📌 বাগেরহাটের একটি প্রতারণা চক্র গ্রাহকের আঙুলের ছাপ জালিয়াতি করে নগদ-বিকাশের ২ লাখ টাকা সরিয়ে নিত। পুলিশের অভিযানে ৯ সদস্য গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং ৮০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে। পুলিশ বলেছেন, এই চক্রের সদস্যরা কৃত্রিম আঙুলের ছাপ তৈরি করে সিম রিপ্লেসমেন্ট করে অর্থ আত্মসাত করতেন
বাগেরহাটের একটি জটিল প্রতারণা চক্রের সদস্যরা বায়োমেট্রিক ছাপ জালিয়াতি করে গ্রাহকের নগদ-বিকাশ ও বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে লক্ষাধিক টাকা আত্মসাত করতেন। পুলিশের অভিযানে এই চক্রের ৯ সদস্য গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং তাদের কাছ থেকে ১১টি মুঠোফোন, ৮০ হাজার ৭৪০ টাকা, ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানারসহ বিভিন্ন মালামাল জব্দ করা হয়েছে। বাগেরহাট জেলা পুলিশ ও এসআরবি-১০-এর যৌথ অভিযানেই এই গ্রেপ্তার সম্ভব হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৯ জন গ্রেপ্তার**: বাগেরহাটের শরণখোলা থেকে বরগুনার বালিয়াতলী পর্যন্ত ৯ জনের বিরুদ্ধে নগদ-বিকাশ প্রতারণার মামলা দায়ের করা হয়েছে।
- 📌 **২ লাখ টাকা আত্মসাত**: গত ২৭ জুন একই ধরনের প্রতারণায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
- 📌 **বায়োমেট্রিক জালিয়াতি**: গ্রাহকের আঙুলের ছাপ রেকর্ড করে কৃত্রিম ছাপ তৈরি করে সিম রিপ্লেসমেন্ট করা হতো।
- 📌 **৮০ হাজার টাকা জব্দ**: গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে ৮০ হাজার ৭৪০ টাকা, ১১টি ফোন ও স্ক্যানারসহ জব্দ করা হয়েছে।
- 📌 **দীর্ঘদিন ধরে চলত প্রতারণা**: চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে নগদ-বিকাশসহ এমএফএস অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা সরিয়ে নিত।
📰 বিস্তারিত
বাগেরহাট জেলা পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলামের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রতারণা চক্রের সদস্যরা প্রথমে গ্রাহকের আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করতেন। এরপর বায়োমেট্রিক ডিভাইস বা ফোনের স্ক্রিন রেকর্ডিংয়ের মাধ্যমে ছাপের প্যাটার্ন আলাদা করে ডিজিটালভাবে পুনরুৎপাদন করতেন। কৃত্রিম ছাপ দিয়ে সিম রিপ্লেসমেন্ট করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া সিমের মাধ্যমে এমএফএস অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা সরিয়ে নিতেন।
সহকারী পুলিশ সুপার (মোংলা সার্কেল) মো. রেফাতুল ইসলাম বলেছেন, এই চক্রের সদস্যরা গ্রাহকের শারীরিক উপস্থিতি ছাড়াই কৃত্রিমভাবে তৈরি বায়োমেট্রিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা করতেন। এতে গ্রাহক কোনো ওটিপি পাওয়ার সুযোগ পান না, ফলে বিষয়টি সহজে ধরা পড়ত না।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার ইয়াছিন সওদাগর (২১), মোংলা উপজেলার শামীম মেখ (২৭), বাগদিয়া এলাকার রাশেদ মোড়ল (২০), পূর্ব সরালিয়া এলাকার এহসানুল হাসান ওরফে রাকিব (৩২), পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ফেরদাউস (২১), মির্জাগঞ্জ উপজেলার মো. মামুন গাজী (২১), গজারিয়া উপজেলার আশরাফুল ইসলাম (২৬), জাইসতালা এলাকার মেহেদী হাসান (২৯) এবং বরগুনা সদর উপজেলার মো. নাজমুল হাসান (২০)।
"গ্রাহকের আঙুলের ছাপের নকশা ব্যবহার করে কৃত্রিম ছাপ তৈরি করে সিম রিপ্লেসমেন্ট করা হতো। পরে ওই অ্যাকাউন্টের পিন রিসেট করে টাকা অন্য নম্বরে স্থানান্তর করা হতো।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাগেরহাট, মোংলা, পটুয়াখালী, মুন্সিগঞ্জ, বরগুনা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জামিরুল ইসলাম (পুলিশ সুপার), রেফাতুল ইসলাম (সহকারী পুলিশ সুপার)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯ জন গ্রেপ্তার, ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাত, ৮০ হাজার ৭৪০ টাকা জব্দ, ১১টি ফোন জব্দ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!