📌 বাগেরহাটের একটি চক্র আঙুলের ছাপ ক্লোন করে গ্রাহকের অজান্তে সিম নিবন্ধন করত এবং অপরাধীদের কাছে বিক্রি করত। পুলিশ তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করে, ১৪১টি রাবার কিটসহ যন্ত্রপাতি জব্দ করেছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এতে জড়িত জাতীয় পরিচয়পত্রের সার্ভারের তথ্যও ব্যবহৃত হত
বাগেরহাটের একটি জালিয়াতি চক্র আঙুলের ছাপ ক্লোন করে গ্রাহকের অজান্তে মোবাইল সিম নিবন্ধন করত এবং চড়া দামে অপরাধীদের কাছে বিক্রি করত। পুলিশ এই চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করে এবং তাদের হাতে থাকা যন্ত্রপাতি, রাবার কিটসহ বিভিন্ন প্রমাণ জব্দ করেছে। আজ বৃহস্পতিবার পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলাম জানান, এই চক্রটি বায়োমেট্রিক যন্ত্রের মাধ্যমে আঙুলের ছাপ সংরক্ষণ করে কৃত্রিমভাবে নকল ছাপ তৈরি করত এবং সেগুলি ব্যবহার করে সিম নিবন্ধন করত।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বাগেরহাট জেলার সদর উপজেলার কার্তিকদিয়া গ্রামে পুলিশ তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে, যাদের মধ্যে রয়েছে মো. মামুন আলী খাঁ (৩০), মো. জিহাদ বিশ্বাস (২৩) ও মো. লিটু বিশ্বাস ওরফে বাবু (২২)।
- 📌 চক্রটি গ্রাহকের আঙুলের ছাপ ক্লোন করে সিম নিবন্ধন করত এবং অপরাধীদের কাছে বিক্রি করত, যার মাধ্যমে এমএফএসসহ আর্থিক সেবায় জালিয়াতি করা হতো।
- 📌 অভিযানে পুলিশ জব্দ করেছে একটি ফিঙ্গার স্ক্যানার মেশিন, চারটি ইউএসবি পোর্ট, গ্রামীণফোনের ২১টি অব্যবহৃত সিম, ১৪১টি রাবার কিটসহ বায়োমেট্রিক ছাপযুক্ত নমুনা এবং তিনটি স্মার্টফোন।
- 📌 পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চক্রের সদস্যরা জাতীয় পরিচয়পত্রের সার্ভারের তথ্য ব্যবহার করতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
- 📌 পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলাম জানান, এটি একটি বড় চক্রের অংশ এবং অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারের অভিযান চলমান রয়েছে।
📰 বিস্তারিত
বাগেরহাট জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গতকাল বুধবার রাতে সদর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়নের কার্তিকদিয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে এই চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশের তথ্য মতে, এই চক্রটি গ্রাহকের আঙুলের ছাপ সংরক্ষণ করে স্ট্যাম্প তৈরির রাবারে কৃত্রিমভাবে নকল ছাপ তৈরি করত। পরে সেই ছাপ দিয়ে বিভিন্ন অপারেটরের সিম নিবন্ধন করত। কিন্তু যাঁর নামে সিম নিবন্ধন করা হতো, তিনি তা জানতেও পারতেন না।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই চক্রটি সিম নিবন্ধন করে অপরাধীদের কাছে বিক্রি করত। চড়া দামে বিক্রিত সিম ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ সংঘটিত হতো। বিশেষ করে, এমএফএসসহ আর্থিক পরিষেবায় জালিয়াতি করা হতো। পুলিশের মতে, গ্রাহকের আঙুলের ছাপ ক্লোন করে নিবন্ধন করা সিম ব্যবহার করে কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে সংশ্লিষ্ট গ্রাহক আইনি জটিলতায় পড়ার আশঙ্কা ছিল।
পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলাম বলেন, “এটি একটি বড় চক্রের অংশ। চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এর আগে কয়েক দিন আগে বায়োমেট্রিক জালিয়াতির মাধ্যমে সিম প্রতিস্থাপন করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল বাগেরহাট জেলা পুলিশ।”
"চক্রটি আঙুলের ছাপ সংরক্ষণ করে স্ট্যাম্প তৈরির রাবারে কৃত্রিমভাবে হুবহু নকল ছাপ তৈরি করত। পরে সেই ছাপের সাহায্যে বিভিন্ন অপারেটরের সিম নিবন্ধন করত।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কার্তিকদিয়া গ্রাম, সদর উপজেলা, বাগেরহাট
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. জামিরুল ইসলাম (পুলিশ সুপার), মো. মামুন আলী খাঁ (৩০), মো. জিহাদ বিশ্বাস (২৩), মো. লিটু বিশ্বাস ওরফে বাবু (২২)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ জন গ্রেপ্তার, ২১টি অব্যবহৃত সিম, ১৪১টি রাবার কিট, ৯ জন পূর্বে গ্রেপ্তার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!