📌 গবেষণা প্রকাশ করে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) — ৭৪.৬ শতাংশ সেবাপ্রার্থী বলেছেন, সরকারি সেবা পেতে টাকা না দিলে কাজ হয় না। হয়রানি দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং পরিবারগুলোর আর্থিক চাপ বাড়িয়ে তুলেছে
সরকারি সেবা পেতে সেবাপ্রার্থীদের ঘুষ দিতে হয় এবং হয়রানির শিকার হতে হয়। বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) গবেষণা প্রকাশ করেছে যে, ৭৪ দশমিক ৬ শতাংশ সেবাপ্রার্থী ঘোষণা করেছেন, টাকা না দিলে কোনো সরকারি সেবা পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। গবেষণায় উঠে এসেছে, হয়রানি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং দারিদ্র্য, ঋণ ও মূল্যস্ফীতির চাপের ওপর আরো একটি বোঝা যোগ করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৭৪.৬ শতাংশ সেবাপ্রার্থী** বলেছেন, সরকারি সেবা পেতে টাকা না দিলে কাজ হয় না
- 📌 **৮ হাজার ৬৭টি পরিবার** থেকে সংগ্রহ করা তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পরিবারের গড় মাসিক আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান মাত্র ৭০ টাকা
- 📌 **৫৪.৯ শতাংশ** পরিবারের ব্যয় খাবারের পেছনে চলে যায়, গ্রামীণ পরিবারে এ হার ৫৭.৩৫ শতাংশ
- 📌 **২০২৫ সালের ৮ মে থেকে ৩১ মে** পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণে হয়রানিকে ‘অনানুষ্ঠানিক কর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে
- 📌 **পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান** বলেছেন, হয়রানিকে রাষ্ট্রীয় ব্যাধি হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে
📰 বিস্তারিত
পিপিআরসির গবেষণা প্রতিবেদনটি শনিবার ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। গবেষণায় ২০২৫ সালের ৮ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত বাংলাদেশের আটটি বিভাগের ৮ হাজার ৬৭টি পরিবারের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল ‘বাংলাদেশের প্রকৃত অর্থনীতির অবস্থা: দারিদ্র্যের পুনরাবির্ভাব ও টিকে থাকার সক্ষমতার গতিশীলতা’। গবেষণায় হয়রানিকে শুধু ঘুষ বা অনানুষ্ঠানিক অর্থ আদায় হিসেবে দেখা হয়নি; বরং সেবা পেতে বাধা, নিয়মকানুন নিয়ে বিভ্রান্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দৈনন্দিন লেনদেনে ভোগান্তির চিত্রও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, পরিবারের গড় মাসিক আয় ৩২ হাজার ৬৮৫ টাকা এবং ব্যয় ৩২ হাজার ৬১৫ টাকা। মাস শেষে গড়ে উদ্বৃত্ত থাকে মাত্র ৭০ টাকা। সর্বনিম্ন আয়ের ১০ শতাংশ পরিবারের গড় মাসিক আয় ৮ হাজার ৪৭৭ টাকা হলেও ব্যয় ১২ হাজার ২৯৪ টাকা। এতে পরিবারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়। গবেষণায় হয়রানিকে সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে ‘অনানুষ্ঠানিক কর’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা মানুষের আর্থিক চাপ বাড়িয়ে তোলে এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থাও ক্ষয় করে।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, হয়রানির কাঠামো ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরও বদলায়নি। পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান বলেছেন, ‘হয়রানিকে রাষ্ট্রীয় ব্যাধি হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে। অন্য দেশের মানুষ দুর্নীতি বোঝে, হয়রানি বুঝে না।’ তিনি বলেন, এই চাপ এমন সময়ে উঠে এসেছে যখন পরিবারের আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান প্রায় শূন্য।
"হয়রানির এই চিত্র এমন এক সময়ে উঠে এসেছে, যখন অনেক পরিবারের আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান প্রায় শূন্য। পরিবারের গড় মাসিক আয় ৩২ হাজার ৬৮৫ টাকা এবং ব্যয় ৩২ হাজার ৬১৫ টাকা। মাস শেষে গড়ে উদ্বৃত্ত থাকে মাত্র ৭০ টাকা।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হোসেন জিল্লুর রহমান (পিপিআরসি নির্বাহী চেয়ারম্যান)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭৪.৬ শতাংশ (সেবাপ্রার্থী), ৮ হাজার ৬৭টি পরিবার, ৩২ হাজার ৬৮৫ টাকা (গড় আয়), ৩২ হাজার ৬১৫ টাকা (গড় ব্যয়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!