📌 বাংলাদেশের সাবেক ক্রিকেটার ফাহিম মুনতাসির ২১ বছর পর জানতে পারলেন, জন্ম থেকেই তাঁর শরীরে একটি কিডনি কম ছিল। ৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে ফেলেছেন এক কিডনি নিয়ে
বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এক অনন্য সাফল্য অর্জন করেছেন সাবেক অফ স্পিনার ফাহিম মুনতাসির। ৪৫ বছরের জীবন যাপন করেছেন ক্রিকেটের সাথে জড়িয়ে, কিন্তু নিজের অজান্তেই এক কিডনি নিয়ে খেলেছেন তিনি। ২১ বছর পর, ৪৩ বছর বয়সে জানতে পারলেন যে জন্ম থেকেই তাঁর শরীরে একটি কিডনি কম ছিল।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন এক কিডনি নিয়ে** — ৩টি ওয়ানডে ও ৩টি টেস্ট
- 📌 **২১ বছর পর জানলেন নিজের অজানা সত্য** — জন্ম থেকেই একটি কিডনি কম ছিল
- 📌 **১৯৯৮ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে** বাংলাদেশের প্লেট চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য ছিলেন
- 📌 **২০০২ সালে সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেন** — পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক
- 📌 **৩৭টি প্রথম শ্রেণির ও ৩৩টি লিস্ট এ ম্যাচ** খেলেছেন, কোচিং ও ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন
📰 বিস্তারিত
ফাহিম মুনতাসির, যিনি ক্রিকেট বিশ্বে ‘সুমিত’ নামে পরিচিত, ১৯৯৮ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্লেট চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য ছিলেন। পরের বছর তিনি যুব দলের নেতৃত্ব দেন। ১৯৯৮ সালের মার্চেই বিসিবি একাদশের হয়ে ভারত সফরে লিস্ট এ অভিষেক হয় তার। পরের বছর ঢাকায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের ‘এ’ দলের বিপক্ষে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে ফাহিমের। ওই ম্যাচের প্রথম ইনিংসে তিনি ২৬ ওভার বোলিং করে ১১৬ রানে ৪ উইকেট নেন।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় ২০০১ সালের নভেম্বরে চট্টগ্রামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে। ওই সিরিজেই আরেকটি ওয়ানডে খেলার পর তিনি ২০০২ সালের সেপ্টেম্বরে শ্রীলঙ্কায় চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে খেলেন। বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টে খেলেননি, কিন্তু ২০০০ সালের নভেম্বরে ভারতের বিপক্ষে সেই টেস্টের স্কোয়াডে ছিলেন। তাঁর টেস্ট অভিষেক ঘটে ২০০২ সালের জানুয়ারিতে ঢাকায় পাকিস্তানের বিপক্ষে।
২০২৩ সালে দিল্লিতে শারীরিক পরীক্ষা করাতে গিয়ে ফাহিম জানতে পারেন যে, জন্ম থেকেই তাঁর শরীরে একটি কিডনি কম ছিল। আলট্রাসাউন্ড পরীক্ষার সময় চিকিৎসক তাঁকে জানান যে, বাঁ পাশের কিডনি নেই। তবে চিকিৎসক বলেন, এক কিডনি নিয়ে জন্ম নেওয়া অস্বাভাবিক নয়, এমন অনেকেই সুস্থ জীবন যাপন করছেন। তবে ফাহিমের একমাত্র কিডনিতেও জরা বসতে শুরু করে, রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বেড়ে যায়।
"আলট্রাসনো করার সময় ডাক্তার আমাকে জিজ্ঞেস করছিলেন, আমার কখনো কোনো অস্ত্রোপচার হয়েছে কি না। আমি বললাম, হয়নি। উনি তখন সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, আমার কিডনি সম্ভবত জন্মগতভাবেই একটি, ডান দিকে। বাঁ দিকেরটা নেই। পরে রিপোর্টেও তাই আসে।"
বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রধান চিকিৎসক ডা. দেবাশীষ চৌধুরী বলেছেন, এক কিডনি থাকলেও খেলা যাবে না এমন কোনো নিয়ম নেই। তবে শারীরিক সংঘর্ষবিহীন খেলা যেমন ক্রিকেট, সেখানে এটি সরাসরি সমস্যা নয়। তবে মানবদেহে দুটি অঙ্গ থাকলেও একটি অকেজো হলে বা না থাকলে, খেলাধুলায় নিরুৎসাহিত হতে পারে। কারণ, একমাত্র অঙ্গটি আঘাতপ্রাপ্ত হলে জীবনের ওপর হুমকি হতে পারে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, চট্টগ্রাম, দিল্লি, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফাহিম মুনতাসির (সাবেক ক্রিকেটার)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬ (আন্তর্জাতিক ম্যাচ), ২১ (বছর), ৪৫ (বছর), ১৯৯৮ (বিশ্বকাপ), ২৬ (ওভার), ১১৬ (রান), ৪ (উইকেট), ৩৭ (প্রথম শ্রেণির ম্যাচ), ৩৩ (লিস্ট এ ম্যাচ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!