📌 বাংলাদেশে মাল্টা আমদানিতে শুল্ক-করের হার ১২১ শতাংশে পৌঁছেছে, যা টেসলা বা মার্সিডিজ গাড়ির চেয়ে অনেক বেশি। ফল আমদানিকারকরা দাবি করছেন, বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে কর বাড়ানো হলেও এখনো শুল্কহার যৌক্তিক নয়
বাংলাদেশে মাল্টা আমদানিতে শুল্ক-করের হার ১২১ দশমিক ৭৮ শতাংশে পৌঁছেছে, যা টেসলা বা মার্সিডিজ গাড়ির চেয়ে অনেক বেশি। এই উচ্চ শুল্ক-কর ব্যবস্থা দেশের ফল আমদানিকারকদের জন্য একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মাল্টা আমদানিতে শুল্ক-কর ১২১ শতাংশ — যা টেসলা (৮০-৯২%) বা মার্সিডিজ (৯৬.১০%) গাড়ির চেয়ে বেশি।
- 📌 ২০২৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার কমলাপুর আইসিডি থেকে আমদানি করা তিনটি মার্সিডিজ বেঞ্জের শুল্ক-কর ৯৬.১০ শতাংশ — প্রতিটি গাড়ির মূল্য ২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।
- 📌 মাল্টা আমদানিতে ২০০৬-০৭ অর্থবছরে শুল্ক-কর ছিল মাত্র ৫৯.২৫ শতাংশ — বর্তমানের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে।
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রে মাল্টা আমদানিতে শুল্কহার মাত্র ১.৯ সেন্ট প্রতি কেজি — বাংলাদেশের তুলনায় প্রায় ২৩ গুণ বেশি কর।
- 📌 চট্টগ্রাম ফল ব্যবসায়ী সমিতির প্রচার সম্পাদক জুনায়েদুল হক বলেন, এক কনটেইনার মাল্টা আমদানিতে আগে শুল্ক-কর দিতে হতো ৭ লাখ টাকা, এখন ২৮-২৯ লাখ টাকা।
- 📌 বৈদ্যুতিক গাড়ি টেসলার শুল্ক-কর ৫০ হাজার ডলার মূল্যের গাড়িতে ৮০ শতাংশ — যা মাল্টার চেয়ে প্রায় অর্ধেক।
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশে মাল্টা আমদানিতে শুল্ক-করের হার বর্তমানে ১২১ দশমিক ৭৮ শতাংশে পৌঁছেছে। এই উচ্চ শুল্ক-কর ব্যবস্থা দেশের ফল আমদানিকারকদের জন্য একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক তৌহিদুল আলম বলেন, ‘বিশ্বের কোথাও ফল আমদানিতে এত শুল্ক-কর নেই। বাংলাদেশ বলেই গাড়ির চেয়ে মাল্টাসহ তাজা ফলে শুল্ক-কর বেশি।’
চলতি অর্থবছরে ৫০ হাজার ডলার মূল্যের টেসলা আমদানি করলে সর্বোচ্চ শুল্ক-করভার ৮০ শতাংশ। আর ২৫ হাজার ডলারের বৈদ্যুতিক গাড়িতে তা ৬৪ শতাংশ। অন্যদিকে, মাল্টা আমদানিতে প্রতি কেজির দাম ৮৭ টাকা হলেও শুল্ক-কর দিতে হয় প্রায় ১০৭ টাকা। ফলে মাল্টার দাম খুচরা বাজারে কেজিপ্রতি ৪৮০ থেকে ৫২০ টাকায় উঠেছিল। তবে বাজারে সরবরাহ বাড়ার পর দাম কেজিপ্রতি ৪০০ টাকায় নেমে এসেছে।
২০০৬-০৭ অর্থবছরে মাল্টা আমদানিতে মোট করভার ছিল মাত্র ৫৯.২৫ শতাংশ। এরপর ধাপে ধাপে করভার বেড়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছর পর্যন্ত তা ছিল ৮৯.৩২ শতাংশ। ২০২২ সালের মে মাসে ডলার সংকটের মধ্যে আমদানি নিরুৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে করভার বাড়ানো হয়। এর ফলে মাল্টার মোট শুল্ক-করভার বেড়ে প্রায় ১১৪ শতাংশে ওঠে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মাঝামাঝি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে করভার আরও বাড়িয়ে ১৩৬ শতাংশ করা হয়। পরে ২০২৫ সালের মার্চে বাড়তি শুল্ক-কর কিছুটা কমানো হয়, বর্তমান হার ১২১ দশমিক ৭৮ শতাংশ।
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পতন ঠেকাতে আমদানি নিরুৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে মাল্টাসহ ফলের শুল্ক-কর বাড়ানো হয়েছিল। তবে রিজার্ভ পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক না হলেও আগের তুলনায় উন্নতি হয়েছে। ফল আমদানিকারকরা দাবি করছেন, স্বাস্থ্যগত দিক বিবেচনায় মাল্টার শুল্ক-করহার যৌক্তিক করা দরকার।
"বিশ্বের কোথাও ফল আমদানিতে এত শুল্ক-কর নেই। বাংলাদেশ বলেই গাড়ির চেয়ে মাল্টাসহ তাজা ফলে শুল্ক-কর বেশি।"
"আগে এক কনটেইনার মাল্টা আমদানিতে শুল্ক-কর দিতে হতো প্রায় সাড়ে সাত লাখ টাকা। এখন দিতে হচ্ছে ২৮ থেকে ২৯ লাখ টাকা। ফলের ওপর এত উচ্চ শুল্ক-কর ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপরই পড়ছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (কমলাপুর আইসিডি), চট্টগ্রাম (ফল ব্যবসায়ী সমিতি)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: তৌহিদুল আলম (বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক), জুনায়েদুল হক (চট্টগ্রাম ফল ব্যবসায়ী সমিতির প্রচার সম্পাদক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২১.৭৮% (মাল্টা শুল্ক-কর), ৯৬.১০% (মার্সিডিজ শুল্ক-কর), ৮০% (টেসলা শুল্ক-কর), ৫৯.২৫% (২০০৬-০৭ অর্থবছরের মাল্টা শুল্ক-কর), ২৮-২৯ লাখ টাকা (বর্তমান এক কনটেইনার মাল্টা আমদানিতে শুল্ক-কর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!