📌 বাংলাদেশ সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে মোট ৩৩০ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে ২০ কোটি ডলার বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা আধুনিকায়নের জন্য এবং ৩১০ কোটি ডলার জ্বালানি আমদানির জন্য। এসসিএনসিএল সভায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুমোদন দেওয়া হয়
বাংলাদেশ সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের আধুনিকায়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে মোট ৩৩০ কোটি ডলারের অনমনীয় বৈদেশিক ঋণ অনুমোদন করেছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত অনমনীয় ঋণ-সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির (এসসিএনসিএল) সভায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৩৩০ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদিত: বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের জন্য মোট ৩৩০ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন করা হয়েছে, যার মধ্যে ২০ কোটি ডলার বিদ্যুৎ বিতরণ প্রকল্পের জন্য এবং ৩১০ কোটি ডলার জ্বালানি আমদানির জন্য।
- 📌 ২০ কোটি ডলার বিদ্যুৎ প্রকল্পে: বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বিআরইবি) ‘পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক এনহান্সমেন্ট প্রজেক্ট’-এ এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে ২০ কোটি ডলার ঋণ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
- 📌 ৩১০ কোটি ডলার জ্বালানি নিরাপত্তা: সৌদি আরবের ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ট্রেড ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইটিএফসি) থেকে ৩১০ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদিত, যার মধ্যে ২৫০ কোটি ডলার পেট্রোলিয়াম আমদানির জন্য এবং ৬০ কোটি ডলার এলএনজি আমদানির জন্য।
- 📌 ২৫ বছর মেয়াদ ও ৫ বছর গ্রেস পিরিয়ড: এডিবির ঋণের মেয়াদ ২৫ বছর এবং গ্রেস পিরিয়ড ৫ বছর। সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছে এসওএফআর-এর সঙ্গে ০.৫ শতাংশ স্প্রেড যুক্ত করে।
- 📌 ৬ মাস মেয়াদ জ্বালানি ঋণ: আইটিএফসি থেকে নেওয়া ৩১০ কোটি ডলারের ঋণের মেয়াদ ছয় মাস। সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ মাসের টার্ম এসওএফআরের সঙ্গে ১.৭০ শতাংশ যোগ করে।
📰 বিস্তারিত
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা যায়, বিদ্যুৎ বিভাগের অধীনে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বিআরইবি) বাস্তবায়নাধীন ‘পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক এনহান্সমেন্ট প্রজেক্ট’-এর জন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে ২০ কোটি ডলার ঋণ নেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে কমিটি। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো ঢাকা শহরের আশপাশের ১৩টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (পিবিএস) এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বাড়ানো, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার এবং জলবায়ু সহনশীলতা জোরদার করা। প্রকল্পটি ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০৩১ সালের জুলাই পর্যন্ত মেয়াদে বাস্তবায়ন করা হবে। এর আওতায় নতুন ও বিদ্যমান উপকেন্দ্র সম্প্রসারণ, ভূগর্ভস্থ ও ওভারহেড লাইন নির্মাণ, ইনসুলেটেড কন্ডাক্টর স্থাপন এবং ডিজিটাল মনিটরিং ও ফল্ট লোকেটর প্রযুক্তি যুক্ত করা হবে।
অন্যদিকে, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য সৌদি আরবের ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ট্রেড ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইটিএফসি) থেকে ৩১০ কোটি ডলারের স্বল্পমেয়াদি অনমনীয় ঋণের অনুমোদন দেওয়া হয়। এই ঋণের মধ্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) জ্বালানি তেল আমদানির জন্য ২৫০ কোটি ডলার এবং বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) এলএনজি আমদানির জন্য ৬০ কোটি ডলার ব্যয় করা হবে। আইটিএফসি নিজস্ব উৎস থেকে ৬০ কোটি ডলারের সংস্থান করবে এবং বাকি ২৫০ কোটি ডলার কো-ফাইন্যান্সিংয়ের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হবে।
ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, ঋণটির গ্র্যান্ট এলিমেন্ট ৫.৭০ শতাংশ। এটি ২৫ শতাংশের নিচে হওয়ায় ঋণটিকে অনমনীয় ঋণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। অনমনীয় ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে সরকারের নির্ধারিত নির্দেশিকা অনুসরণ করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, বৈদেশিক অনমনীয় ঋণের দায় পরিশোধের ব্যয় সংশ্লিষ্ট অর্থবছরের রপ্তানি আয়ের ১০ শতাংশ বা রাজস্ব আয়ের ১৫ শতাংশের বেশি হতে পারবে না। সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, নিজস্ব আয় থেকে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা এবং জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার বিবেচনায় নিয়ে এই ঋণ অনুমোদন করা হয়েছে।
"অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের কার্যপত্র অনুযায়ী, এডিবির ঋণের সুদের হার সিকিউর্ড ওভারনাইট ফাইন্যান্সিং রেট (এসওএফআর)-এর সঙ্গে শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ স্প্রেড যুক্ত করে নির্ধারণ করা হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (সচিবালয়), বাংলাদেশ, সৌদি আরবের জেদ্দা (আইটিএফসি)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৩০ কোটি ডলার (মোট ঋণ), ২০ কোটি ডলার (বিদ্যুৎ প্রকল্প), ৩১০ কোটি ডলার (জ্বালানি ঋণ), ২৫ বছর (মেয়াদ), ৫ বছর (গ্রেস পিরিয়ড)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!