📌 ক্যানসার ও চিকিৎসার কঠিন ধাক্কা পেরিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ওপেনার ব্যাটসম্যান নিক ম্যাডিনসন দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের টেস্ট দলে ফিরেছেন। ৩৪ বছর বয়সী ম্যাডিনসন ২০১৬ সালের পর প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে ফিরেছেন
অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় শুরু করেছে নিক ম্যাডিনসন। ক্যানসার ও চিকিৎসার কঠিন লড়াইয়ের পরও তিনি অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলে ফিরে এসেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের জন্য ঘোষিত স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছেন এই ওপেনার ব্যাটসম্যান। গতকাল ঘোষিত এই স্কোয়াডে ম্যাডিনসনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা তার পেশাদার ক্রিকেট জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য ফিরে আসা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **ক্যানসার ও চিকিৎসার পর ফিরেছেন**: টেস্টিকুলার ক্যানসার ও কেমোথেরাপির পরও অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলে ফিরেছেন নিক ম্যাডিনসন।
- 📌 **দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে অংশগ্রহণ**: ম্যাডিনসন দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের টেস্ট স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত হন।
- 📌 **মানসিক ও শারীরিক লড়াই**: কেমোথেরাপির পাশাপাশি মানসিক চাপ ও শারীরিক অসুস্থতা কাটিয়ে উঠতে হয় ম্যাডিনসনকে।
- 📌 **৩৪ বছর বয়সে ফিরেছেন**: ২০১৬ সালের পর প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়া টেস্ট দলে ফিরেছেন ম্যাডিনসন।
- 📌 **ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতা**: শেফিল্ড শিল্ডে ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ৫২.৩৭ গড়ে ব্যাটিং করেছেন ম্যাডিনসন।
- 📌 **বিয়াঙ্কার সহায়তা**: স্ত্রী বিয়াঙ্কা পরিবার ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার ভার নেন।
📰 বিস্তারিত
নিক ম্যাডিনসনের জীবনে ক্যানসার ছিল একটি ভয়াবহ প্রতিবন্ধকতা। গত বছরের মাঝামাঝি তার টেস্টিকুলার ক্যানসার ধরা পড়ে। অস্ত্রোপচার ও কেমোথেরাপির পরও ক্যানসার ছড়িয়ে পড়ে। চিকিৎসার সময় তার স্ত্রী বিয়াঙ্কা দ্বিতীয় সন্তানের অপেক্ষায় ছিলেন। পরিবার পরিচালনার ভার নেন বিয়াঙ্কা। ম্যাডিনসনের কথায়, ‘দ্বিতীয় বা তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যেই আমার সব চুল পড়ে গিয়েছিল। শরীর খুব খারাপ লাগতো।’ কেমোথেরাপির পাশাপাশি স্টেরয়েডের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তাকে রাতের ঘুম থেকে বঞ্চিত করে। তিনি বলেন, ‘হাসপাতাল থেকে ফিরে ঘুমাতাম। তারপর জোর করে রাতের খাবার খেতাম। রাত একটা পর্যন্ত ঘুমাতাম। কিন্তু কখনো কখনো তখন ঘুম ভেঙে যেত এবং সকাল ছয়টা পর্যন্ত আর ঘুম আসত না।’
ম্যাডিনসনের শরীর তখন এতটাই ভেঙে পড়েছিল যে স্বাভাবিক জীবন যাপনই কঠিন হয়ে পড়েছিল। তিনি বলেন, ‘সময়টা আমার জন্য খুব কঠিন ছিল। ভীষণ ক্লান্ত থাকতাম। মনে হতো ২৪ ঘণ্টাই ঘুমাতে হবে। সবচেয়ে খারাপ লাগত, বাড়ির কোনো কাজই করতে পারতাম না। এ জন্য নিজের মধ্যে অপরাধবোধ কাজ করত।’
ক্যানসার চিকিৎসা শেষে ম্যাডিনসন সর্বশেষ কেমোথেরাপির মাত্র ১০ দিন পর আবার নেটে ব্যাট হাতে ফিরেন। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে আসার পথ ছিল দীর্ঘ। ২০১৬ সালের পর তিনি অস্ট্রেলিয়া টেস্ট দলে ফিরেছেন। ৩৪ বছর বয়সে তিনি মাত্র তিনটি টেস্ট খেলেছেন। তার ক্যারিয়ারে মানসিক স্বাস্থ্য ও চোটের কারণে বিরতি ছিল। ২০১৮ সালে পেসার ঝাই রিচার্ডসনের বলে হাত ভেঙে যাওয়ার পর এক বছরের বেশি সময় প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট থেকে দূরে ছিলেন।
২০২৪-২৫ মৌসুমে ম্যাডিনসনের ব্যাটিং খারাপ ছিল। ১১ ইনিংসে মাত্র একটি ফিফটি ছিল। এরপর শরীর খারাপ হতে শুরু করে। ভেবেছিলেন, হয়তো ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। শিল্ডের শেষ রাউন্ডে বাদও পড়েন। কিন্তু তিনি থামেননি। লিস্ট এ ক্রিকেটে গত সেপ্টেম্বর নিউ সাউথ ওয়েলসের হয়ে ভিক্টোরিয়ার বিপক্ষে ১২৬ রানের ইনিংস খেলেন।
"হাসপাতাল থেকে ফিরে ঘুমাতাম। তারপর জোর করে রাতের খাবার খেতাম। রাত একটা পর্যন্ত ঘুমাতাম। কিন্তু কখনো কখনো তখন ঘুম ভেঙে যেত এবং সকাল ছয়টা পর্যন্ত আর ঘুম আসত না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: অস্ট্রেলিয়া (দক্ষিণ আফ্রিকা সফর)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নিক ম্যাডিনসন, বিয়াঙ্কা ম্যাডিনসন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২৬ রান, ১১ ইনিংসে ১ ফিফটি, ৫২.৩৭ ব্যাটিং গড়, ১০ দিন পর ফিরে আসা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!