📌 ফরিদপুর পিবিআই গ্রেপ্তার করেছে ডিজিটাল প্রতারক চক্রের দুই সদস্য। তারা জিনের বাদশাহ বা তান্ত্রিক পরিচয়ে নারীদের ফোন করে এবং মোবাইল নম্বর ক্লোন করে ব্যবসায়ীদের প্রতারণা করত। ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা চুরি করে তারা বিকাশের মাধ্যমে টাকা সংগ্রহ করত
ফরিদপুর পিবিআই আজ বুধবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা করেছে, ডিজিটাল প্রতারক চক্রের দুই সদস্য সুমন ও রাজিবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা বিভিন্ন উপায়ে ভুক্তভোগীদের প্রতারণা করে মোট ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা চুরি করেছিল। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই চক্রটি জিনের বাদশাহ বা তান্ত্রিক পরিচয়ে গভীর রাতে নারীদের ফোন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করত। মোবাইল নম্বর ক্লোন করে ব্যবসায়ীদেরও প্রতারণা করা হতো।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন থানার সুমন (২৬) ও রাজিব (২৮) গ্রেপ্তার করা হয়েছে ডিজিটাল প্রতারক চক্রের সদস্য হিসেবে।
- 📌 তারা জিনের বাদশাহ বা তান্ত্রিক পরিচয়ে নারীদের ফোন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করত এবং বিকাশের মাধ্যমে টাকা চুরি করত।
- 📌 মোবাইল নম্বর ক্লোন করে ব্যবসায়ীদের প্রতারণা করে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা চুরি করা হয়েছিল।
- 📌 গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, চক্রের সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়েও প্রতারণা করত।
- 📌 চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারের অভিযান চলমান রয়েছে।
📰 বিস্তারিত
গ্রেপ্তারকৃত সুমন (২৬) ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন থানার ফুলকাচিয়া গ্রামের মৃত মোসলেম হাওলাদারের ছেলে। অন্যজন মো. রাজিব (২৮) একই থানার মূলপাইততন গ্রামের রমজান মিয়ার ছেলে। গত সোমবার বোরহানউদ্দিন থানার কুঞ্জেরহাট বাজারের আশপাশ থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর রাজবাড়ী সদর থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলার সূত্র ধরে এই চক্রটিকে শনাক্ত করা হয়। মামলাটি করেন রাজবাড়ী সদর থানার বিনোদপুর এলাকার চাল ব্যবসায়ী রশিদুল ইসলাম। ২০২৪ সালের ২৫ মার্চ চক্রটি বিজয় বাবু নামে পরিচিত এক ব্যবসায়ীর মোবাইল নম্বর ক্লোন করে রশিদুল ইসলামকে ফোন করে। জরুরি টাকার প্রয়োজনের কথা বলে সুলভ মূল্যে ৩৩ টন চাল বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হয়। বিকেল ৪টার মধ্যে চাল পৌঁছে দেওয়ার কথাও বলা হয়। বিজয় বাবুর সঙ্গে আগে ব্যবসায়িক লেনদেন থাকায় প্রস্তাবটি গ্রহণ করেন রশিদুল ইসলাম। ওই দিন দুপুরে চক্রটির দেওয়া আটটি বিকাশ ও নগদ নম্বরে মোট ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পাঠান। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও চালের গাড়ি না আসায় বিজয় বাবুর কার্যালয়ে যান রশিদুল ইসলাম। সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, এ ঘটনায় বিজয় বাবুর সঙ্গে তাঁর কোনো কথাই হয়নি। প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে রাজবাড়ী সদর থানায় মামলা করেন তিনি।
ওই মামলায় আট মাস তদন্তের পর কোনো আসামি গ্রেপ্তার ছাড়াই ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে আদালতে অভিযোগপত্র দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায় ফরিদপুর পিবিআই। পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক মাজিদুল হক খান মামলাটি তদন্ত করেন। পুলিশ সুপার বলেন, চক্রটির সারা দেশে নেটওয়ার্ক রয়েছে এবং পাঁচজন সদস্য রয়েছেন। সুমন বিভিন্ন বিকাশ ক্যাশআউট পয়েন্ট থেকে প্রতারণার টাকা সংগ্রহ করতেন। অন্য সদস্যরা ভুক্তভোগীদের তথ্য, মোবাইল নম্বর ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করতেন।
"চক্রের সদস্যরা কখনো জিনের বাদশাহ পরিচয়ে গভীর রাতে নারীদের ফোন করে প্রতারণার ফাঁদে ফেলতেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তান্ত্রিক ও স্বনামধন্য কবিরাজ পরিচয়ে বিজ্ঞাপন দিয়েও প্রতারণা করা হতো।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ফরিদপুর পিবিআই কার্যালয়, বোরহানউদ্দিন থানা (ভোলা), রাজবাড়ী সদর থানা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম, সুমন (২৬), মো. রাজিব (২৮), রশিদুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২ সদস্য, ২৬ বছর, ২৮ বছর, ৩৩ টন চাল, ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!