📌 চট্টগ্রামের কাউন্টার টেররিজম বিভাগ ৬৩ জন বিদেশি সাইবার স্ক্যামারকে গ্রেপ্তার করে তদন্তে নেয়। গোয়েন্দা তথ্য ও ফরেনসিক বিশ্লেষণে গোল্ডেন সন লিমিটেডের সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতা উঠে এসেছে, তবে প্রতিষ্ঠানটির কোনো কর্মকর্তা সাক্ষাৎকার দিতে রাজি হননি। পুলিশ জানায়, গোল্ডেন সনের হিসাব ব্যবস্থাপক সৈয়দ মোহাম্মদ মহসিনও আন্তর্জাতিক স্ক্যামারদের সাথে যোগাযোগের কথা স্বীকার করেছেন
চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিক সাইবার স্ক্যামারদের একটি চক্রের গোপন আস্তানা আবিষ্কার করে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম বিভাগ। ৬৩ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করে তদন্তে নেয়া হলে গোল্ডেন সন লিমিটেডের সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতা উঠে এসেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি কোনো সাক্ষাৎকার দিতে রাজি হয়নি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৬৩ জন বিদেশি সাইবার স্ক্যামার গ্রেপ্তার করে চট্টগ্রাম পুলিশের কাউন্টার টেররিজম বিভাগ। এদের মধ্যে পাকিস্তান, চীন, ভিয়েতনাম, লাওস ও নেপালের নাগরিক রয়েছেন।
- 📌 গোল্ডেন সন লিমিটেডের হিসাব ব্যবস্থাপক সৈয়দ মোহাম্মদ মহসিন স্বীকার করেছেন, তিনি চীনা বসের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক স্ক্যামারদের সাথে যোগাযোগ করেছিলেন।
- 📌 ১৪টি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে গড়ে তোলা একটি আটতলা ভবন ছিল স্ক্যামারদের গোপন আস্তানা। ভবনের মালিক সৌদি প্রবাসী তিন ভাই।
- 📌 ১৫ দিনে ৬৩ জনের জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হয়। ভাষাসংক্রান্ত জটিলতা এড়াতে গুগল ট্রান্সলেটর ব্যবহার করা হয়।
- 📌 গোল্ডেন সনের এমডি বেলাল আহমেদ ফোনে যোগাযোগে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কোনো কিছু বলার নেই’ এবং ফোন কেটে দেন।
📰 বিস্তারিত
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কাউন্টার টেররিজম বিভাগের তদন্তে গোল্ডেন সন লিমিটেডের সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতা উঠে এসেছে। পাঁচ দেশের ৬৩ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করে তদন্তে নেয়া হলে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে গোল্ডেন সনের নাম উঠে আসে। তবে প্রতিষ্ঠানটি কোনো সাক্ষাৎকার দিতে রাজি হয়নি।
তদন্তে জানা গেছে, গোল্ডেন সনের হিসাব ব্যবস্থাপক সৈয়দ মোহাম্মদ মহসিনও আন্তর্জাতিক স্ক্যামারদের সাথে যোগাযোগের কথা স্বীকার করেছেন। তবে রিমান্ডে স্বীকারোক্তি দিতে রাজি হননি তিনি। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ সেপ্টেম্বর কোকেন উদ্ধার মামলায় মহসিনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তিনি দাবি করেছিলেন, কোম্পানির চীনা বসের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক স্ক্যামারদের সাথে তার যোগাযোগ ছিল।
৬৩ জন বিদেশি নাগরিকের মধ্যে দু-তিনজন পাকিস্তানি ছাড়া বাকিরা নিজ দেশের ভাষা ছাড়া অন্য কোনো ভাষা বুঝতেন না। তদন্ত সংস্থা ভাষাসংক্রান্ত জটিলতা এড়াতে গুগল ট্রান্সলেটর ব্যবহার করে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ সম্পন্ন করেছে। ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত ৬৩ জনের সবাইকে পর্যায়ক্রমে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হয়েছে।
গোল্ডেন সন লিমিটেডের চেয়ারম্যান তাইওয়ানের নাগরিক মিসেস লিন ইউ চেন এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাংলাদেশের বেলাল আহমেদ। প্রতিষ্ঠানটির কোম্পানি সেক্রেটারি ইশহাক ফাহাদ বলেন, ‘আমি মূলত কোম্পানির শেয়ারবাজার দেখাশোনা করি’। তবে পুলিশের তদন্তে প্রতিষ্ঠানটির কোনো কর্মকর্তা সাক্ষাৎকার দিতে রাজি হননি।
"এ বিষয়ে আমার কোনো কিছু বলার নেই।"
চট্টগ্রামের জাকির হোসেন রোডের ওয়ারলেস মোড় থেকে রিকশায় মাত্র পাঁচ মিনিটের দূরত্বে অবস্থিত একটি নির্মাণাধীন ভবন ছিল স্ক্যামারদের গোপন আস্তানা। ভবনটির মালিক সৌদি প্রবাসী তিন ভাই মামুন করিম, মোহাম্মদ আক্কাস ও মোহাম্মদ জাকারিয়া হক। জানা গেছে, গত আগস্টে সাবেক সেনাসদস্য আবু জাফরের মাধ্যমে ভবনটির ১৪টি ফ্ল্যাট ভাড়া দেওয়া হয়। চুক্তি অনুযায়ী অগ্রিম ১৬ লাখ টাকা এবং মাসিক ভাড়া নির্ধারণ করা হয় ৪ লাখ টাকা।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম, জাকির হোসেন রোড, ওয়ারলেস মোড়, কৃষ্ণের চূড়া আবাসিক এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সৈয়দ মোহাম্মদ মহসিন (গোল্ডেন সনের হিসাব ব্যবস্থাপক), বেলাল আহমেদ (গোল্ডেন সনের এমডি), মামুন করিম, মোহাম্মদ আক্কাস, মোহাম্মদ জাকারিয়া হক (ভবনের মালিক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬৩ জন বিদেশি নাগরিক, ১৫ দিন জিজ্ঞাসাবাদ, ১৪টি ফ্ল্যাট, ১৬ লাখ টাকা অগ্রিম, ৪ লাখ টাকা মাসিক ভাড়া
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!