📌 মিডটার্ম নির্বাচনের আগে আমেরিকার অর্থনৈতিক সংকটের কারণে কর্মসংস্থান, বেতন ও খরচের ভারসাম্য ভেঙ্গে পড়ছে। ৭.৬ শতাংশেরও বেশি মানুষ আংশিক কর্মসংস্থান বা নিম্নবেতনী কাজে জড়িয়ে পড়েছেন। একই সময়ে, মূল্যস্ফীতি বেতনকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে, যা পরিবারের জন্য অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়ে তুলছে।
মিডটার্ম নির্বাচনের আগে আমেরিকার অর্থনৈতিক চাপে কর্মসংস্থান ও আয়ের ভারসাম্য ভেঙ্গে পড়ছে। ফ্লোরিডার একটি শূন্যনেস্টার পরিবারের মা স্টেসি আইচেলের (Stacy Eichel) জীবন এই চাপের প্রতীক। তিনি স্বাস্থ্যসেবা খাতের একটি চাকুরি ছেড়ে দিতে বাধ্য হন এবং তার পার্শ্বগত ব্যবসা — কাস্টম ব্র্যান্ডেড মেরচান্ডাইজ (কফি মগ, টি-শার্ট) — একমাত্র আয়ের উৎস হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু কোম্পানিগুলো বাজেট কাটছিলো এবং কাস্টম মেরচান্ডাইজের চাহিদা কমে যাচ্ছিলো।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৭.৬% আংশিক কর্মসংস্থান**: আমেরিকার U-6 হার (অপূর্ণ কর্মসংস্থান) ৭.৬% — যা ২০২৫ সালের তুলনায় কম হলেও, কর্মসংস্থান অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে না।
- 📌 **বেতন vs মূল্যস্ফীতি**: ৩% বেতন বৃদ্ধির বিপরীতে, মূল্যস্ফীতি ৩.৭% — অর্থাৎ, বেতন মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- 📌 **দ্বৈত চাকুরির প্রবণতা**: ৯০ লক্ষ আমেরিকান (৫.৫% কর্মসংস্থান) একাধিক চাকুরি করছেন।
- 📌 **কাস্টম মেরচান্ডাইজের চাহিদা কমে যাচ্ছে**: কোম্পানিগুলো বাজেট কাটার কারণে এই ধরনের "লাক্সারি" আইটেম কিনতে পারছে না।
- 📌 **অপূর্ণ কর্মসংস্থানের প্রকৃতি**: কলেজ ডিগ্রিধর ব্যক্তিরা রিটেইল জব করছেন, প্রাক্তন নির্বাহীগণ অর্ধেক বেতনে চাকুরি গ্রহণ করছেন।
📰 বিস্তারিত
স্টেসি আইচেলের (৪৫) কাহিনী আমেরিকার অর্থনৈতিক সংকটের একটি ছোট অংশ। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি একটি স্বাস্থ্যসেবা কোম্পানির মার্কেটিং বিভাগ থেকে চাকুরি হারান। তার পার্শ্বগত ব্যবসা — কাস্টম ব্র্যান্ডেড মেরচান্ডাইজ — একসময় ছিল তার অতিরিক্ত আয়ের উৎস। কিন্তু বর্তমানে কোম্পানিগুলো বাজেট কাটছিলো এবং কাস্টম মেরচান্ডাইজের চাহিদা কমে যাচ্ছিলো। তিনি আল জাজিরার সাথে কথা বলেন, “অর্থনৈতিক অবস্থা এমন যে, কম মানুষ কাস্টম ব্র্যান্ডেড মেরচান্ডাইজ কিনছে। কারণ এটি একটি লাক্সারি আইটেম। যখন কোম্পানিগুলো বাজেটে অতিরিক্ত টাকা থাকে, তখন তারা এই ধরনের খরচে ব্যয় করে। কিন্তু বর্তমানে তাদের বাজেট খুবই সঙ্কুচিত।”
আমেরিকার শ্রমবাজারে এই ধরনের চাপের একটি বড় অংশ হলো **অপূর্ণ কর্মসংস্থান**। সরকারের শ্রম পরিসংখ্যান অনুযায়ী, U-6 হার (অপূর্ণ কর্মসংস্থান) ৭.৬% — যা এক বছর আগের তুলনায় ০.৫% কম হলেও, এটি অর্থনৈতিক নিরাপত্তার একটি চিত্র প্রদান করে না। এই হার অন্তর্ভুক্ত করে যারা আংশিক কর্মসংস্থান করছেন, যারা চাকুরি খুঁজছেন না বা যাদের চাকুরি তাদের প্রয়োজনীয় আয় প্রদান করছে না।
একই সময়ে, **বেতন ও মূল্যস্ফীতির ব্যবধান** বাড়ছে। সর্বশেষ কনসিউমার প্রাইস ইনডেক্স (CPI) রিপোর্ট অনুযায়ী, গত এক বছরে বেতন ৩% বৃদ্ধি পেয়েছে, কিন্তু মূল্যস্ফীতি ৩.৭% বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থাৎ, বেতন মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়াও, গত মাসে মূল্যস্ফীতি ০.৬% বৃদ্ধি পেয়েছে, যখন বেতন মাত্র ০.১% বৃদ্ধি পেয়েছে। এই অবস্থায়, পরিবারের জন্য অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে।
শ্রমবাজারে এই চাপের আরেকটি দিক হলো **দ্বৈত চাকুরি**। ৪৫ লক্ষ আমেরিকান (৫.৫% কর্মসংস্থান) একাধিক চাকুরি করছেন। এর মধ্যে অনেকেই একাধিক চাকুরি করছেন কারণ একটিই তাদের পরিবারের খরচ পূরণ করতে পারছে না। শ্রমবাজার বিশেষজ্ঞ টারা ফুরিয়ানি (Tara Furiani) বলেন, “অপূর্ণ কর্মসংস্থান আমেরিকার সবচেয়ে বুঝতে কষ্টকর অর্থনৈতিক সমস্যা। এটি সাধারণত বেকারত্বের মতো দেখায় না। এটি দেখায় একজন কলেজ ডিগ্রিধর ব্যক্তি রিটেইল জব করছেন, একজন প্রাক্তন নির্বাহী অর্ধেক বেতনে চাকুরি গ্রহণ করছেন, বা একজন মা দুইটি চাকুরি করছেন কারণ একটিই পরিবারের খরচ পূরণ করতে পারছে না।”
"অর্থনৈতিক অবস্থা এমন যে, কম মানুষ কাস্টম ব্র্যান্ডেড মেরচান্ডাইজ কিনছে। কারণ এটি একটি লাক্সারি আইটেম। যখন কোম্পানিগুলো বাজেটে অতিরিক্ত টাকা থাকে, তখন তারা এই ধরনের খরচে ব্যয় করে। কিন্তু বর্তমানে তাদের বাজেট খুবই সঙ্কুচিত।"
"অপূর্ণ কর্মসংস্থান আমেরিকার সবচেয়ে বুঝতে কষ্টকর অর্থনৈতিক সমস্যা। এটি সাধারণত বেকারত্বের মতো দেখায় না। এটি দেখায় একজন কলেজ ডিগ্রিধর ব্যক্তি রিটেইল জব করছেন, একজন প্রাক্তন নির্বাহী অর্ধেক বেতনে চাকুরি গ্রহণ করছেন, বা একজন মা দুইটি চাকুরি করছেন কারণ একটিই পরিবারের খরচ পূরণ করতে পারছে না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ফ্লোরিডা (স্টেসি আইচেল), ওয়াশিংটন ডিসি (শ্রম বিভাগ), নিউ ইয়র্ক (কনসিউমার প্রাইস ইনডেক্স)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: স্টেসি আইচেল, টারা ফুরিয়ানি (শ্রমবাজার বিশেষজ্ঞ)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭.৬% (U-6 হার), ৩% (বেতন বৃদ্ধি), ৩.৭% (মূল্যস্ফীতি), ৯০ লক্ষ (দ্বৈত চাকুরি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!