📌 বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে অটোমেশন ও এআই-এর বিস্তার ২০৪১ সালের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২ লাখ ২০ হাজার চাকরি ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ঝুঁকির মুখে পড়ার সম্ভাবনা ৬০%। সিপিডি ও আইএমএফের গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে
বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে অটোমেশন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত প্রসার ২০৪১ সালের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২ লাখ ২০ হাজার শ্রমিকের চাকরি ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ঝুঁকির মুখে পড়ার সম্ভাবনা ৬০ শতাংশ। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এর গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১২ লাখ ২০ হাজার শ্রমিকের চাকরি ঝুঁকিতে পড়তে পারে অটোমেশন ও এআই-এর প্রভাবে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে।
- 📌 ৬০ শতাংশ নারী শ্রমিকের কর্মসংস্থান ঝুঁকির মুখে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, কারণ তাদের অধিকাংশ কাজ স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের মাধ্যমে সম্পন্ন করা সম্ভব।
- 📌 ১২ অক্টোবর থাইল্যান্ডের ব্যাংককে আইএমএফের বার্ষিক সভায় ‘এআইয়ের যুগে এশিয়ার শ্রমবাজার’ শীর্ষক গবেষণা উপস্থাপিত হয়।
- 📌 ১০ শতাংশ কমেছে কিছু পেশায় নতুন কর্মী নিয়োগের চাহিদা, তবে কর্মসংস্থানের মোট পরিমাণ একই হারে কমে যাবে না।
- 📌 ১৫ কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে বাংলাদেশসহ এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলোকে আগামী এক দশকে।
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ও কর্মসংস্থানের অন্যতম প্রধান খাত পোশাকশিল্পে প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি কর্মসংস্থান নিয়ে নতুন শঙ্কা সৃষ্টি করেছে। সিপিডির গবেষণায় দেখা গেছে, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কারণে তৈরি পোশাক খাতের প্রায় ৬০ শতাংশ নারী শ্রমিকের কর্মসংস্থান ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ায় শিল্পকারখানায় প্রচলিত উৎপাদনব্যবস্থাও বদলে যাচ্ছে। আগে যে কাজে অনেক শ্রমিকের প্রয়োজন হতো, স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের সাহায্যে এখন তা তুলনামূলক কম কর্মী দিয়ে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। তবে দক্ষতার ঘাটতিতে থাকা শ্রমিকদের চাকরি হারানোর ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
আইএমএফের গবেষণায় দেখা যায়, এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শ্রমবাজারে এআইয়ের প্রভাব মূল্যায়ন করে দেখা গেছে যে, এআইয়ের প্রভাব বেশি এমন পেশায় প্রযুক্তিসংশ্লিষ্ট দক্ষতার চাহিদা তুলনামূলক কম প্রভাবিত পেশার প্রায় দ্বিগুণ। গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের প্রাথমিক জ্ঞান, বিশেষায়িত প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন কার্যক্রমে এআই যুক্ত করার সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে অটোমেশনের বিস্তার ঘটলে যন্ত্র পরিচালনা, উৎপাদিত পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ, তথ্য বিশ্লেষণ ও প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন পরিকল্পনায় দক্ষ জনবলের চাহিদা বাড়বে। তাই শ্রমিকদের কর্মসংস্থান সুরক্ষায় সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি সরকার, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও প্রশিক্ষণ প্রদানকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কারণে যারা চাকরি হারাবেন, তাদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
"প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ায় শিল্পকারখানায় প্রচলিত উৎপাদনব্যবস্থাও বদলে যাচ্ছে। আগে যে কাজ সম্পন্ন করতে অনেক শ্রমিকের প্রয়োজন হতো, স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের সাহায্যে এখন তা তুলনামূলক কম কর্মী দিয়ে করা সম্ভব হচ্ছে। এতে উৎপাদনশীলতা বাড়লেও দক্ষতার ঘাটতিতে থাকা শ্রমিকদের চাকরি হারানোর ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশের পোশাকশিল্প, থাইল্যান্ডের ব্যাংকক (আইএমএফ সভা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: দিব্যা কীর্তি (আইএমএফ অর্থনীতিবিদ), দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, তৌফিকুল ইসলাম খান, মামতাজুল জান্নাত, মালিহা রহমান (সিপিডি গবেষক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২ লাখ ২০ হাজার (চাকরি ঝুঁকিতে), ৬০ শতাংশ (নারী শ্রমিকের ঝুঁকি), ১০ শতাংশ (নতুন কর্মী নিয়োগ কমেছে), ১৫ কোটি (নতুন কর্মসংস্থান চ্যালেঞ্জ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!