📌 সিরাজগঞ্জের যমুনার চরে আধুনিক যানবাহনের অভাবে জীবিকা নির্বাহে অবিচ্ছেদ্য হয়ে আছে ঘোড়ার গাড়ি। চরবাসীরা ঘোড়ার গাড়ি ছাড়া পণ্য পরিবহন ও দৈনন্দিন জীবন পরিচালনা করতে পারছেন না
যমুনার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে আধুনিকতার ছোঁয়া পৌঁছাতে পারেনি। সেখানে জীবিকা নির্বাহের একমাত্র মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার গাড়ি। সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন চরাঞ্চলে বালুময় পথে ঘোড়ার গাড়ি ছাড়া যাত্রী ও পণ্য পরিবহন সম্ভব নয়। বর্ষাকালে নৌকা এবং শুকনো মৌসুমে ঘোড়ার গাড়িই হয়ে উঠেছে চরবাসীদের জীবনের অপরিহার্য অংশ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সিরাজগঞ্জের কাজিপুর, চৌহালী, শাহজাদপুর ও সদর উপজেলার চরাঞ্চলে ঘোড়ার গাড়িই প্রধান পণ্য পরিবহন মাধ্যম
- 📌 ঘোড়ার গাড়ি চালানোর মাধ্যমে দৈনন্দিন আয় হয় ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, যার মধ্যে ২০০-২৫০ টাকা খরচ হয় ঘোড়ার খাবারে
- 📌 চরবাসীরা ঘোড়ার গাড়ি ছাড়া মাথায় বোঝা নিয়ে চরে আসতে বাধ্য হন
- 📌 সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান জামাত আলি মুন্সি বলেছেন, নদী তীরবর্তী বালুময় রাস্তায় চলাচলের একমাত্র মাধ্যম ঘোড়ার গাড়ি
📰 বিস্তারিত
যমুনার চরাঞ্চলে আধুনিক যানবাহনের অভাবে ঘোড়ার গাড়ি জীবিকা নির্বাহের একমাত্র মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। সিরাজগঞ্জের কাজিপুর, চৌহালী, শাহজাদপুর ও সদর উপজেলার চরাঞ্চলে ঘোড়ার গাড়ি ছাড়া পণ্য পরিবহন সম্ভব নয়। শহর থেকে নৌকায় করে আনা মালামাল ঘোড়ার গাড়িতে তুলে চরবাসীরা বালুর রাস্তা পেরিয়ে যাত্রা শুরু করেন।
৭০ বছর বয়সী ঘোড়ার গাড়িচালক আনছার আলী বলেন, “আমরা চরের কৃষক। ঘোড়ার গাড়ি ছাড়া ফসল ঘরে তোলা থেকে বাজারে পৌঁছানো সম্ভব নয়।” মেছড়া গ্রামের হোসেন আলী জানান, “ফসল ঘরে তোলা বা হাটে পণ্য নিয়ে যাওয়া — ঘোড়ার গাড়ি ছাড়া কোনো উপায় নেই।” নদীপারের মুদি দোকানদার শমশের আলী বলেন, “ঘোড়ার গাড়িই আমাদের দোকানের মালামাল পরিবহনের একমাত্র ভরসা।”
আকনা দীঘি চরের কৃষক ফরিদ উদ্দিন বলেন, “আমরা চরের মানুষ, কিন্তু শহরে থাকি। চরে আসার সময় ঘোড়ার গাড়ি ছাড়া চলে না। ঘোড়ার গাড়ি না পেলে মাথায় বোঝা নিয়ে আসতে হয়।” চৌহালীর তেগুরি চরের আব্দুল আলিম জানান, “আমরা প্রায় এক যুগ ধরে ঘোড়ার গাড়ি চালাচ্ছি। প্রতিদিনের আয় ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, যার মধ্যে ২০০-২৫০ টাকা খরচ হয় ঘোড়ার খাবারে। এই আয়েই চলে আমাদের সংসার।”
"নদী তীরবর্তী বালুময় রাস্তাগুলোতে চলাচল বা পণ্য পরিবহনের জন্য একমাত্র যানবাহন ঘোড়ার গাড়ি আজও চলছে।"
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও কাওয়াকোলা ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান জামাত আলি মুন্সি বলেন, “আধুনিকতার জোয়ারে গ্রামীণ ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু যমুনার চরে ঘোড়ার গাড়ি যেন সময়ের সাক্ষী হয়ে টিকে আছে। সূর্য ডোবে, নৌকার পাল নিস্তব্ধ হয়ে যায় — কিন্তু বালুর রাস্তা ধরে তখনও ছুটে চলে একেকটি ঘোড়ার গাড়ি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সিরাজগঞ্জের কাজিপুর, চৌহালী, শাহজাদপুর, সদর উপজেলা, যমুনার চরাঞ্চল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আনছার আলী, হোসেন আলী, ফরিদ উদ্দিন, শমশের আলী, আব্দুল আলিম, জামাত আলি মুন্সি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮০০-৯০০ টাকা (দৈনন্দিন আয়), ২০০-২৫০ টাকা (ঘোড়ার খরচ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!