📌 আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, সরকারের জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি জনগণের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে এবং অর্থনীতির স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়েছে। ৭ মাসে তিনবার মূল্য বৃদ্ধির ফলে কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ ভোক্তাদের জীবনযাত্রায় ব্যাপক প্রভাব পড়ছে বলে দাবি করেছেন তিনি
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, সরকারের ৭ মাসে তিনবার জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি জনস্বার্থের তোয়াক্কা না করে করা হয়েছে এবং এটি সরকারের দেউলিয়াত্বের বহিঃপ্রকাশ। তিনি দাবি করেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের চাপের বাস্তবতা থাকা সত্ত্বেও সরকার একবারে জনগণের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে মূল্যবৃদ্ধি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৭ মাসে তিনবার জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধি**: সরকার ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়িয়েছে। ডিজেলের দাম ১১৫ থেকে ১৩৫ টাকা করা হয়েছে।
- 📌 **কৃষক ও শ্রমিকদের জীবনযাত্রায় প্রভাব**: কৃষি, সেচ ও গণপরিবহনে ডিজেলের ব্যবহার বেশি। মূল্যবৃদ্ধির ফলে সেচপাম্প, পাওয়ার টিলার, হারভেস্টারসহ কৃষিযন্ত্রের পরিচালন ব্যয় বাড়বে।
- 📌 **মূল্যস্ফীতি ও মজুরি বৃদ্ধির পার্থক্য**: আগস্টে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৮.২৬ শতাংশ ছিল, কিন্তু জাতীয় মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ৫ শতাংশ।
- 📌 **বিপিসির লোকসান**: মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিপিসি প্রায় ২২ হাজার ৮৭৬ কোটি টাকা লোকসান করেছে। সরকারের দাবি অনুযায়ী, এই চাপের পূর্ণাঙ্গ হিসাব জনগণের সামনে প্রকাশের দাবি জানিয়েছে এবি পার্টি।
- 📌 **১১টি দাবি**: এবি পার্টি সরকারের প্রতি ১১টি দাবি জানিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ডিজেলের ওপর পৃথক মূল্যনীতি, ধাপে ধাপে মূল্য সমন্বয়, জ্বালানি চুরি বন্ধ ও স্ট্র্যাটেজিক ফুয়েল ইমার্জেন্সি ফান্ড গঠন।
📰 বিস্তারিত
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিজয়নগরে এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, সরকারের জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি জনগণের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস করছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন খরচ বাড়ে, যা শেষ পর্যন্ত পণ্যের দাম বাড়িয়ে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।
মজিবুর রহমান বলেন, “আন্তর্জাতিক বাজারের বাস্তবতা মোকাবিলা করতে সরকারকে ধাপে ধাপে মূল্য সমন্বয় করতে হবে। হঠাৎ করে দাম বাড়ানো নয়, বরং পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধীরে ধীরে দাম সমন্বয় করা দরকার।” তিনি আরও বলেন, বোরো মৌসুমের আগে এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
এবি পার্টির ছায়া সরকারবিষয়ক সম্পাদক আব্বাস ইসলাম খান নোমান বলেন, সরকারের দাবি অনুযায়ী, বিপিসি ২২ হাজার ৮৭৬ কোটি টাকা লোকসান করেছে। তিনি দাবি করেছেন, সরকারের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশের পাশাপাশি আমদানি শুল্ক ও কর সাময়িকভাবে সমন্বয়, বিপিসির দক্ষতা বৃদ্ধি ও জ্বালানি চুরি বন্ধের বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া উচিত।
"জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি জনস্বার্থ ও অর্থনীতির ওপর প্রভাব পড়ছে। সরকারের এই নীতি জনগণের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে এবং অর্থনীতির স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়েছে।"
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির নেতা যোবায়ের আহমেদ ভূইয়া, আবদুল্লাহ আল মামুন রানা, মো. আলতাফ হোসাইন, শাহাদাতুল্লাহ টুটুল, আবদুল হালিম খোকন ও সেলিম খান। তারা সরকারের জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ১১টি দাবি তুলে ধরেছেন, যার মধ্যে রয়েছে:
- কৃষি, সেচ ও গণপরিবহনে ব্যবহৃত ডিজেলের ওপর পৃথক মূল্যনীতি গ্রহণ;
- ধাপে ধাপে মূল্য সমন্বয়;
- জ্বালানি চুরি বন্ধ ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং;
- স্ট্র্যাটেজিক ফুয়েল ইমার্জেন্সি ফান্ড গঠন;
- সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অডিট ও সমন্বয়;
- দীর্ঘ মেয়াদে দেশীয় জ্বালানি অনুসন্ধান ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিনিয়োগ বাড়ানো।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজধানী বিজয়নগর, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মজিবুর রহমান মঞ্জু (এবি পার্টি চেয়ারম্যান), আব্বাস ইসলাম খান নোমান (ছায়া সরকারবিষয়ক সম্পাদক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭ মাসে ৩ বার মূল্যবৃদ্ধি, ২০ টাকা লিটারপ্রতি বৃদ্ধি, ১১৫ থেকে ১৩৫ টাকা ডিজেলের দাম, ৮.২৬% মূল্যস্ফীতি, ২২ হাজার ৮৭৬ কোটি টাকা লোকসান, ১১টি দাবি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!