📌 বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের পারাপার থেকে বেবিচক কর্তৃপক্ষ ২০২৫-২৬ সালে ৮০৫ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে। আধুনিক রাডার ও ডিজিটাল বিলিং ব্যবস্থার কারণে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি দ্রুত বাড়ছে। এয়ার কমডোর মো. নূর-ই-আলম বলেছেন, প্রতি বছর রাজস্ব বাড়ছে এবং বাংলাদেশের আকাশপথ ব্যবহারের আস্থা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বাংলাদেশের আকাশপথে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের পারাপার থেকে বেবিচক কর্তৃপক্ষ ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত মোট ৮০৫ কোটি ১ লাখ ৬০ হাজার ৩৬৫ টাকা ২০ টাকার রাজস্ব আদায় করেছে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ইউরোপ-মধ্যপ্রাচ্য রুটের মূল সংযোগস্থলে অবস্থান করায় বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহার করে বিশ্বের শত শত বিমান পারাপার করে। এতে দেশের আকাশপথের রাজস্ব প্রবৃদ্ধি দ্রুত বাড়ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০২৫-২৬ সালে বাংলাদেশের আকাশপথে ওভারফ্লাই ফি থেকে মোট ৮০৫ কোটি ১ লাখ ৬০ হাজার ৩৬৫ টাকা ২০ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে
- 📌 ২০২৫ সালের জুলাই-ডিসেম্বর: ৩৮৮ কোটি ১০ লাখ ১৫ হাজার ৪৫১ টাকা, ২০২৬ সালের জানুয়ারি-জুন: ৪১৬ কোটি ৯১ লাখ ৪৪ হাজার ৯১৪ টাকা রাজস্ব
- 📌 ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত মাসিক রাজস্ব ক্রমবর্ধমান: ৫৩ কোটি থেকে ৬২ কোটি টাকার মধ্যে
- 📌 আঞ্চলিক রাজনৈতিক জটিলতা ও নিরাপত্তা কারণে বহু আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন বাংলাদেশের আকাশপথ ব্যবহার করছে
- 📌 বেবিচকের আধুনিক রাডার ও ডিজিটাল বিলিং ব্যবস্থা রাজস্ব আদায়কে দ্রুত ও স্বচ্ছ করেছে
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের পারাপার বা ওভারফ্লাই থেকে রাজস্ব আদায় বাড়ছে। দেশের আকাশপথের সুসংহত ব্যবস্থাপনা, আধুনিক রাডার প্রযুক্তি এবং ভৌগোলিক কৌশলগত সুবিধার কারণে বিশ্বের শীর্ষ বিমান সংস্থাগুলো বাংলাদেশ রুট ব্যবহারের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিদিন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শত শত বাণিজ্যিক ও পণ্যবাহী বিমান বাংলাদেশের আকাশসীমা অতিক্রম করে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, প্রতিটি বিমানকে বাংলাদেশের আকাশপথ ব্যবহারের বিনিময়ে ‘ওভারফ্লাই চার্জ’ দিতে হয়।
বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বিগত এক বছরে (২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন) ওভারফ্লাই ফি বাবদ ৮০৫ কোটি ১ লাখ ৬০ হাজার ৩৬৫ টাকা ২০ টাকা রাজস্ব আয় করেছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত অর্জিত রাজস্বের পরিমাণ ছিল ৩৮৮ কোটি ১০ লাখ ১৫ হাজার ৪৫১ টাকা। আর পরবর্তী ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত আয়ের পরিমাণ ৪১৬ কোটি ৯১ লাখ ৪৪ হাজার ৯১৪ টাকায়। মাসিকভাবে দেখা যায়, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে আয় হয়েছিল ৫৩ কোটি ৫ লাখ টাকা, যা ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে বেড়ে দাঁড়ায় ৬৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকায়। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে আয় ৮০ কোটি ১৬ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যায়।
বেবিচকের এয়ার কমডোর মো. নূর-ই-আলম বলেছেন, ‘বিষয়টা ইতিবাচক হিসেবেই দেখছি। প্রতি বছরই এটা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। বাংলাদেশে যত বেশি ফ্লাইট আসবে তত বেশিই রাজস্ব বাড়বে। আমাদের প্রবৃদ্ধির যে ৬৮ শতাংশ বলেছি, এটা সেই ভাবেই এগোচ্ছে। আমাদের রাডার সিস্টেম সক্ষমতাও পর্যাপ্ত রয়েছে।’ এছাড়া, আঞ্চলিক আকাশসীমায় রাজনৈতিক বা ভৌগোলিক জটিলতার কারণে বহু আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন বাংলাদেশের ওপর দিয়ে রুট বেছে নিচ্ছে। বকেয়া মাশুল আদায়ে বেবিচকের কড়াকড়ি এবং ডিজিটাল বিলিং ব্যবস্থা চালুর ফলে এয়ারলাইনসগুলোর কাছ থেকে রাজস্ব আদায়ের প্রক্রিয়া আগের চেয়ে দ্রুত ও স্বচ্ছ হয়েছে।
"রাজস্ব আদায়ের বিষয়টি খুবই ইতিবাচক হিসেবে দেখছি। এয়ার স্পেস ম্যানেজমেন্ট যত বাড়বে ওভারফ্লাই চার্জ থেকে আয় আরও কয়েকগুণ বাড়ানো সম্ভব হবে।"
অবসরপ্রাপ্ত উইং কমান্ডার এ টি এম নজরুল ইসলাম বলেছেন, ‘২০২৫ সালে অত্যাধুনিক রেডার সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে এটা উপযুক্ত বলে মনে করছি। তবে এখানে জনবল সংকট আছে কিনা সেটি দেখতে হবে। অনেক সময় জনবল সংকটের জন্য বিমানবন্দরে অনেক কাজ করা যায় না। তাই এসব ক্ষেত্রেও নজরদারি রাখতে হবে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, বাংলাদেশের আকাশসীমা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: এয়ার কমডোর মো. নূর-ই-আলম, অবসরপ্রাপ্ত উইং কমান্ডার এ টি এম নজরুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮০৫ কোটি ১ লাখ ৬০ হাজার ৩৬৫ টাকা ২০ টাকা (মোট রাজস্ব), ৩৮৮ কোটি ১০ লাখ ১৫ হাজার ৪৫১ টাকা (২০২৫ সালের জুলাই-ডিসেম্বর), ৪১৬ কোটি ৯১ লাখ ৪৪ হাজার ৯১৪ টাকা (২০২৬ সালের জানুয়ারি-জুন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!