📌 পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) একটি আন্তর্জাতিক সাইবার প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সুন্দরী নারীদের ছবি ব্যবহার করে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাকে ৩৪ লাখ টাকা প্রতারিত করেছিল। কম্বোডিয়া থেকে পরিচালিত এই চক্রের সদস্যরা ভুয়া প্রোফাইল তৈরি করে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছিল
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) একটি আন্তর্জাতিক সাইবার প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সুন্দরী নারীদের ছবি ব্যবহার করে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাকে ৩৪ লাখ ৫৪ হাজার ২৮৬ টাকা প্রতারিত করেছিল। পিবিআই জানায়, এই চক্রের মূল নেটওয়ার্ক কম্বোডিয়া থেকে পরিচালিত হতো এবং বাংলাদেশের একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে প্রতারণা চালানো হয়েছিল।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৩৪ লাখ টাকা প্রতারিত অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এন সায়েম উদ্দিন আহমেদ (৬২) — দারুস সালাম এলাকার বাসিন্দা
- 📌 ৩ সদস্য গ্রেপ্তার: মো. মেহেদী হাসান ওরফে সোহাগ (২৭), আবুল হাসান ওরফে নাসিম (২৪), সুমাইয়া খাতুন ওরফে শান্তা (২৪)
- 📌 কম্বোডিয়া থেকে পরিচালিত সাইবার প্রতারক চক্রের নেটওয়ার্ক — বাংলাদেশি এজেন্ট হিসেবে সোহাগ কাজ করতেন
- 📌 ভুয়া লাভের প্রস্তাব দিয়ে অর্থ নেওয়া হতো — শুরুতে কম দামে বিমান টিকিট বিক্রি করে লাভ দেখানো হতো
- 📌 অভিযান খুলনা থেকে — সোনাডাঙ্গা, খালিশপুর, আড়ংঘাটা ও হরিণটানা এলাকায় গ্রেপ্তার
- 📌 ব্যাংক কার্ড, লেনদেনের হিসাবপত্র ও মোবাইল রেকর্ড উদ্ধার করা হয়েছে
📰 বিস্তারিত
পিবিআইয়ের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. এনায়েত হোসেন মান্নান সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সংবাদ সম্মেলনে জানান, এই চক্রের সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সুন্দরী নারীদের ছবি ব্যবহার করে ভুয়া প্রোফাইল তৈরি করে পুরুষদের কাছে বন্ধুত্বের অনুরোধ পাঠাতো। অনুরোধ গ্রহণের পর নির্দিষ্ট চ্যাটিং স্ক্রিপ্ট অনুসরণ করে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করা হতো। সম্পর্ক গড়ে ওঠার পর হোয়াটসঅ্যাপে ভয়েস মেসেজ, ফোন কল এবং ভিডিও কলের মাধ্যমে নারীদের উপস্থিত করা হতো। এরপর অনলাইনে লাভজনক ব্যবসা বা বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হতো বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
দারুস সালাম এলাকার বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এন সায়েম উদ্দিন আহমেদ (৬২) এই প্রতারণার শিকার হন। চক্রটি নিজেদের ‘AIRPAZ WORKING GROUP’-এর প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে তাঁকে কম দামে বিমানের টিকিট কিনে অনলাইনে স্টার রেটিং দেওয়ার পর বেশি দামে বিক্রির মাধ্যমে লাভের প্রস্তাব দেয়। শুরুতে ভুয়া লাভ দেখিয়ে তাঁর বিশ্বাস অর্জন করা হয়। পরে টাকা তুলতে গেলে সিকিউরিটি মানি, ভিআইপি চ্যানেল ফি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কেওয়াইসি ক্লিয়ারেন্সের কথা বলে বিভিন্ন ধাপে অর্থ দাবি করা হয়। একপর্যায়ে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার ভয় দেখিয়ে তাঁর কাছ থেকে মোট ৩৪ লাখ ৫৪ হাজার ২৮৬ টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
পিবিআই জানায়, গ্রেপ্তারকৃত মেহেদী হাসান সোহাগ আগে কম্বোডিয়ায় ছিলেন। সেখানে তিনি এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত হন এবং পরে বাংলাদেশি এজেন্ট হিসেবে কাজ শুরু করেন। দেশে থাকা সহযোগীদের নির্দিষ্ট টার্গেট দেওয়া হতো এবং মাসিক বেতন নির্ধারণ করা থাকত। টার্গেট পূরণ না হলে বেতন কেটে নেওয়া হতো। আবার বড় অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিতে পারলে অতিরিক্ত কমিশন দেওয়া হতো। কম্বোডিয়ায় থাকা অবস্থায় সোহাগের সঙ্গে সুমাইয়া খাতুনের পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। পরে সুমাইয়ার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে প্রতারণার অর্থ লেনদেন ও নগদায়ন করা হতো বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।
"প্রযুক্তির আড়ালে থাকা চক্রটির নির্দিষ্ট কোনো মোবাইল নম্বর ছিল না। প্রায় তিন মাস তদন্তের পর সুমাইয়ার সূত্র ধরে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকেই সোহাগ ও তাঁর সহযোগীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।"
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মাহমুদুল হাসান জানান, অভিযানে আসামিদের কাছ থেকে ব্যাংকের ডেবিট কার্ড, লেনদেনের হিসাবপত্র, ভুয়া টেলিগ্রাম গ্রুপের স্ক্রিনশট, পাসপোর্ট এবং মোবাইল ফোনের কথোপকথনের অডিও-ভিডিওসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। পিবিআই অনলাইনে অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে বন্ধুত্ব বা সম্পর্ক তৈরির ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে এবং বিশেষ করে অনলাইনে পরিচিত কারও দেওয়া বিনিয়োগ, ব্যবসা বা দ্রুত লাভের প্রস্তাবে অর্থ পাঠানোর আগে যথাযথভাবে যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (দারুস সালাম), খুলনা (সোনাডাঙ্গা, খালিশপুর, আড়ংঘাটা, হরিণটানা), কম্বোডিয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: এন সায়েম উদ্দিন আহমেদ (৬২), মো. মেহেদী হাসান ওরফে সোহাগ (২৭), আবুল হাসান ওরফে নাসিম (২৪), সুমাইয়া খাতুন ওরফে শান্তা (২৪), অতিরিক্ত ডিআইজি মো. এনায়েত হোসেন মান্নান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৪ লাখ ৫৪ হাজার ২৮৬ টাকা, ২৭ বছর, ২৪ বছর, ৬২ বছর, ২৮ সেপ্টেম্বর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!