📅 ৩ অক্টোবর ২০২৬, ৬:২৩ পূর্বাহ্ণ এআই প্রযুক্তিতে যাচাই করা সর্বশেষ সঠিক বাংলা সংবাদ।
⚡ শেষ মুহূর্ত

যশোরের অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে এক দশকে ৭৫ জনের মৃত্যু: দুর্ঘটনার পেছনে সরকারি দপ্তরের সমন্বয়হীনতা

যশোরের অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে এক দশকে ৭৫ জনের মৃত্যু: দুর্ঘটনার পেছনে সরকারি দপ্তরের সমন্বয়হীনতা

📷 ছবি: Ajker Patrika

📡 নিউজ সোর্সগুলি:
🔗 আজকের পত্রিকা ↗ ⚠ একক সোর্স
ℹ️ এই প্রতিবেদনটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দ্বারা একাধিক সংবাদমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে পুনর্লিখিত। মূল নিউজ সোর্সগুলি নিচে উল্লেখ করা হয়েছে।

📌 যশোরের বিভিন্ন রেলক্রসিংয়ে এক দশকে ৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। অবৈধ ও অরক্ষিত ক্রসিং, গেটম্যানের অভাব এবং সরকারি দপ্তরের সমন্বয়হীনতার কারণে ঘটে চলেছে এই দুর্ঘটনা। স্থানীয়রা দাবি করছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আরো প্রাণহানি ঘটবে

যশোরের রেলক্রসিংয়ে এক দশকে ৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। অবৈধ ও অরক্ষিত ক্রসিং, গেটম্যানের অভাব এবং সরকারি দপ্তরের সমন্বয়হীনতার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে। স্থানীয়রা দাবি করছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আরো প্রাণহানি ঘটবে।

🔴 মূল পয়েন্ট

  • 📌 গত ২৬ সেপ্টেম্বর যশোর সদরের কৃষ্ণবাটি রেল ক্রসিংয়ে ট্রেন ইজিবাইককে চাপা দেয়; মারা যান চালক আজিজুর রহমান ও যাত্রী এরশাদ আলী
  • 📌 গত ১০ মে অভয়নগর ভাঙ্গাগেট ক্রসিংয়ে ট্রেন কয়লাবোঝাই ট্রাককে ধাক্কা দিয়ে নিয়ে যায়; মারা যান চালক মনোয়ার হোসেন, পঙ্গুত্ববরণ করেন সহকারী রায়হান
  • 📌 যশোর রেলওয়ে স্টেশন থেকে যশোর-বেনাপোল, যশোর-কোটচাঁদপুর ও যশোর-খুলনা রুটে মোট ১৮৩টি রেলক্রসিং রয়েছে; এর মধ্যে ১০১টি অবৈধ এবং ৩৮টি বৈধ ক্রসিং গেটম্যানহীন
  • 📌 এক দশকে যশোরের এই অঞ্চলে ৪৫টি দুর্ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে ৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে
  • 📌 স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা এবং সড়ক নির্মাণের কারণে বাড়ছে অবৈধ ক্রসিং

📰 বিস্তারিত

যশোরের রেলক্রসিংয়ে এক দশকে ৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই দুর্ঘটনাগুলোতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে স্থানীয় যাত্রী ও রেলপথ পারাপারকারী। গত ২৬ সেপ্টেম্বর যশোর সদরের কৃষ্ণবাটি রেল ক্রসিংয়ে একটি ট্রেন ইজিবাইককে চাপা দেয়। ঘটনাস্থলেই মারা যান ইজিবাইকচালক আজিজুর রহমান ও যাত্রী এরশাদ আলী। এছাড়া গত ১০ মে অভয়নগর ভাঙ্গাগেট এলাকায় একটি ক্রসিংয়ে ট্রেন কয়লাবোঝাই ট্রাককে ধাক্কা দিয়ে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে নিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান চালক মনোয়ার হোসেন এবং পঙ্গুত্ববরণ করেন চালকের সহকারী রায়হান।

বাংলাদেশ রেলওয়ে পাকশী বিভাগের তথ্যমতে, যশোর রেলওয়ে স্টেশন থেকে যশোর-বেনাপোল, যশোর-কোটচাঁদপুর ও যশোর-খুলনা রুটের যশোর অংশে মোট ১৮৩টি রেলক্রসিং রয়েছে। এর মধ্যে ১০১টি অবৈধ এবং বৈধ ৮২টি ক্রসিংয়ের মধ্যে ৩৮টি গেটম্যানহীন। ফলে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটছে। এক দশকে এই অঞ্চলে দুর্ঘটনা ঘটেছে ৪৫টি, যার ফলে প্রাণ হারিয়েছে ৭৫ জন।

দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে নামকাওয়াস্তে সতর্কতা সাইনবোর্ড বসানো হলেও বেশির ভাগ বোর্ডের লেখা অস্পষ্ট এবং নাজুক। অরক্ষিত ক্রসিংয়ে গেটম্যান না থাকায় মাঝেমধ্যে ঘটছে দুর্ঘটনা। স্থানীয়দের অভিযোগ, রেল কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, সড়ক নির্মাণের ফলে বাড়ছে অনুমোদনহীন ক্রসিং। এ জন্য স্থানীয়দের পাশাপাশি সড়ক নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তাদেরও দায় দিচ্ছে রেলের কর্মকর্তারা। তবে এলজিইডিও দায় এড়িয়ে বলছে, তাদের অধীনে সড়কগুলোর রেলক্রসিংগুলোকে গেটম্যান দিতে রেল বিভাগকে অবহিত করেও কাজে আসেনি।

বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক রুহুল আমিন বলেন, “গভর্নমেন্টের বিভিন্ন দপ্তরগুলোর মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই। ফলে দিন দিন বাড়ছে অবৈধ এসব ক্রসিং। এসব ক্রসিং একেকটা মৃত্যুর ফাঁদ। দ্রুত এসব ক্রসিং বন্ধ করা কিংবা যাতায়াত নিরাপদ করতে উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি মানুষেরও সচেতন হতে হবে।”

"রেললাইন পার হতে গিয়ে এখানে প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটেই চলছে। স্থানটি খুবই দুর্ঘটনাপ্রবণ।" — সাহেব আলী, স্থানীয় বাসিন্দা

যশোর-বেনাপোল রেললাইনে ২৮টি রেলক্রসিং রয়েছে, এর মধ্যে চারটি স্থানের বাদে বাকি ২৪টি স্থানে গেটবার দেখা যায়নি। ঝুঁকি নিয়ে রেললাইন পারাপার হচ্ছে পথচারীরা। যশোর-কোটচাঁদপুর রুটে খড়কিতে আধা কিলোমিটার ভেতরে সাতটি লেভেল ক্রসিং রয়েছে, রেলওয়ের ভাষায় সবগুলো অবৈধ। স্থানীয়রা দাবি করছেন, এলজিইডি সড়কগুলো নির্মাণের সময় এসব ক্রসিংয়ের সৃষ্টি করেছে। যশোর পৌরসভার দক্ষিণ অংশের অনেক মানুষের শহরে প্রবেশদ্বার হলো খড়কি ধোপাপাড়ার সড়কটি, যেখানে এই ক্রসিংয়ে নেই কোনো গেটম্যান। সতর্কতা সাইনবোর্ড থাকলেও বোর্ডের লেখা অস্পষ্ট এবং নাজুক।

তপপিডাঙ্গা এলাকার ভ্যানচালক আলম জানান, “এই গেটে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। গেটম্যান না থাকায় আমরা একজন দাঁড়িয়ে গেটম্যানের দায়িত্ব পালন করি। যখন কেউ থাকে না, তখন ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটেই।” রেলের যশোর অঞ্চলের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী চাঁদ আহমেদ বলেন, “অবৈধ গেটগুলো ব্যবহারের কারণে ঝুঁকি বাড়ছে। কোথাও কোথাও এসব ঝুঁকিপূর্ণ ক্রসিং সৃষ্টি করেছে পৌরসভা, এলজিইডি কিংবা স্থানীয়রা। সড়ক নির্মাণের আগে ও পরে আমরা এসব দপ্তরে চিঠি দিলেও বাড়ছে ঝুঁকিপূর্ণ পথ। এগুলোর বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

যশোর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, “২০১৮ সালে গেটম্যান দিতে রেল বিভাগকে অবহিত করা হয়েছিল। সেই চিঠির এখন কী অবস্থা, সেটা আমার জানা নেই।”

📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ

  • 📍 স্থান: যশোর সদর, কৃষ্ণবাটি, অভয়নগর ভাঙ্গাগেট, খড়কি ধোপাপাড়া, যশোর-বেনাপোল, যশোর-কোটচাঁদপুর, যশোর-খুলনা রেলপথ
  • 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আজিজুর রহমান, এরশাদ আলী, মনোয়ার হোসেন, সহকারী রায়হান, রুহুল আমিন, সাহেব আলী, আলম, চাঁদ আহমেদ, মাহবুবুর রহমান
  • 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭৫ জন মৃত্যু, ৪৫টি দুর্ঘটনা, ১৮৩টি রেলক্রসিং, ১০১টি অবৈধ ক্রসিং, ৩৮টি গেটম্যানহীন ক্রসিং, ২৮টি ক্রসিং (যশোর-বেনাপোল রুট), ২৪টি ক্রসিং (গেটম্যানহীন)

📡 মূল নিউজ সোর্সসমূহ

এই প্রতিবেদনটি নিচের সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। মূল সংবাদ পড়তে নিচের লিংকে ক্লিক করুন:

📤 শেয়ার করুন: 📘 Facebook 💬 WhatsApp 𝕏 Twitter 💼 LinkedIn ✈️ Telegram

💬 মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ করা হবে। ইমেইল প্রকাশিত হবে না।
🤖