📌 পিএইচপির দুটি মারাত্মক নিরাপত্তা ত্রুটি সাইবার হামলার সুযোগ করে দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, জাপানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারি ওয়েবসাইট বন্ধ করে দিয়েছে। বাংলাদেশের সফটওয়্যার বিশেষজ্ঞরা ত্রুটিগুলোর ঝুঁকি তুলে ধরেছেন
পিএইচপি ভাষার দুটি মারাত্মক নিরাপত্তা ত্রুটি বিশ্বব্যাপী সাইবার হামলার সুযোগ সৃষ্টি করেছে। এআই প্রযুক্তির সহায়তায় শনাক্তকৃত এই দুর্বলতা থেকে রক্ষা পেতে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, জাপানসহ বিভিন্ন দেশের সরকারি ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। পিএইচপি কর্তৃপক্ষ ত্রুটিগুলো সমাধান করলেও হ্যাকাররা এখনও এর অপব্যবহার করছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পিএইচপি ৫.৪ থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের সংস্করণে লুকিয়ে ছিল মারাত্মক দুটি নিরাপত্তা ত্রুটি, যা এআই গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যালিফ ও উইজের গবেষকরা শনাক্ত করেছে।
- 📌 ৯.২/১০ তীব্রতা স্কেলে মূল্যায়িত এই ত্রুটি থেকে রক্ষা পেতে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, জাপানসহ বিভিন্ন দেশের সরকারি ওয়েবসাইট বন্ধ করে দিয়েছে।
- 📌 ২০ অক্টোবর পিএইচপি ত্রুটির সংবাদ প্রকাশের চার দিন আগেই আমাজনের নিরাপত্তাদল হামলার চেষ্টা শনাক্ত করেছিল।
- 📌 ৭০ শতাংশ বিশ্বের ওয়েবসাইট পিএইচপি ব্যবহার করে, যার মধ্যে ওয়ার্ডপ্রেস, ড্রুপাল, জুমলা সহ বহু জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম অন্তর্ভুক্ত।
- 📌 পিএইচপি২শেল নামে পরিচিত এই ত্রুটি থেকে হ্যাকাররা পাসওয়ার্ড, ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করতে পারে এবং ওয়েবসাইটের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে।
📰 বিস্তারিত
পিএইচপি ভাষা বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ ওয়েবসাইটে ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে ওয়ার্ডপ্রেস, ড্রুপাল, জুমলা সহ বহু জনপ্রিয় ওয়েবসাইটের পিছনে রয়েছে এই ভাষা। এআই প্রযুক্তির সহায়তায় সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্যালিফ ও উইজের গবেষকরা পিএইচপিতে দুটি মারাত্মক নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত করেছেন। এই ত্রুটি থেকে রক্ষা পেতে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, জাপানসহ বিভিন্ন দেশের সরকারি ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে।
মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের এআই ও সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক লেকচারার অ্যান্ড্রিউ কুলেন বলেছেন, বিশ্বের অসংখ্য সার্ভার পিএইচপির ওপর নির্ভরশীল। এই ত্রুটির সুযোগ নিয়ে একজন হ্যাকার ওয়েবসাইটের তথ্যভান্ডার পরিবর্তন করতে পারে, ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করতে পারে বা পুরো ওয়েবসাইটের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে। বাংলাদেশের সফটওয়্যার প্রকৌশলী সুমিত সাহা জানিয়েছেন, পিএইচপির মেমোরি ব্যবস্থাপনা ত্রুটি থেকে সার্ভারের অভ্যন্তরীণ তথ্য প্রকাশ বা ক্ষতিকর কোড চালানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
ক্লাউড সিকিউরিটি প্রতিষ্ঠান উইজ জানিয়েছে, এই ত্রুটি পিএইচপির ভেতরেই লুকিয়ে ছিল। এর ফলে পিএইচপি চালিত যেকোনো ওয়েবসাইট ঝুঁকিতে পড়তে পারে। হ্যাকাররা সার্ভারের মেমোরি থেকে পাসওয়ার্ড ও সংবেদনশীল তথ্য চুরি করতে পারে। এই ত্রুটি পিএইচপি কোডবেজে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে লুকিয়ে ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
"এই ত্রুটির মাধ্যমে একজন আক্রমণকারী কোনো ধরনের পাসওয়ার্ড বা বৈধ অ্যাকাউন্টের অ্যাকসেস ছাড়াই দূরবর্তী অবস্থান থেকে ক্ষতিকর কোড চালাতে পারে। এর ফলে হ্যাকাররা সহজেই ওয়েবসাইটের তথ্যভান্ডার থেকে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করতে পারেন।"
২০ অক্টোবর পিএইচপি ত্রুটির সংবাদ প্রকাশের চার দিন আগেই আমাজনের নিরাপত্তাপ্রধান সিজে মোসেস জানিয়েছেন, তাদের নিরাপত্তাদল হামলার চেষ্টা শনাক্ত করেছিল। সাধারণত নিরাপত্তা গবেষকেরা ত্রুটির বিবরণ গোপন রাখেন, যাতে আক্রমণকারীরা এর সুযোগ নিতে না পারে। কিন্তু এই ক্ষেত্রে হ্যাকাররা কীভাবে ত্রুটির কথা জানতে পারলেন, তা স্পষ্ট নয়।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, জাপান, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অ্যান্ড্রিউ কুলেন (লেকচারার), সুমিত সাহা (সফটওয়্যার প্রকৌশলী), সিজে মোসেস (আমাজনের নিরাপত্তাপ্রধান)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫.৪ (পিএইচপি সংস্করণ), ২০ (অক্টোবর), ৯.২ (তীব্রতা স্কেল), ৭০ (শতাংশ ওয়েবসাইট)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!