📌 বাংলাদেশে কৃষি যান্ত্রিকীকরণের পথে অর্থনৈতিক বাধা ও ব্যাংকের অনীহা প্রধান সমস্যা। গবেষণা অনুযায়ী, কৃষকদের মাত্র ২% নিজস্ব যন্ত্রপাতি রয়েছে; বাকি ৯৮% ভাড়ায় যন্ত্র ব্যবহার করে। ব্যাংক থেকে কৃষিযন্ত্র ক্রয়ের অর্থায়ন মাত্র ৬%
বাংলাদেশের কৃষি খাতে আধুনিক যান্ত্রিকীকরণের পথে অর্থনৈতিক বাধা ও ব্যাংকের অনীহা প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গবেষণা থেকে জানা যায়, কৃষকদের মাত্র ২ শতাংশের নিজস্ব কৃষিযন্ত্র রয়েছে, বাকি ৯৮ শতাংশ ভাড়ায় যন্ত্র ব্যবহার করে। তবে ব্যাংক থেকে কৃষিযন্ত্র ক্রয়ের অর্থায়ন মাত্র ৬ শতাংশেরও কম, যা কৃষি উন্নয়নে বড় বাধা সৃষ্টি করছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বাংলাদেশে কৃষি যান্ত্রিকীকরণে অর্থনৈতিক বাধা ও ব্যাংকের অনীহা প্রধান সমস্যা
- 📌 কৃষকদের মাত্র ২ শতাংশের নিজস্ব কৃষিযন্ত্র রয়েছে, বাকি ৯৮ শতাংশ ভাড়ায় যন্ত্র ব্যবহার করে
- 📌 ২০১৮ সালে কম্বাইন হারভেস্টারে ফসল কাটার হার ছিল মাত্র ১ শতাংশ, যা ২০২৩ সালে ২০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে
- 📌 ব্যাংক থেকে কৃষিযন্ত্র ক্রয়ের অর্থায়ন মাত্র ৬ শতাংশ, অন্যদিকে ৫১ শতাংশ আসে আত্মীয়স্বজন বা অনানুষ্ঠানিক খাত থেকে
- 📌 কৃষিযন্ত্রপাতির বাজার ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি, ছোট যন্ত্রাংশের বাজার প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা
- 📌 কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নতুন প্রকল্পে কৃষকদের যান্ত্রিকীকরণে সহযোগিতা করার পরিকল্পনা করছে
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশের কৃষি খাতে আধুনিক যান্ত্রিকীকরণের পথে অর্থনৈতিক বাধা ও ব্যাংকের অনীহা প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গবেষণা থেকে জানা যায়, কৃষকদের মাত্র ২ শতাংশের নিজস্ব কৃষিযন্ত্র রয়েছে, বাকি ৯৮ শতাংশ ভাড়ায় যন্ত্র ব্যবহার করে। বিশেষত, ৯৫ শতাংশ পাওয়ার টিলার এবং ৯৪ শতাংশ পাওয়ার থ্রেশার ভাড়ায় চালিত হয়। ফসল কাটার ক্ষেত্রেও বৈপ্লবিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়: ২০১৮ সালে কম্বাইন হারভেস্টারে ফসল কাটার হার ছিল মাত্র ১ শতাংশ, যা ২০২৩ সালে ২০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
ব্যাংক থেকে কৃষিযন্ত্র ক্রয়ের অর্থায়ন মাত্র ৬ শতাংশেরও কম, অন্যদিকে ৫১ শতাংশ আসে আত্মীয়স্বজন বা অনানুষ্ঠানিক খাত থেকে এবং ২৯ শতাংশ আসে এনজিও বা ক্ষুদ্রঋণদাতাদের থেকে। ব্যাংকের এই অনীহার মূল কারণ হলো নীতিমালার সীমাবদ্ধতা। কৃষিঋণ নীতিমালায় অন্যের জমিতে ভাড়া খাটানোর জন্য কেনা যন্ত্রকে ঋণের আওতাভুক্ত করা হয়নি। ফলে কৃষকেরা বাধ্য হয়ে উচ্চ সুদে (২০-৩১% হারে) বিভিন্ন মাধ্যম থেকে ঋণ নিচ্ছেন।
ব্যবসায়ীদের মতে, দেশে কৃষি যন্ত্রপাতির বাজার ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি। তবে এর বাইরেও প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশের বাজার রয়েছে। স্থানীয়ভাবে তৈরি ও বিক্রির সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নেই। বাংলাদেশ কৃষি যন্ত্রপাতি প্রস্তুতকারক সমিতির সভাপতি আলীমুল এহছান চৌধুরী বলেছেন, ‘কৃষি যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানিতে বর্তমানে উচ্চ শুল্ক ও যন্ত্রাংশের দুষ্প্রাপ্যতা বড় একটি সমস্যা। ব্যাংকগুলো যদি কৃষকদের সহজ শর্তে ঋণ দেয় এবং সরকার যদি আমদানি করা কৃষিযন্ত্রের কাঁচামালের ওপর শুল্ক কমিয়ে প্রযুক্তি হস্তান্তরের সুযোগ তৈরি করে, তবে এ খাতের প্রসার আরও দ্রুত হবে।’
আবেদিন ইকুইপমেন্ট লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আমির হোসেন বলেছেন, ‘কৃষিতে সরকার ভর্তুকি দিলেও কৃষিযন্ত্রে ভর্তুকি বন্ধ আছে। তা ছাড়া কৃষিঋণের সুবিধা দিলেও কৃষকেরা যন্ত্র কিনতে এই ঋণসুবিধা পান না। দেশের জমি উপযোগী যন্ত্র কিনতে যে ব্যয়, তা–ও সাধারণ কৃষকের পক্ষে করা সম্ভব হয় না। এ কারণে কৃষিযন্ত্রে ঋণসুবিধা দিয়ে উদ্যোক্তারদের মাধ্যমে কৃষকদের সেবা বাড়ালে তা আরও কৃষিবান্ধব হবে।’
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক মো: রওশন আলম বলেছেন, ‘জাতীয় কৃষি যান্ত্রিকীকরণ নীতিমালা অনুযায়ী হাওর ও উপকূলে বিশেষ সুবিধা দিয়ে এবং সমতলের কৃষকদের ভর্তুকি দিয়ে কৃষি যন্ত্র দেওয়ার প্রকল্প ছিল। কিন্তু ওই প্রকল্পে ত্রুটি থাকায় তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এখন নতুনভাবে ভিন্ন আঙ্গিকে কৃষকদের যান্ত্রিকীকরণে সহযোগিতা করা হবে, যাতে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চাহিদাভিত্তিক যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে কৃষি সম্প্রসারণ করা যায়।’
"কৃষি যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানিতে বর্তমানে উচ্চ শুল্ক ও যন্ত্রাংশের দুষ্প্রাপ্যতা বড় একটি সমস্যা। ব্যাংকগুলো যদি কৃষকদের সহজ শর্তে ঋণ দেয় এবং সরকার যদি আমদানি করা কৃষিযন্ত্রের কাঁচামালের ওপর শুল্ক কমিয়ে প্রযুক্তি হস্তান্তরের সুযোগ তৈরি করে, তবে এ খাতের প্রসার আরও দ্রুত হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: এম মেহরাব বখতিয়ার, আলীমুল এহছান চৌধুরী, মোহাম্মদ আমির হোসেন, মো: রওশন আলম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯৮%, ২%, ৯৫%, ৯৪%, ১%, ২০%, ৬%, ৫১%, ২৯%, ২০-৩১%, ১০ হাজার কোটি টাকা, ২ হাজার কোটি টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!