📌 বিশ্বের বৃহত্তম বাণিজ্যিক জোট আরসিইপিতে বাংলাদেশসহ চার দেশের অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া এগিয়ে দিতে বিশেষ গ্রুপ গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত আরসিইপি মন্ত্রী বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়
বিশ্বের বৃহত্তম বাণিজ্যিক জোটে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অতিক্রম করেছে। আরসিইপি (রিজিওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ) জোটের সদস্য দেশগুলোর মন্ত্রীরা বাংলাদেশসহ চারটি দেশের অন্তর্ভুক্তির জন্য বিশেষ (অ্যাডহক অ্যাকসেশন ওয়ার্কিং) গ্রুপ গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। এই সিদ্ধান্ত গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত পঞ্চম আরসিইপি মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে নেওয়া হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বিশেষ গ্রুপ গঠন: বাংলাদেশসহ চিলি, শ্রীলঙ্কা ও হংকং (চীন) অন্তর্ভুক্তির জন্য আনুষ্ঠানিক গ্রুপ গঠনের অনুমোদন পায় আরসিইপি সদস্যরা।
- 📌 ম্যানিলা বৈঠকে সিদ্ধান্ত: পঞ্চম আরসিইপি মন্ত্রী বৈঠকে (২১ সেপ্টেম্বর) এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
- 📌 আরসিইপি জোটের সদস্য: আসিয়ানভুক্ত ১০টি দেশের পাশাপাশি চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড এই জোটের সদস্য।
- 📌 বাংলাদেশের সুবিধা: এলডিসি থেকে উত্তরণে সহায়তা, শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা, সাপ্লাই চেইনে সংযোগ ও এফডিআই আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি।
- 📌 বৈঠকের প্রধান বিষয়: সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা, বাণিজ্য বাধা দূরীকরণ ও ডব্লিউটিও সংস্কারের ওপর আলোচনা করা হয়।
📰 বিস্তারিত
ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত আরসিইপি মন্ত্রী বৈঠকে বাংলাদেশসহ চারটি দেশের অন্তর্ভুক্তির জন্য একটি বিশেষ গ্রুপ গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই গ্রুপের কাজ হবে বাংলাদেশসহ আগ্রহী দেশগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা ও কারিগরি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া। আরসিইপি জোটের সদস্য দেশগুলোর মন্ত্রীরা এই সিদ্ধান্তে সম্মত হন। বৈঠকের যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, আরসিইপি চুক্তি একটি উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কাঠামো বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বিশ্লেষকদের মতে, আরসিইপি জোটে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি দেশের অর্থনীতিকে একটি নতুন মাত্রা দিতে পারে। বিশেষ করে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণে সহায়তা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা বজায় রাখা, বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে নিবিড় সংযোগ এবং সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণে এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। বৈঠকে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে নিবিড় সহযোগিতা ও গঠনমূলক সংলাপের মাধ্যমে একটি কার্যকর ও ভবিষ্যৎমুখী আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংহতি নিশ্চিত করার কথা বলা হয়।
বৈঠকে সদস্য দেশগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিদ্যমান অপ্রয়োজনীয় বাধা দূরীকরণের পাশাপাশি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) সংস্কারের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। ইন্দোনেশিয়ার বাণিজ্য উপমন্ত্রী দিয়াহ রোরো এস্তি উইদিয়া পুত্রি ও নিউজিল্যান্ডের পার্লামেন্টের পররাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্য কমিটির সদস্য ড. শেন রেটি এই বৈঠকের সহ-সভাপতিত্ব করেন।
"আরসিইপি চুক্তি একটি উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কাঠামো বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির রোডম্যাপ অনুযায়ী বাংলাদেশসহ আগ্রহী দেশগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা ও কারিগরি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে এ ওয়ার্কিং গ্রুপ কাজ করবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ম্যানিলা (ফিলিপাইন), আরসিইপি সদস্য দেশসমূহ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইন্দোনেশিয়ার বাণিজ্য উপমন্ত্রী দিয়াহ রোরো এস্তি উইদিয়া পুত্রি, নিউজিল্যান্ডের ড. শেন রেটি, আরসিইপি সদস্য মন্ত্রীরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০টি (আসিয়ান সদস্য), ৪টি (বাংলাদেশসহ অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদনকারী দেশ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!