📌 কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার আরিফুল ইসলাম বাঁধাধরা চাকরি ছেড়ে গ্রামে ফিরে বাবার পরিত্যক্ত জমিতে খামার শুরু করেন। এখন তার সমন্বিত খামার থেকে মাসে ২ লাখ টাকা আয় হয়। গাভি, মুরগি ও পাঙাশ মাছ চাষের মাধ্যমে তিনি নিজের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন এবং চারজনকে নিয়োগ দিয়েছেন
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের কিশামত গোবধা গ্রামের আরিফুল ইসলাম বাঁধাধরা চাকরি ছেড়ে গ্রামে ফিরে বাবার পরিত্যক্ত জমিতে শুরু করেছিলেন সমন্বিত খামার। এখন তার খামার থেকে মাসে প্রায় ২ লাখ টাকা আয় হয়। গাভি, মুরগি ও পাঙাশ মাছ চাষের মাধ্যমে তিনি নিজের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন এবং চারজনকে নিয়োগ দিয়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কুড়িগ্রামের আরিফুল ইসলাম বাঁধাধরা চাকরি ছেড়ে গ্রামে ফিরে বাবার পরিত্যক্ত জমিতে খামার শুরু করেন এবং এখন মাসে ২ লাখ টাকা আয় করেন
- 📌 তার খামারে ১৫টি গাভি, ২ হাজার লেয়ার মুরগি এবং দুটি পুকুরে ৪ হাজার পাঙাশ মাছ রয়েছে
- 📌 প্রতিদিন ৮০ লিটার দুধ, ১ হাজার ৮০০টি ডিম এবং পুকুর থেকে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকার মাছ পাওয়া যায়
- 📌 খামারে চারজন কর্মী নিয়োগ দিয়েছেন, প্রত্যেকের মাসিক বেতন ১৫ হাজার টাকা
- 📌 বাবা মো. দলিল উদ্দিন ভূঁইয়া ১০০ শতক জমি দিয়েছিলেন আরিফুলের খামার শুরুতে
📰 বিস্তারিত
আরিফুল ইসলামের সফলতা শুরু হয়েছিল ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার পর। কিন্তু কর্মক্ষেত্রের চাপ এবং বাঁধাধরা জীবন তাকে টানেনি। তিনি চাকরি ছেড়ে গ্রামে ফিরে আসেন এবং বাবার পরিত্যক্ত জমিতে ব্রয়লার মুরগির খামার শুরু করেন। তিন ধাপে মুরগি বিক্রি করে জমা টাকা দিয়ে ২০২০ সালে দুটি উন্নত জাতের গাভি কেনেন। এরপর আর পেছনে ফিরতে হয়নি তাঁর।
২০২২ সালের শুরুতে তিনি লালমনিরহাট সেনা ক্যাম্পের নিলাম থেকে ৩০টি ষাঁড়ের বাছুর কেনেন এবং বিক্রি করে বড় অঙ্কের টাকা পান। ২০২৪ সালে সেই টাকা দিয়ে বাছুরসহ একটি ফ্রিজিয়ান জাতের গাভি কেনেন। বাবার কাছ থেকে ১০০ শতক জমি এবং আরও ১২০ শতক জমি ইজারা নিয়ে ঘাস চাষ শুরু করেন। এখন তাঁর খামারে গাভির সংখ্যা ১৫টি এবং প্রতিদিন প্রায় ৮০ লিটার দুধ পাওয়া যায়।
খামারের দুই পাশে ১০০ শতক জমিতে দুটি ছোট পুকুরে মাছ চাষ শুরু করেন আরিফুল। গত বছরের ডিসেম্বরে ৫০ হাজার টাকা খরচ করে পোনা ছেড়েছিলেন। এখন সেই মাছের বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা। খামারের এক পাশে ২ হাজার লেয়ার মুরগির খামার রয়েছে, যেখানে প্রতিদিন ১ হাজার ৮০০টি ডিম পাওয়া যায়। মুরগির খাবার ও অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে এই খাত থেকেই মাসে প্রায় দেড় লাখ টাকা আয় হয়।
"আমার গলা শুনলেই ওরা ডাকতে শুরু করে। খাবার না দেওয়া পর্যন্ত ডাকতেই থাকে।"
আরিফুলের স্ত্রী উম্মে সাবিহাতুন জান্নাত (সিনতি) সৈয়দপুর আর্মি ইউনিভার্সিটি থেকে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে বিএসসি করেছেন। তিনি প্রথমে স্বামীর পেশা সম্পর্কে সংকোচবোধ করতেন, কিন্তু স্বামীর আগ্রহ ও পরিশ্রম দেখে আর বাধা দেননি। তাঁর ভাষায়, ‘খামারের প্রতি তাঁর দরদ আর পরিশ্রমের ফলে আজ সফলতার মুখ দেখেছে।’
আরিফুলের বাবা মো. দলিল উদ্দিন ভূঁইয়া একজন স্কুলশিক্ষক। তিনি ছেলেকে রংপুরে পড়াশোনা করিয়েছিলেন। পড়াশোনা শেষে চাকরি না করে খামার করার সিদ্ধান্তে শুরুতে তাঁরও আপত্তি ছিল। পরে ছেলের উদ্যোগ দেখে ১০০ শতক জমি দেন। দলিল উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ‘চাকরি না করে ছেলে খামার করেছে। এখন নিজের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি আরও চারজনের কর্মসংস্থান করেছে। বাবা হিসেবে আমার গর্ব হয়।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের কিশামত গোবধা গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আরিফুল ইসলাম, উম্মে সাবিহাতুন জান্নাত, মো. দলিল উদ্দিন ভূঁইয়া, রাজকুমার রায়
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২ লাখ টাকা (মাসিক আয়), ১৫টি গাভি, ২ হাজার লেয়ার মুরগি, ৪ হাজার পাঙাশ মাছ, ৮০ লিটার দুধ, ১ হাজার ৮০০টি ডিম, ১৫ হাজার টাকা (প্রত্যেক কর্মীর বেতন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!