈদেশিক মুদ্রায় রূপান্তর
- 📌 টাকা ভোস্ট্রো হিসাব থেকে বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই, পোর্টফোলিও বিনিয়োগ) এবং ঋণ প্রদানের সুযোগ
- 📌 অতিরিক্ত টাকা বাংলাদেশে বিনিয়োগ বা বিদেশে প্রেরণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলোর ব্যাংকের নামে পরিচালিত টাকা ভোস্ট্রো হিসাবেই এই লেনদেন সম্পন্ন করা যাবে। নতুন ব্যবস্থায় বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলোর ব্যাংকের নামে প্রাথমিকভাবে বৈদেশিক মুদ্রায় অর্থ জমা না নিয়েও বাংলাদেশে আমদানির বিপরীতে প্রাপ্য অর্থের ভিত্তিতে টাকা ভোস্ট্রো হিসাব খোলা ও পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
এই ব্যবস্থায় রপ্তানি মূল্য পরিশোধ এবং অন্যান্য অনুমোদিত কাজে টাকা ভোস্ট্রো হিসাবের অর্থ ব্যবহার করা যাবে। নতুন কাঠামোতে ঋণপত্র (এলসি), চুক্তি ও ইনভয়েস বিনিময়যোগ্য বা অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রায় সম্পাদিত হবে। পরবর্তীতে প্রচলিত বিনিময় হার ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট বৈদেশিক মুদ্রার মূল্য টাকা হিসেবে রূপান্তর করে ভোস্ট্রো হিসাবের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হবে।
আমদানি লেনদেনের ক্ষেত্রে আমদানিকারকের নিকট থেকে প্রাপ্ত অর্থ টাকা ভোস্ট্রো হিসাব হিসাবে জমা হবে। অন্যদিকে, রপ্তানি লেনদেনের ক্ষেত্রে এসব হিসাব থেকে রপ্তানিকারকের অনুকূলে অর্থ পরিশোধ করা যাবে। এ ব্যবস্থার আওতায় প্রচলিত বৈদেশিক মুদ্রা বিধিমালা অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট আমদানি ও রপ্তানির বিপরীতে অগ্রিম অর্থ পরিশোধের সুযোগও রাখা হয়েছে।
টাকায় রপ্তানি আয় গ্রহণকারী রপ্তানিকারকদের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণ সুবিধা চালু করা হয়েছে। এসব বৈদেশিক মুদ্রা রপ্তানি পণ্যের কাঁচামাল আমদানি এবং ইডিএফ ঋণ পরিশোধসহ প্রাধিকারভুক্ত বৈদেশিক মুদ্রা দায় পরিশোধে ব্যবহার করা যাবে। টাকা ভোস্ট্রো হিসাব থেকে অতিরিক্ত অর্থ বাংলাদেশে বিনিয়োগের কাজে ব্যবহার করা যাবে, যেমন: বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই), বৈদেশিক পোর্টফোলিও বিনিয়োগ, বিকল্প বিনিয়োগ তহবিল এবং ওপেন অ্যান্ড মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ। প্রয়োজনীয় অনুমোদন সাপেক্ষে এসব অর্থ নিবাসী প্রতিষ্ঠানে ঋণ প্রদান করা যাবে এবং এর স্থিতি বিদেশে প্রেরণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
"শিল্প-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, উপযুক্ত বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে বৈশ্বিক লেনদেনে টাকার ব্যবহার বাড়াতে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিষ্পত্তির পদ্ধতিতে বহুমুখীকরণে এ উদ্যোগ সহায়ক হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: বাংলাদেশ ব্যাংক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৩ সেপ্টেম্বর (প্রজ্ঞাপন জারি তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!