📌 যুক্তরাষ্ট্রে শুল্কমুক্ত ওষুধ রফতানির সুবিধা পেতে বাংলাদেশের প্রস্তুতি নেওয়া হলেও ৩ বছরের কমবেশি সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. হালিমুজ্জামান। বিশেষায়িত ওষুধের রফতানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়ার পাশাপাশি কাঁচামালের আমদানি ও কারখানার উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ হিসেবে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে শুল্কমুক্ত ওষুধ রফতানির সুবিধা পেতে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ট্রাম্প সরকারের নতুন সিদ্ধান্তে বাংলাদেশসহ ২০টি দেশকে বিশেষায়িত ওষুধ ও কাঁচামাল রফতানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়া হলেও, এই সুবিধা পুরোপুরি পেতে এখনও ৩ বছরের কমবেশি সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. হালিমুজ্জামান।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রে শুল্কমুক্ত ওষুধ রফতানির সুবিধা পেতে বাংলাদেশের প্রস্তুতি নেওয়া হলেও ৩ বছরের কমবেশি সময় লাগবে বলে জানান বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. হালিমুজ্জামান।
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রে জেনেরিক ওষুধ রফতানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা থাকলেও প্যাটেন্টযুক্ত ওষুধের ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ শুল্ক লাগে।
- 📌 বাংলাদেশ ১৪০টি দেশে ওষুধ রফতানি করে; গত ১৬ বছরে রফতানি আয় ৫ গুণ বেড়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি।
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি করতে চাইলে কারখানার প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও শ্রমিক প্রশিক্ষণের দরকার।
- 📌 বাংলাদেশ ৯০ শতাংশ কাঁচামাল চীন, জাপান, ভারত ও পশ্চিমের দেশ থেকে আমদানি করে; দেশে কাঁচামাল তৈরি সম্ভব হলেও গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহ নিশ্চিত নয়।
- 📌 বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, নন-ট্যারিফ ব্যারিয়ার কমানোর বিষয়ে আলোচনা হবে।
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের ইতিহাসে একটি মাইলফলক ঘটনা হলো স্বাধীনতার পর থেকে দেশের ওষুধের ৮০ শতাংশ আমদানি করতে হতো। তবে, ১৯৮২ সালের জাতীয় ওষুধ নীতির পর ধীরে ধীরে এই চিত্র বদলে গেছে। বর্তমানে দেশে চাহিদার ৯৮ শতাংশ ওষুধ তৈরি হয়। এছাড়াও, বাংলাদেশ ১৪০টি দেশে ওষুধ রফতানি করে। গত ১৬ বছরে এই রফতানি আয় ৫ গুণ বেড়েছে এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে জেনেরিক ওষুধ রফতানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা থাকলেও, প্যাটেন্টযুক্ত ওষুধের ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ শুল্ক লাগে। তবে, ট্রাম্প সরকারের নতুন সিদ্ধান্তে বাংলাদেশসহ ২০টি দেশকে বিশেষায়িত ওষুধ ও কাঁচামাল রফতানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এই সুবিধা পেতে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. হালিমুজ্জামান বলেছেন, “কেউ যদি একটি পণ্য নিয়ে এখন শুরু করে, অন্তত তিন থেকে চার বছর সময় লাগবে। এটি ফ্যাসিলিটি অ্যাপ্রুভালের বাইরে। যুক্তরাষ্ট্রে ট্যারিফের বিষয়টা খুবই পরিবর্তনশীল। যদি পরিবর্তন না হয়, আমরা যারা ওই দেশে রফতানি করতে চাই, তারা রেজিস্ট্রেশনের জন্য প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্টের কাজ করতে হবে। এটিই হচ্ছে ভবিষ্যৎ।”
বিশেষায়িত ওষুধের কাঁচামাল রফতানির শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়ার পাশাপাশি, বাংলাদেশ ৯০ শতাংশ কাঁচামাল চীন, জাপান, ভারত ও পশ্চিমের কিছু দেশ থেকে আমদানি করে। দেশে এসব কাঁচামাল তৈরি সম্ভব হলেও, গ্যাস ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারেনি। মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় এপিআই পার্কের কাজ চলমান হলেও, গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহের অভাবে কারখানার কার্যক্রমে বাধা পড়ছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, “শুল্কছাড় নিয়ে কথা না হলেও, নন-ট্যারিফ ব্যারিয়ার কমানোর বিষয়ে আলোচনা হবে।” বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির মতে, অন্তত ১০টি কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভালো করার সক্ষমতা আছে। এর মধ্যে বিশেষায়িত ওষুধ রফতানির লাইসেন্স আছে ৫টি কোম্পানির।
"কেউ যদি একটি পণ্য নিয়ে এখন শুরু করে, অন্তত তিন থেকে চার বছর সময় লাগবে। এটি কিন্তু ফ্যাসিলিটি অ্যাপ্রুভালের বাইরে। যুক্তরাষ্ট্রে ট্যারিফের বিষয়টা খুবই পরিবর্তনশীল।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ, মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া (এপিআই পার্ক)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. হালিমুজ্জামান (বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির সাধারণ সম্পাদক), খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির (বাণিজ্যমন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ বছর, ৮০ শতাংশ, ৯৮ শতাংশ, ১৪০টি দেশ, ১৬ বছর, ৫ গুণ, ৩ হাজার কোটি টাকা, ১৮ শতাংশ, ২০টি দেশ, ৯০ শতাংশ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!