📌 কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নারী সদস্যের ছবি ব্যবহার করে ইতালি প্রবাসী তরুণ শাহাদাত খানকে প্রেমের বাঁধা দিয়ে ৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে ঢাকার তোফায়েল আলম টিটুকে পিবিআই গ্রেপ্তার করেছে। প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত অ্যাকাউন্ট ও মোবাইল জব্দ করা হয়েছে
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকা জেলা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নারী সদস্যের ছবি ব্যবহার করে ইতালি প্রবাসী তরুণ শাহাদাত খানকে প্রেমের বাঁধা দিয়ে ৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে তোফায়েল আলম টিটু (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে। এই প্রতারণায় শাহাদাতের মা শাহনাজ বেগম (৪৬) ও তার ছেলে জড়িত থাকার বিষয়টি উন্মোচিত হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 এআই ছবি ব্যবহার করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নারী সদস্যের পরিচয়ে ইতালি প্রবাসী তরুণ শাহাদাত খানকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়।
- 📌 ৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ শাহাদাতের কাছ থেকে বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বিভিন্ন কৌশলে টাকা নেওয়া হয়।
- 📌 গ্রেপ্তার হন তোফায়েল আলম টিটু ঢাকার দারুস সালাম এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে ২০ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার করা হয়।
- 📌 জব্দ করা হয় প্রতারণার প্রমাণ আসামির হেফাজতে তিনটি মোবাইল ফোন ও প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্টের সিম জব্দ করা হয়।
- 📌 সিআর মামলা থেকে শুরু ভুক্তভোগীর মা আদালতে সিআর মামলা করার পর পিবিআই তদন্ত শুরু করে এবং ১৩ সেপ্টেম্বর মামলাটি গ্রহণ করে।
- 📌 দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারা কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় প্রতারণার অভিযোগে মামলা করা হয়।
- 📌 আসামির বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট কিশোরগঞ্জ আদালতে তার বিরুদ্ধে একটি সিআর মামলায় ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম. এন. মোর্শেদ জানান, কেরানীগঞ্জ মডেল থানার বারিশুর বাঘবাড়ি এলাকার শাহনাজ বেগমের ইতালি প্রবাসী ছেলে শাহাদাত খান (২২)কে প্রতারণার শিকার করা হয়। ফেসবুকের ‘লেডি সোলজার/নারী যোদ্ধা’ নামের একটি পেজের মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নারী সদস্যের পোশাক পরা এআই ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করে শাহাদাতের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরে নারী সেনা সদস্য পরিচয়ে নারীসুলভ কণ্ঠে ফোনালাপ করে তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলা হয়।
প্রতারণাকারীরা প্রেমের সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে শাহাদাতের কাছ থেকে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে প্রায় ৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে। ভুক্তভোগী ও তার মা প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন এবং আদালতে সিআর মামলা করেন। মামলাটি তদন্তের সময় পিবিআই প্রতারণার প্রাথমিক প্রমাণ পায়। বিকাশ ও নগদের লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ করে আসামির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় মামলা করা হয়।
তদন্তে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে ২০ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টা ৩৫ মিনিটে ঢাকার দারুস সালাম এলাকায় অভিযান চালিয়ে তোফায়েল আলম টিটুকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার হেফাজত থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্টের সিমসহ তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। পুলিশ জানায়, আসামি নারীর মতো কণ্ঠে কথা বলতে পারেন এবং শাহাদাতের সঙ্গে ফেসবুক মেসেঞ্জারে তার পরিচয় হয়। পরে ইমোতেও নারী কণ্ঠে শাহাদাতের সঙ্গে কথা বলতেন তিনি।
২১ সেপ্টেম্বর আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পুলিশের তথ্য যাচাইয়ে গ্রেপ্তার টিটুর বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জ আদালতে একটি সিআর মামলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। ওই মামলার তদন্ত শেষে আদালত তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করেছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।
"আসামি নারীর মতো কণ্ঠে কথা বলতে পারেন। শাহাদাতের সঙ্গে ফেসবুক মেসেঞ্জারে তার পরিচয় হয়। পরে ইমোতেও নারী কণ্ঠে শাহাদাতের সঙ্গে কথা বলতেন তিনি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (দারুস সালাম, কেরানীগঞ্জ মডেল থানা, বারিশুর বাঘবাড়ি)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: তোফায়েল আলম টিটু (৩৫), শাহনাজ বেগম (৪৬), শাহাদাত খান (২২), পুলিশ সুপার এম. এন. মোর্শেদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭ লাখ টাকা, ২২ বছর, ৩৫ বছর, ৪৬ বছর, ২০ সেপ্টেম্বর, ২৭ সেপ্টেম্বর, ১৩ সেপ্টেম্বর, ৪০৬ ও ৪২০ ধারা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!